০৯:৪৬ এম
ফ্রান্সে বিদ্যমান স্কুল সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে ব্যাপক সহিংসতা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ফরাসি সরকার এই পরিস্থিতিকে ‘সহিংসতার বিস্তার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিক্ষোভে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাজধানী প্যারিসে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ভবন ও গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। লুটপাটের পাশাপাশি সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেলে প্যারিসের প্রধান মিছিলটি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারী একদল তরুণ বিবিসিকে জানান, তারা শান্তিকামী এবং পরিবর্তন আনতে চান।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল রাস্তায় আগুন জ্বালায় এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কয়েকটি দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
লিয়ঁ শহরের পর্যটন দফতরের ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন মেয়র গ্রেগরি দুসে। তিনি জানান, ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনায় তাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। স্থানীয় পুলিশের দাবি, সহিংস ব্যক্তিরা দমকলকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা প্রদান করেন।
এদিকে লিমোজ শহরের টাউন হলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনটির ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে স্পষ্ট বার্তা দিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সাঁ-এতিয়েনে গ্রেনেড বিস্ফোরণের ফলে এক তরুণের হাত উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র রেজি হুয়ানিকো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এমন মর্মান্তিক ঘটনা কখনোই ঘটানো উচিত ছিল না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন