০২:২০ এম
স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও,
মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত প্রায় ২ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এখনো মে মাসের বেতন পাননি।
অতীতে প্রতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পেয়েও,
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: এমপি নুরুল আমিন
এবার মাস পেরোতে চললেও তাঁদের বেতন হয়নি। এর ফলে অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই শিক্ষক-কর্মচারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, অর্থসংকটের কারণে এ শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না।
চলতি অর্থবছরে তাঁরা আপাতত বেতন পাবেন না বলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে।
আসন্ন নতুন অর্থবছরের জুলাই মাসের শুরুতে একসঙ্গে মে ও জুনের বেতন পাবেন।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন,
মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য,
বিলম্ব হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরাইল থানায় গিয়ে ওসির ওপর চটলেন এমপি রুমিন ফারহানা
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে,
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রতি মাসে প্রয়োজন ৫১১ কোটি টাকার।
তবুও ফান্ডে রয়েছে মাত্র ৮৬ কোটি টাকা।
অর্থসংকটের কারণে মে মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: সরকার নাগরিকদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ: সিপিবি
ফান্ডে অর্থসংকটের কারণে বেতন পাননি,
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
সূত্র জানিয়েছে, অন্য মাসের মতো,
মে মাসের শেষ দিকে সেই মাসের বেতন-ভাতার কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং লিডার ‘কেন্তা ফিরোজ’ গ্রেপ্তার
যা জুনের শুরুতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থছাড় পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তা যথাসময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।
ঈদের ছুটি শেষে চলতি জুনের শুরুতে,
গত মাসের (মে) বেতনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও ফান্ডে টাকা না থাকার কারণে,
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ অনুমোদন দেয়নি।
মাদ্রাসাশিক্ষকরা এখনো মে মাসের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য,
জামায়াত নেতা মো. নুরুল আমীন সংসদে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়,
মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার সমস্যাটি,
দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এছাড়া আরও বলা হয়, দেশের আট বিভাগে,
আটটি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ইএফটির মাধ্যমে,
বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল।
ফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে,
অন্যসব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে,
ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে।
সেজন্য বেতন-ভাতা পরিশোধে কয়েক দিন বিলম্ব হচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,
চলমান অর্থবছরে বাজেট সংকট থাকার কারণে,
মে মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি এই শিক্ষক-কর্মচারীদের।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির সত্যতার সঙ্গে,
যথেষ্ট সংযোগ পাওয়া যায়নি।
একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
চলতি অর্থবছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন খাতে,
৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।
এরপর সম্পূরক বাজেটের ১১১ কোটি টাকা চাওয়া হলেও,
বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা,
যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
সূত্র আরও জানায়,
মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন-ভাতার অর্থ ছাড় করতে,
প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার জন্য অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর ইতোমধ্যে,
একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে।
তবে এখনও এ অর্থ পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. উবায়দুল হকের সঙ্গে,
শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না পাওয়ার ব্যাপারে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও,
এটি সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল দেওয়া হলেও,
তিনি রিসিভ করেননি। দপ্তরে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন