০৮:৪৯ পি.এম
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) নীতিগত সহায়তা চেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকের সময় বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর নেতারা বৈঠকে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি শিল্পের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: লক-ইন শিথিলে শেয়ারের দামে কারসাজির আশঙ্কা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হতে পারে
তারা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, তারা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সরকারি সেবাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
অন্যদিকে, কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ, গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য খাসজমি বরাদ্দ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) বাস্তবায়ন সহজ করা এবং বেনাপোল স্থলবন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনী ‘বাটেক্সপো-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া যায়।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্কুলার অর্থনীতি নীতির আলোকে পোশাক খাতে শতভাগ বস্ত্রবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বিজিএমইএ নেতারা টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে সংগঠনটির চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীদের লাগেজ হারানোর অভিযোগ দাখিলের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি শিল্পের সুরক্ষা, সচল কারখানার স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, এবং নীতিগত সহায়তা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
বিজিএমইএর উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন, যার মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান রয়েছেন। বৈঠকে বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন