প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আগামী তিন মাস বন্যাদুর্গত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় করা যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি জেলা এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) গত ১৩ জুলাই জারি করা নির্দেশনার আলোকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য তিন মাসের কিস্তি আদায় সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হবে। এ সময় কোনো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহীতাদের ওপর কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।
সভায় আরও বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কিস্তি আদায় বা ঋণগ্রহীতাদের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ওষুধ প্রদান এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর কোনো ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। এমআরএর নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বন্যার কারণে আয়-রোজগার হারানো অনেক পরিবারের জন্য তিন মাসের কিস্তি স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে। একই সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন