জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৯:১৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী যাত্রী ছাউনিতে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার চরজব্বর থানা মোড়ের যাত্রী ছাউনিতে ওই নারী একটি সুস্থ পুত্রসন্তান প্রসব করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। সন্ধ্যার দিকে সুবর্ণচর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাদের যাত্রী ছাউনি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২-৩ বছর ধরে উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের ছমিরহাট এলাকার ওই মানসিক প্রতিবন্ধী নারী (৩০) সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ ও চরজব্বর থানা সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। শুক্রবার বিকেলে ওই নারী চরজব্বর থানা মোড়ের যাত্রী ছাউনিতে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিছুক্ষণ পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাদের যাত্রী ছাউনি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয়দের ধারণা, অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি তার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করায় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। প্রসূতি ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছেন। মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী নিজের ঠিকানা বা পরিচয় বলতে পারছেন না। জন্মের পর স্থানীয় এক নারী নবজাতককে দত্তক নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসী শিশুটির পিতৃপরিচয় শনাক্তে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, বিকেলে যাত্রী ছাউনিতে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চরজব্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাল ভোর সাড়ে ৬টায় হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল- এটি হয়তো সকলেরই জানা। মরক্কোর সঙ্গে আগের ম্যাচে ড্র করার জন্য এই ম্যাচের আগে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। দেখা যাক, ব্রাজিল কি পারবে! হাইতি কেমন দল, তাদের র্যাঙ্কিং কত, এবং ব্রাজিলের মুখোমুখি দেখায় অতীত ইতিহাস কেমন?
ব্রাজিল ও হাইতির মধ্যে অতীতের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। এখন পর্যন্ত দুদলের মধ্যে কেবল ৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ৩টি ম্যাচের পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে স্বস্তি দিতে পারে। হারার তো কথা নয়, কারণ ব্রাজিল একটি ম্যাচেও ড্র করেনি। তারা একটি গোল হজমের বিপরীতে ১৭টি গোল করেছে। সবশেষ ২০১৬ সালে মুখোমুখি হওয়ার সময় ব্রাজিল ৭-১ গোলে জয়লাভ করেছিল।
ফিলাডেলফিয়ায় এই ম্যাচের ক্ষেত্রে দুদলের বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এই ম্যাচ রোমাঞ্চে একটি বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। কারণ ১৯৭৪ এবং ২০০৪ সালের দুটি ম্যাচই ফিফা প্রীতি ম্যাচ ছিল। তবে এবারই বিশ্বের বড় আসরে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
হাইতির ফিফা র্যাঙ্কিং ৮৫। যা ২০১৬ সালে ব্রাজিল ৭ গোল দেওয়ার সময়ের চেয়ে খারাপ। ওই সময় হাইতি ছিল র্যাঙ্কিংয়ে ৭৪ নম্বরে, যেখানে ব্রাজিল ছিল সাতে, বর্তমানে ব্রাজিল ৫ নম্বরে রয়েছে।
হাইতি স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। স্কটল্যান্ডের র্যাঙ্কিং ৪২। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় দলের শক্তিমত্তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাওয়া সম্ভব। তাছাড়া ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় হাইতি ৫টি ম্যাচের মধ্যে শুধুমাত্র একটি জয় পেয়েছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয়টি ছিল ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে।
হাইতি কেমন দলই হোক, ব্রাজিল তাদের খেলার উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে হাইতির বিরুদ্ধে দলে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কিছু পরিবর্তন করব। দলের পারফরম্যান্স আরও ভালো হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সামর্থ্য আরও বেশি এবং সেটাই মাঠে দেখাতে হবে।’
প্রথম ম্যাচে রাফিনিয়া, ক্যাসেমিরোসহ কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলার নিজেদের সেরা খেলাটি উপহার দিতে পারেননি। তবে ব্রাজিলের কোচ তাদের ওপর আস্থা হারাননি। বরং তিনি মনে করেন, প্রথম ম্যাচের চাপ খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের চার নেতা তাদের দলের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
এই পদত্যাগের ঘোষণা তারা পৃথক সংবাদ সম্মেলনে করেছেন। সংবাদ সম্মেলনটি শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে তাদের নিজ নিজ বাসভবনে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে জানান।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মো. কাইয়ুম শেখ, মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. বাপ্পী মুন্সি, ঐ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নওশের সরদার এবং উজানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহানূর শেখ শাহিন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জানিয়েছেন যে, এর আগেই তারা নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগপত্র সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বরাবর জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মো. কাইয়ুম শেখ ৫ জুন ২০২৫, মো. বাপ্পী মুন্সি ৪ জানুয়ারি ২০২৬, নওশের সরদার ১১ মার্চ ২০২৬ এবং মো. শাহানূর শেখ শাহিন পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।
তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, শুক্রবার (১৯ জুন) সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সাংগঠনিক সম্পর্কের ইতি টানলেন। তারা আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে দলটির সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকবে না।
তাদের বক্তব্য ছিল, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় তারা সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন। রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
তবে এ ব্যাপারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি এতিমখানার শিশুদের খাদ্যসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তিতে সরকার ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরে এই অর্থ দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি বেসরকারি এতিমখানায় অবস্থানরত ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সম্প্রতি এসব বিষয় জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এবার প্রাপ্ত এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অর্থ সমাজসেবা অফিসার এবং উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুকূলে ন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এতিমখানাগুলোর মাঝে অর্থ বিতরণ করতে সক্ষম হন।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে, চলতি অর্থবছরে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা মঞ্জুর করার ফলে পুরো বরাদ্দ অর্থ কার্যত বিতরণের আওতায় চলে এসেছে।
বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে বসবাসরত ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ৬ মাসের অনুদান দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিটি শিশুর জন্য মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত খাদ্যদ্রব্য ক্রয় ও শিশুদের মৌলিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটানোর খাতে ব্যয় করা হবে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ছাড় ও ব্যবহারের বিষয়টি তদারকির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ