ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৫:৩৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয়ের অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় চোরাই তামার তার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং রেজাকুল ইসলাম (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা চুরি করা তামার তার ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকার দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম বিক্রি করেছেন।
সিটিটিসি জানায়, সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির একটি স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
ঘটনার গুরুত্ত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ এ নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায় রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি ওই তার চুরি করেন। এবং পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করে দেন।
রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনের ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং পরে তার দেখানো মতে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সিটিটিসি ধারণা করছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জন্য এটি গর্বের একটি খবর। বাংলাদেশের অভিজাত বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব এবার যুক্ত হয়েছেন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই বিষয়টি প্রকাশ করে ফিফা। পরে সেই পোস্টটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
সঞ্জয় জানান, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ। তিনি বলেন, সান হোসেতে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠার সময় তিনি এমন গান তৈরির স্বপ্ন দেখতেন, যা একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর একটিতে স্থান পাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সঞ্জয় লেখেন, তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, তিনি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। তাঁর তৈরি একটি গান এই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবের সাউন্ডট্র্যাকের অংশ হতে যাচ্ছে, যা তাঁর জন্য একটি বিশেষ অর্জন।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে বলেন, এই অর্জন শুধু তাঁর একার নয় বরং সেই সব শিশু-কিশোরের, যারা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করে।
ফিফা বিশ্বকাপের বিশেষ এই অ্যালবামে সঞ্জয়ের গান ‘সির সির’-এ তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ ও পারফরম্যান্সে থাকছেন বলিউডের অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিম।

উল্লেখ্য, সঞ্জয়ের জন্ম বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামের লাভ লেন এলাকায়। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানেই সংগীতজীবন গড়ে তোলেন। তাঁর মা ও নানি সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁর সংগীতচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন এই শিল্পী।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন শিল্পীর ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের অফিশিয়াল অ্যালবামে স্থান পাওয়া দেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের দুই তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ক্লাব মৌসুমের শেষ অংশে খেলতে পারেননি।
তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই তারা ফিট হয়ে উঠবেন, এ বিষয়ে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তের দৃঢ় বিশ্বাস।
ইরাকের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে দি লা ফুয়েন্তে বলেন, "ক্লাবগুলোর সঙ্গে আমাদের সমন্বয় খুবই ভালো। আমরা আগে থেকেই নির্ধারিত পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণ করছি এবং সত্যি বলতে, খেলোয়াড়রা প্রতিদিনই উন্নতি করছে।"
তিনি আরো জানান, "চোটে থাকা খেলোয়াড়রা প্রত্যাশামতোই অগ্রগতি করছে। তবে তারা ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নেবে না।"
বিশেষভাবে ১৮ বছর বয়সী তারকা ইয়ামাল সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বললেন, "এখন পর্যন্ত যেমন এগোচ্ছে, সবকিছু যদি একইভাবে চলতে থাকে তাহলে ১৫ জুনের মধ্যে সে প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সে অবশ্যই খেলবে।"
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনকে অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দি লা ফুয়েন্তের মতে, "এই বিশ্বকাপ হবে ঐতিহাসিক। কারণ এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দলের সত্যিকার অর্থেই শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে।"
বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন আগামী ১৫ জুন আটলান্টায় গ্রুপ ‘এইচ’-এর প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর স্পেন ২১ জুন আটলান্টায় সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে। এরপর ২৭ জুন গুয়াদালাহারায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে উরুগুয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) তৈরি ৭০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন, বিএনএফসি বলীয়ান, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লজিস্টিক, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেনটি বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, নৌবাহিনী ও ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চলমান আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনাল চাহিদা মেনে নিয়েই নৌবাহিনী পরিচালিত ডিইডব্লিউতে দেশীয় প্রযুক্তিতে ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি বলীয়ান নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল।
গত ২০২৪ সালের ৩০ জুন কিল-লেয়িং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রেনটির নির্মাণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ১৫ মিটার প্রস্থ এবং ৩ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট ফ্লোটিং ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম।
৭০ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যাটফর্মটি জেটি এবং সমুদ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে।
এছাড়া, ভারী যন্ত্রপাতি, যান্ত্রিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন নৌ-উপকরণ উত্তোলন, স্থানান্তর এবং প্রতিস্থাপনের মতো জটিল কারিগরি কার্যক্রম অধিক দক্ষতা ও নিরাপত্তার সাথে সম্পাদন করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
দেশীয় কারিগরি দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ করে নির্মিত এই ক্রেনটি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।
আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি বলীয়ান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটির মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা অর্জন, দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক সৃষ্টি হবে।
দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিইডব্লিউ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ