ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্মাণের ৩ মাস না যেতেই গাজীপুরে ধসে পড়ল ৯ কোটি টাকার সড়ক


নির্মাণের ৩ মাস না যেতেই গাজীপুরে ধসে পড়ল ৯ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী-দমদমা পর্যন্ত ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই হঠাৎ করে ১ কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলোও ভেঙে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের ফল।

সরেজমিনে যাতায়াতে সুফল আনতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। নির্মাণ কাজের অনুমতি পায় মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বেড়ে ২০২৬ সালে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের সূতি নদী এলাকায় চিনাশুকানিয়া গ্রামের ১ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে ধ্বসে পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নদীর তীরে বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে বিলীনের পথে রয়েছে।

এমন অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙা অংশগুলোতে জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের ওই অংশটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি ১১-দলীয় জোটের

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, "মাত্র ৩ মাস হয়েছে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ অংশ ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে এখানে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার এখানে বস্তা ফেলছে। এতে সড়ক রক্ষা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।"

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, "সড়ক নির্মাণের পরপরই হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিরাট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণের আগে নদীর তীর বালু মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি বালু ঠিকমতো রোলিং না করার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। এখানে কর্তৃপক্ষ সঠিক তদারকি করেনি।"

গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, "কাজের শুরুতে আমরা প্রতিবাদ করি। ব্লকগুলো ভিটবালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। যার কারণে সব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে। ব্লকগুলো নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে সেখানকার ঠিকাদারের লোকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। যшен অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস করেননি।"

অপর দমদমা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, "এইতো কয়েক মাস হলো সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলো। পাঁচ বছর পর কাজ শেষ হলেও হঠাৎ করে দেবে যাচ্ছে সড়কটি। ভালো কাজ হলে এত দ্রুত সড়কটি দেবে যাওয়ার কথা নয়। সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।"

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, "নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে, ততবার ঠিক করে দেবো। তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়?"

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানিয়েছেন, "সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠিয়ে পরিদর্শন করিয়েছি। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকায় সড়ক মেরামত করা হবে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


দোহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে দোহার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই কর্মসূচিটি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের মধ্যে অনেকের বাড়িতে কোনো উচ্চ বিদ্যুৎ খরচকারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেমন এসি, ফ্রিজ না থাকলেও অস্বাভাবিক পরিমাণে বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তারা ‘ভুতুড়ে বিল’ এবং গ্রাহক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংশোধনের দাবি জানান।

প্রতিবাদকারীরা দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম বন্ধ করতে, অতিরিক্ত বিল সংশোধনে ব্যবস্থা নিতে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানায়। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন এবং নিরাপত্তার জন্য পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের পদত্যাগেরও দাবি করেছেন।

একপর্যায়ে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ফলে ঘটনাস্থলে দোহার থানা পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি সংশোধনের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। কিন্তু তারা সতর্ক করে দেন যে, যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর এটি প্রথম প্রদেশীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলো।

এ নির্বাচন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ফ্রান্সের অধীনস্থ অঞ্চলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যায়।

রোববার ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নুমিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধির মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল ফ্রান্সের সাথে নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান নির্ধারণে নতুন দফার আলোচনায় ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।

দেশটির রাজনীতিতে স্বাধীনতার প্রশ্নটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর রূপে উপস্থিত হয়েছে। রাজধানী নুমিয়ায় এএফপির একজন সাংবাদিক জানালেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০২৪ সালে ভোটাধিকার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কিত একটি প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ৫৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের নির্বাচনের একই সময়ে ছিল ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ভোটার তিনটি প্রাদেশিক পরিষদের ৭৬ জন কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

এদের মধ্যে দক্ষিণ প্রদেশের ৪০ জন, উত্তর প্রদেশের ২২ জন এবং লয়্যালটি দ্বীপপুঞ্জের ১৪ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ৫৪ জন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপপুঞ্জের কংগ্রেসের সদস্য হবেন।

এটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটির প্রধান আইনসভা এবং স্থানীয় আইন প্রণয়নের সংস্থা। পরবর্তীকালে কংগ্রেস সদস্যরা যৌথ সরকারের একটি নির্বাহী শাখায় সর্বোচ্চ ১১ জন সদস্য নির্বাচিত করবেন।

আদিবাসী কানাক জনগণের ৪৩ বছর বয়সী সেডরিক ইক্সেকো মন্তব্য করেন, 'ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমার দাদা-দাদিরা কঠোর সংগ্রাম করেছেন।'

তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন দেখতে চান। এদিকে, ৫৩ বছর বয়সী বারবারা মেলান বলেন, এই নির্বাচন দ্বীপপুঞ্জটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, 'সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যেন দেশকে স্থিতিশীল করতে পারি ও একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হই।'

নতুন আলোচনার প্রস্তুতি-

নির্বাচনের আগে স্বাধীনতাপন্থী প্রধান জোট ফ্রান্সের সাথে একটি সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে।

এটি লক্ষ্য ছিল অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

‘বুগিভাল চুক্তি’ অনুযায়ী একটি ক্যালেডোনীয় রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল।

এছাড়া ফরাসি সংবিধানে ক্যালেডোনীয় জাতীয়তার স্বীকৃতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তবে এর বিনিময়ে ভবিষ্যতে স্বাধীনতা সংক্রান্ত কোনো গণভোট আয়োজন করা হতো না।

২০১৮, ২০২০ ও ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি গণভোটেও ফ্রান্সের অংশ হিসেবে থাকা পক্ষে সাধারণভাবে ভোট এসেছে।

তবে স্বাধীনতাপন্থীরা ২০২১ সালের তৃতীয় গণভোট বর্জন করেছিল যা কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তবুও বিশেষ করে আদিবাসী মেলানেশীয় কানাক জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

গত মে মাসে পারিত একটি আইনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে জন্মগ্রহণ করা প্রায় ১০ হাজার ৫৭৫ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তাদের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি 'প্রচলিত নাগরিক মর্যাদা' বিষয়ক অধিকারী ছিলেন, যা কানাক জনগণের পরিচায়ক।

এর ফলে রোববারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা বেড়ে যায়।

১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে এতদিন ভোটার তালিকা স্থির ছিল।

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাসকারী হাজারো অনাদিবাসী বাসিন্দাকে ভোটাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটে।

এ দাঙ্গায় ১৪ জন প্রাণ হারান।

দুই বছরের বেশি সময় পরে আবারও পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফ্রান্স প্রায় দুই হাজার ৪০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করেছে।

তারা জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, আগামী মাসে নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

বছরের শেষ নাগাদ একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সবাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


ফ্রান্সে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সবাই

ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলানে (Tomblaine) এক বেসামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে বিমানে থাকা সবাই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন যাত্রী এবং ১ জন পাইলট রয়েছেন।

এএফপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে, ফ্রান্সের মেউর্থ-এ-মোজেল বিভাগের প্রিফেক্ট ইভ সেগি জানিয়েছেন, বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্লেনটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মেউর্থ-এ-মোজেল বিভাগের বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে পুলিশ অনুরোধ করেছে।

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার টম্বলেন শহরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি একটি প্যারাশুট প্রশিক্ষণ স্কুলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুর্ঘটনায় পাইলটসহ বিমানে থাকা ১০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী এবং পাঁচজন প্রশিক্ষক ছিলেন বলেও প্রশাসন জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অবদান জাতি সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানো নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, মর্যাদা এবং আয় সবই বেশি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদেরও নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

শ্রমজীবী মানুষের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের পেছনে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। একটি কারখানা, নির্মাণ প্রকল্প কিংবা কৃষি খামার— সবখানেই শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই বরাদ্দের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি তাঁর নিজ বিভাগ সিলেটের উন্নয়ন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিলেট শুধু একটি প্রশাসনিক বিভাগ নয়, বরং দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস, চা শিল্প, পর্যটন খাত এবং প্রবাসী আয়ের সঙ্গে সিলেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটের প্রবাসীরা যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, তা শুধু সিলেট নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে সিলেটের সম্ভাবনার তুলনায় আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে পর্যটন খাতে অধিক বরাদ্দ দেওয়া হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল, হাকালুকি হাওর এবং টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সিলেট অঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব পর্যটনকেন্দ্রের পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও गतিশীল হবে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মধ্য দিয়েই টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%