ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখে ১১১ বাংলাদেশি উদ্ধার, এখন মিশরে


ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখে ১১১ বাংলাদেশি উদ্ধার, এখন মিশরে

লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাবারের নৌকায় পাড়ি দিতে ছেয়েছিলেন শতাধিক বাংলাদেশি। কিন্তু তাদের স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে। তারা মৃত্যুর মুখোমুখি হন প্রচণ্ড ঝড়, উত্তাল সমুদ্র, নৌকায় পানি প্রবেশ ও ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে।

গত ১৪ই সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি নৌযান থেকে বিপদাপন্ন অবস্থায় ১১১ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। তাদেরকে পরে মিশরের পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াত বন্দরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের মধ্যে ৫৮ জন পোর্ট সাঈদ নিরাপত্তা কেন্দ্রে এবং ৫৩ জন দামিয়াত নিরাপত্তা কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ও রোববার মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং এর এক কর্মকর্তা দু’দিন ব্যাপী পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াত অবস্থান করে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি সমুদ্রযাত্রা, বিপদের মুহূর্ত এবং উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় প্রত্যেক নাগরিককে ঐ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মুটোফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা-ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

পোর্ট সাঈদে থাকা ৫৫ বাংলাদেশি জানান, তারা গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি রাবারের নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়েন। উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে প্রায় এক রাত ও এক দিন তাদের নৌযানটি চলতে থাকে। চারদিকে শুধু অন্ধকার পানি আর ভয়াবহ ঢেউ। নৌকাটি উল্টে যাবে কিংবা ডুবে যাবে—এমন আতঙ্কে সময় কাটছিল তাদের। একপর্যায়ে তারা ‘KINGSTON’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। বিপদসংকেত পেয়ে জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের উদ্ধার করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে আসা হয়।

পোর্ট সাঈদ নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি জানান, তারা অন্য একটি নৌজানে বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন তবরুক থেকে একটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে প্রবেশের পর শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। প্রায় দুই দিন তারা উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং নৌকায় ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা সাহায্যের জন্য বিপদসংকেত পাঠান। পরে ‘MSC VIRGINIA’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। জাহাজটি তিন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করে।

তবে উদ্ধার হওয়া তিন বাংলাদেশির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌকায় থাকা আরও ৩৯ জন যাত্রী ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন।

দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তারা জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর তবরুক থেকে ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সমুদ্রে প্রবেশের পরই তারা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়েন। একপর্যায়ে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে নৌকাটি দ্রুত ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যাত্রীরা আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জরুরি বিপদসংকেত পাঠাতে থাকেন। ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেদারল্যান্ডসের Wagenborg Shipping-এর ‘IJBORG’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন ২ হাজার রিঙ্গিত, উপকৃত হবেন প্রবাসীরাও

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানান, জাহাজটি যদি আরও আনুমানিক ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছাত, তাহলে নৌকায় থাকা সবাই প্রাণ হারাতে পারতেন। মৃত্যুর এত কাছে গিয়ে ফিরে আসা এসব মানুষ দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নৌকায় পানি ঢোকা, ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড ঝড় এবং উদ্ধার আসতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা—প্রতিটি মুহূর্তই ছিল তাদের কাছে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই।

অনেকেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্ধার তাদের কাছে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতো।

মিশর গন্তব্য নয়

বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং এর ঐ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াতের ১১১জন বাংলাদেশি অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বাংলাদেশি মিশরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করেননি। তারা অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্যোগে পড়েন। পরে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক উদ্ধার কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে মিশরে পৌঁছান।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে কৃষি ও নির্মাণ খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে

তিনি আরও জানান, উদ্ধারপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি, ইমিগ্রেশন সহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। খুশির খবর হলো এই ১১১জন বাংলাদেশির কায়রো টু ঢাকা টিকেট আইওএম দিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে নিরাপদে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি যাদের কাছে পাসপোর্ট ছিল তাদের বেশ কজন রোববার দেশে ফিরে গিয়েছে। বাকিদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে অচিরেই দেশে পাঠানো হবে।

স্বপ্নের ইউরোপ নাকি মৃত্যুর সমুদ্র?

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার এই ঘটনাগুলো আবারও সামনে এনেছে ভয়াবহ বাস্তবতা। নিরাপত্তাহীন রাবারের নৌকা, বৈরী আবহাওয়া, নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি মুহূর্তে উদ্ধার সহায়তা পেতে বিলম্ব—সব মিলিয়ে এ ধরনের যাত্রা যেকোনো সময় ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

দূতাবাসের মতে, মানবপাচারকারী ও অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশিদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় যুক্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ‘পানসী’র উদ্বোধন, কনসাল জেনারেল প্রশংসা করেন

ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ থেকে ১১১ বাংলাদেশির ফিরে আসা তাই শুধু একটি উদ্ধারকাহিনি নয়—এটি একই সঙ্গে একটি কঠিন সতর্কবার্তা। ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা মানুষগুলোর জন্য কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রাই যে কখনো কখনো জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে শেষ সীমারেখা হয়ে দাঁড়ায়, সেই নির্মম বাস্তবতাই যেন আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালানো প্রধান শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রী সম্মাননা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালানো প্রধান শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রী সম্মাননা

বান্দরবানের সেই প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন, যিনি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সহকর্মীদের বেতন জোগাতে ছুটির দিনে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই গুণী শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে দেশের ১০২ জন শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পছন্দের সাতজন শিক্ষকের তালিকায় বান্দরবানের থানচির তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন স্থান পান।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত বান্দরবানের অতি দুর্গম থানচির তিন্দু বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অসচ্ছল হওয়ায় তারা নিয়মিত বেতন দিতে পারত না। এর ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে চরম সংকট তৈরি হয়।

এই সংকটের সমাধানে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করতেন। নৌকা বাওয়া থেকে অর্জিত আয়ের সিংহভাগ তিনি সহকর্মী শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে ব্যয় করতেন।

গণমাধ্যমে তার এই অনন্য ত্যাগের ঘটনা উঠে আসার পর, গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের (এমপিওভুক্ত/সরকারি) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

আজকের আয়োজনে পুরস্কৃত ১০২ জন গুণী শিক্ষকের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষকদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে ট্যুরিস্ট জাহাজে ডাকাতির খবর ভিত্তিহীন: অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


সুন্দরবনে ট্যুরিস্ট জাহাজে ডাকাতির খবর ভিত্তিহীন: অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের দাবি

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে দাবি করেছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)। সংগঠনটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং প্রচারিত ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান খান পপুল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘সুন্দরবনে ট্যুরিস্ট জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। টোয়াসের নিবন্ধিত কোনো পর্যটকবাহী নৌযানে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। বন বিভাগও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শাহ জামান খান আরও বলেন, আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সুন্দরবনের পর্যটক ও পর্যটন খাত নিরাপদ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও নিরাপদ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে ভিত্তিহীন সংবাদ দ্রুত প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য ও সংবাদসূত্র যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টোয়াসের কার্যকরী সভাপতি মো. আল আমিন লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদী ইসলাম রকি, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবীর ইমতিয়াজ, দপ্তর সম্পাদক কাজী মনজুর উল আলম, সদস্য মো. ইমাদুল হাওলাদার ও সদস্য সৈয়দ সাহরিয়ার তাকিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে সুন্দরবনের কটকা এলাকায় পর্যটনবাহী জাহাজে দস্যুদের হামলার চেষ্টা হয়েছে—এমন শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। ওই সংবাদকে মিথ্যা দাবি করে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টোয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান জানালো আইপিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান জানালো আইপিডি

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে আবাসনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে, যা শুধুমাত্র বাজার ও বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬ বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি করেছে।

আজ সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে একটি বিবৃতিতে আইপিডি এই বক্তব্য তুলে ধরে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের থিম হচ্ছে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। যদিও জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬-এ সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে, তবে এর বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের কার্যকর কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

আইপিডি মনে করে, বাংলাদেশের আবাসন সংকট কেবল ঢাকার সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় নগর ও স্থানিক পরিকল্পনার সংকট। আবাসন বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ অধিকাংশ পৌর এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন কাঠামো গড়ে না ওঠার ফলে শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্প ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের সুযোগ না পেয়ে বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছেন। আইপিডি উল্লেখ করেছে যে, বস্তি উচ্ছেদ করে আবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব নয় এবং সাশ্রয়ী আবাসনের জোগান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আইপিডির সুপারিশে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জমি অথবা নির্মিত ফ্ল্যাট সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সঙ্গে, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভূমির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিডি বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ না করে সেখানে আলো-বাতাস, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করে মানোন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি জমি ও নীতিগত সুবিধা এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সমন্বয়ে পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ কমিয়ে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরকে ভৌগোলিক সুবিধা অনুযায়ী শিল্প ও আবাসনের সমন্বিত ‘গ্রোথ সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুযোগ তৈরি করতে ‘জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল’ গঠন, শিল্পাঞ্চল ও বড় শহরের শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণ এবং সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের সুপারিশ করেছে আইপিডি।

আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বিবৃতিতে বলেন, "শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নীতি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের আবাসন সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় শহর থেকে প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সুষম অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও সাশ্রয়ী আবাসন ছড়িয়ে দিতে হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে।" পাশাপাশি, ঢাকার স্থানিক ও জনসংখ্যাগত বৃদ্ধির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় গতি আনতে পাকিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় গতি আনতে পাকিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা জোরদার করার উদ্দেশ্যে এই সফর করছেন। নিউইয়র্ক থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর সময় তিনি পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

সফরের সময় মহাসচিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতি-নির্ধারকদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তিনি ইসলামাবাদে চলমান সংকট নিরসনে এবং বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, "সংলাপ ও আলোচনার পথ সুগম করতে দেশটির কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জাতিসংঘ সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে।" মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের পদক্ষেপের জন্য ইতিপূর্বে একটি যুদ্ধবিরতি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। हाल हीতে তা ভেঙে পড়ায় গুতেরেস শান্তিকামী আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসলামাবাদে অবস্থানকালে মহাসচিব দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA) পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তিনি ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর টেকসই পুনর্গঠন এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় পাকিস্তানের বর্তমান প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন। এছাড়া, জম্মু ও কাশ্মীরের 'লাইন অব কন্ট্রোল' (LoC) মনিটরিংয়ে নিয়োজিত জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক দল (UNMOGIP)-এর সদর দপ্তর পরিদর্শন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সফর শেষে আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে ফিরে যাবেন জাতিসংঘ প্রধান। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিব্রিবিউন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%