০৬:৫২ পি.এম
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে আবাসনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে, যা শুধুমাত্র বাজার ও বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬ বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি করেছে।
আজ সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে একটি বিবৃতিতে আইপিডি এই বক্তব্য তুলে ধরে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের থিম হচ্ছে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। যদিও জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬-এ সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে, তবে এর বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের কার্যকর কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আইপিডি মনে করে, বাংলাদেশের আবাসন সংকট কেবল ঢাকার সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় নগর ও স্থানিক পরিকল্পনার সংকট। আবাসন বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ অধিকাংশ পৌর এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন কাঠামো গড়ে না ওঠার ফলে শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্প ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের সুযোগ না পেয়ে বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছেন। আইপিডি উল্লেখ করেছে যে, বস্তি উচ্ছেদ করে আবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব নয় এবং সাশ্রয়ী আবাসনের জোগান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
আইপিডির সুপারিশে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জমি অথবা নির্মিত ফ্ল্যাট সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সঙ্গে, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভূমির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮
আইপিডি বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ না করে সেখানে আলো-বাতাস, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করে মানোন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি জমি ও নীতিগত সুবিধা এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সমন্বয়ে পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ কমিয়ে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরকে ভৌগোলিক সুবিধা অনুযায়ী শিল্প ও আবাসনের সমন্বিত ‘গ্রোথ সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুযোগ তৈরি করতে ‘জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল’ গঠন, শিল্পাঞ্চল ও বড় শহরের শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণ এবং সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের সুপারিশ করেছে আইপিডি।
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বিবৃতিতে বলেন, "শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নীতি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের আবাসন সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় শহর থেকে প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সুষম অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও সাশ্রয়ী আবাসন ছড়িয়ে দিতে হবে।"
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা
তিনি উল্লেখ করেন, "আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে।" পাশাপাশি, ঢাকার স্থানিক ও জনসংখ্যাগত বৃদ্ধির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন