ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মালয়েশিয়া নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করছে, প্রধানমন্ত্রী জানালেন নজরদারির কথা


মালয়েশিয়া নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করছে, প্রধানমন্ত্রী জানালেন নজরদারির কথা

মালয়েশিয়া সরকার দেশের সরকারি বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করবে। এ উদ্দেশ্যে সরকারি বিভাগের প্রধান সচিব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। মঙ্গলবার এই তথ্য জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি প্রশাসন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানের নাগরিকদের খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, সরকার বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরের পরিস্থিতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকি।

আরও পড়ুন: ডিজেল নেই, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও নেই ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনের কার্যপ্রণালী

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এসব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, বিদেশের সংকটও আমাদের জনগণের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এ পরিস্থিতি নিয়ে মালয়েশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠক করেছে। বৈঠকে দেশের বর্তমান প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশকে প্রস্তুত রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিন নিয়ে বিপাকে? বাতিল করতে পারবেন যেসব শর্তে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


টিন নিয়ে বিপাকে? বাতিল করতে পারবেন যেসব শর্তে

বর্তমানে অনেকের জন্য ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে টিন সনদ করলেও পরে সেটির ব্যবহার করা হয় না। তবে টিন সক্রিয় থাকার কারণে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও অন্যান্য কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা সম্ভব। কোন পরিস্থিতিতে বাতিল করা যাবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে?

ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিন হচ্ছে করদাতার জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে এই নম্বর ব্যবহৃত হয়। আয়কর নথি শনাক্তকরণ, রিটার্ন দাখিল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে টিআইএন প্রয়োজন হয়।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা অন্যান্য দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকে টিআইএন নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে টিন সক্রিয় থাকার কারণে কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

তবে টিন থাকা মানেই সকলকে একই পরিমাণ কর দিতে হবে এমন নয়। আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কোন পরিস্থিতিতে টিন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে?

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এবং আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন—

১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

২. একাধিক টিআইএন তৈরি হলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

৩. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।

৪. করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।

৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তার আবেদন বিবেচিত হতে পারে।

৬. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তার টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।

যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

টিআইএন বাতিলের আবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করতে হয়। আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে

প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের আবেদনের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থনকারী কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সরাসরি আবেদন করতে চাইলে

অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—

- টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;

- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;

- ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;

- টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি;

- সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।

কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চালকবিহীন জাহাজের বাজারে আধিপত্যের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


চালকবিহীন জাহাজের বাজারে আধিপত্যের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ও বন্দরব্যবস্থা আধুনিক করার জন্য একটি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় জাহাজ চলাচলের প্রযুক্তি চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে, তারা বিশ্ববাজারে এ ধরনের জাহাজের সর্বাধিক ক্রয়াদেশ অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়াও, বন্দরের কাজের উৎপাদনশীলতা ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই পরিকল্পনা ২৮ অক্টোবর অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রীদের যৌথ বৈঠকে ঘোষণা করা হয়, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়। পরিকল্পনার নামকরণ করা হয়েছে ‘সমুদ্র ও মৎস্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তর কৌশল’।

এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চারটি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এই খাতগুলো হলো জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম, বন্দর ও পণ্য পরিবহন, মৎস্য এবং সমুদ্রের পরিবেশ। সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি কৌশলগত উদ্যোগ এবং ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো শিল্প ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় স্বয়ংক্রিয় জাহাজের বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেওয়া। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এ বাজারের আকার ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালকবিহীন বা চতুর্থ স্তরের স্বয়ংক্রিয় জাহাজ চলাচলের মূল প্রযুক্তি তৈরি করা হবে। এরপর দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার লক্ষ্য হলো এ ধরনের জাহাজের সবচেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ পাওয়া।

দক্ষিণ কোরিয়া সমুদ্রপথে দুর্ঘটনা কমানোর জন্যও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের তথ্য ও সমুদ্রের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তার তথ্য জাহাজগুলোকে প্রদান করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্র দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানো।

বিশেষভাবে ছোট জাহাজের ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। উত্তর মেরু দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে, যা শিপিং কোম্পানি ও পণ্য পরিবহনকারীদের জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে।

বন্দর ও পণ্য পরিবহনের কাজ দ্রুততর করতে সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে বন্দরের উৎপাদনশীলতা ৩০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এ জন্য ‘ফিজিক্যাল এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে গোয়াংইয়াং বন্দরে স্বয়ংক্রিয় বন্দরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে কনটেইনার ওঠানো, নামানো ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় সফল হলে এসব প্রযুক্তি দেশের বড় বন্দরগুলোতে চালু করা হবে, যার মধ্যে বুসান বন্দরের জিনহে নিউ পোর্টও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বন্দরের কাজ আরো দ্রুত করতে ‘এজেন্টিক এআই’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে, যা নিজে থেকেই কাজের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, বন্দরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির কাজের মধ্যে সমন্বয় করবে। বুসান বন্দরের ‘পোর্ট-আই’ নামের তথ্য প্ল্যাটফর্মকে আরো উন্নত করা হবে। সমুদ্র, বন্দর ও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থার তথ্য একত্রিত করে পরিচালনার জন্য একটি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

মৎস্য খাতেও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট মাছের খামারের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায় রয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের উপযোগী মাছ চাষে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের বাজারে দামের ওঠানামা কমানোর জন্যও এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে। এআইয়ের মাধ্যমে এসব পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের পূর্বাভাস দেওয়া হবে। মাছ ও সামুদ্রিক খাবার প্রক্রিয়াজাত করার জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা পণ্যের মান ও মূল্য বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে সরকার।

সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষার কাজেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। সমুদ্রে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য নতুন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা আরো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।

এছাড়াও, সমুদ্রের ভাসমান ও অন্যান্য বর্জ্য শনাক্ত করে সংগ্রহ করার জন্য স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তৈরি করা হবে। দেশের জলসীমায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং সমুদ্রসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেও এআই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্যমন্ত্রী হোয়াং জং-উ মন্তব্য করেছেন, "সমুদ্র ও মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান এবং বিশ্ববাজারে নতুন সুযোগ তৈরিতে এআই বড় ভূমিকা রাখবে।" তিনি আরো বলেন, "স্বয়ংক্রিয় জাহাজ ও এআইনির্ভর আধুনিক বন্দরব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের গতি ও দক্ষতা অনেক বাড়ানো সম্ভব হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া অব্যাহতভাবে মানুষ হত্যা করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া অব্যাহতভাবে মানুষ হত্যা করছে

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে একটি স্কুলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সংঘটিত হামলার তথ্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং জরুরি সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য এবং চার পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।

সোমবার রাতে নিয়মিত ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রুশ বাহিনী প্রথমে গ্রামের একটি স্কুলে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। উল্লেখ্য, স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং প্রতি সোমবার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণের স্থান ছিল।

জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে স্কুলটিতে তখন কোনো ক্লাস চলছিল না। গ্রামটি আঞ্চলিক প্রধান শহর জাপোরিঝিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হতে শুরু করার পরই প্রথম দফায় বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। এরপর আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। তিনি এ ঘটনাকে ‘জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, কোমিশুভাখায় অবস্থানরত বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে মানবিক সহায়তার প্যাকেট সংগ্রহ করতে সেখানে আসেন—এটি রুশ বাহিনীর জানা থাকার কথা। মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে রাশিয়া মানুষ হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর এবং সেখান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। জেলেনস্কি বলেন, ওই উদ্যোগের পরও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইউক্রেন, কিন্তু রাশিয়া তা গ্রহণ করেনি।

এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার অংশগ্রহণ পুনর্বহালের পক্ষে ক্রীড়া আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রাপ্য নিন্দা, বিচ্ছিন্নতা ও শাস্তি—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে ফিরে আসার সুযোগ নয়। তাঁর মতে, রাশিয়ার অপরাধকে দেশটির পতাকা, জাতীয় দল কিংবা আন্তর্জাতিক বৈধতা ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জাপোরিঝিয়া সিটি কাউন্সিলের সচিব রেজিনা খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলার পর ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

হামলার এক দিন আগে ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঘোষিত ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত সমর্থন কামনা করেছে। একইসাথে, শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোকে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ কার্যকর করার পাশাপাশি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টিগুয়ায় (এইউএ) অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের (সিএফএএমএম) রিট্রিট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন হুমায়ুন কবির।

বক্তব্যের সময় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে নতুন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত সমর্থন প্রয়োজন।

১ থেকে ৪ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে (সিএইচওজিএম) বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দেশটি সফর করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%