ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী


প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

আজ বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সে বিষয়ে চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন: বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরীক্ষার ফি নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন জারি

প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’

আজ বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: জামায়াত আমির: স্থানীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি

তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে, এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

আরও পড়ুন: সড়কের উন্নয়ন কাজ তদারকিতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্ধারিত কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়নের তাগিদ পর্যটনমন্ত্রীর

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন জানিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এখানে একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের চোখে-মুখে খুশি দেখেছেন আমার মনে হয় একই জিনিস মনে হয় আমিও দেখেছি। কিন্তু তার পরেও অবশ্যই দায়িত্বের একটা চাপ অনুভব করছি। কারণ, এখানে প্রচুর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। 그래서 অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি অফিস থেকে যখন বাসায় যাচ্ছি, তখন আমার সাথে গাড়িতে যারা ছিল, তখন আমি তাদের বলছিলাম আব্বা একসময় কথা উনার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন যে দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা মানে ৪৮ ঘন্টা হতো তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘আব্বার মতো আমি ওই দিন বলছিলাম যে, দিনটা মানে কখন অফিসে ঢুকছি এবং কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, একটু বুঝতেই পারছি না। দম ফেলানোর টাইম পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয় আসলে দিন ২৪ ঘন্টা না হয়ে যদি ৪৮ ঘন্টা হতো তাহলে একটু ভালো হতো।’

আরও পড়ুন: ‘জামায়াত সমর্থন না পেলে ৯১ সালে বিএনপির রাজনীতি শেষ হয়ে যেতে পারতো’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার জন্য এখনো এক্সরে করলে হয়ত দেখা যাবে আমার পিঠের হাড্ডিটা এখনো বাকাভাবে একটু লেগে আছে। যেহেতু প্রায় অনেকদিন এটা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রপার টাইমে চিকিৎসা করা হয়নি সেজন্য হয়ত একটু বাকাভাবে রয়ে গিয়েছে। চার সপ্তাহর মধ্যে তিন দিনে হাড্ডি জোড়া লেগে যাবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদেরকে বলছি, দয়া করে আমার নেতাকর্মীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান।

আরও পড়ুন: জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলারোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’ কর্মসূচি, চারা রোপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


কলারোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’ কর্মসূচি, চারা রোপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

১৬ জুন, ২০২৬,এই গাছটি আমার’, ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’-এই অনন্য স্লোগানকে বুকে ধারণ করে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ১৭ জুন, ২০২৬ (বুধবার) বিদ্যালয়ের একদল ক্ষুদে প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের চারাগাছ রোপণ করবে। পরিবেশ রক্ষায় বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও যে সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন যেন সেই বার্তাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং গাছ রোপণের পর প্রতিটি চারাগাছের সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।

এ লক্ষ্যে, প্রতিটি গাছের মালিকানা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণি, রোল নম্বর এবং রোপণ করা গাছের জাত ও তারিখ সংবলিত সুদৃশ্য পরিচয়পত্র বা প্ল্যাকার্ড ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন শ্রেণির প্রথম রোলধারী শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফলজ ও ঔষধি চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করবে। এদের মধ্যে নাম রয়েছে-মোছাঃ মারিয়াম তাবাসসুম (শ্রেণি: তৃতীয়, রোল: ০১)-আম গাছ (হিমসাগর), রাইসা সুলতানা (শ্রেণি: প্রথম, রোল: ০১)-লিচু গাছ, রাইসা আহম্মেদ (শ্রেণি: দ্বিতীয়, রোল: ০১)-কাঁঠাল গাছ, আমিনা সিদ্দীকা (শ্রেণি: চতুর্থ, রোল: ০১)-গাব গাছ, সাবিহা ইসলাম (শ্রেণি: পঞ্চম, রোল: ০১)-কামরাঙা গাছ। গাছ ও প্রকৃতির প্রতি কোমলমতি শিশুদের এই আগ্রহ এবং নিষ্ঠা ইতিমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এটি কেবল এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দূরদর্শী করে তোলার একটি চমৎকার দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ। আগামীকালকের এই চারা রোপণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ব্যতিক্রমী এবং দূরদর্শী এই কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনায় আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও শুভকামনা প্রত্যাশা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় সরকার ব্লকচেইনভিত্তিক ফিচার চালু করবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় সরকার ব্লকচেইনভিত্তিক ফিচার চালু করবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ জাতীয় সংসদে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যারের একটি নতুন সংস্করণ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই সংস্করণে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা এবং ব্লকচেইনভিত্তিক রেকর্ড ট্র্যাকিংসহ উন্নত ডিজিটাল ফিচার থাকবে।

এ সম্পর্কিত তথ্য তিনি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর (নারী আসন-১১) পাঠানো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, উত্তরাধিকার সনদসহ স্থানীয় সরকার সেবাগুলোতে হয়রানি এবং দালাল চক্রের ভূমিকা দূরীকরণ বিষয়ক একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে আজ জানিয়েছেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন-২ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সিস্টেমে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো তথ্যের পরিবর্তন হলে তার লগ শনাক্ত করা যাবে। ফলে কোন পর্যায়ে তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।’

এলজিআরডি মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজ করতে এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে সারা দেশে নিবন্ধনকারীদের এবং সহকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় ক্রীড়া কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


সাতক্ষীরায় ক্রীড়া কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

১৬ জুন, ২০২৬,দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে জেলার নারী খেলোয়াড়েরা সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের সাথে কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের আন্দোলনের সাথে সহমত পোষণ করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তির বাবা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস, মেহেদী রাজু প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হচ্ছে না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিসের কর্মচারী কিংবা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন-এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান বিতরণ হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

নারী খেলোয়াড়েরা বলেন, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে এবং কষ্ট করে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কোনো সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না, উল্টো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।”

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াকান্দিতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই: অভিযুক্ত গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


বালিয়াকান্দিতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই: অভিযুক্ত গ্রেফতার

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন নারুয়া ইউনিয়নে, এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে বেদম মারধর এবং নগদ অর্থ ও ব্যবহৃত দামী মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, ৯ জুন দুপুর আনুমানিক সাড়ে বারোটায় নারুয়া ইউনিয়নের বিলটাকাপোড়া গ্রামের মনসুর আলী কলেজের সামনের পাকা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে ১৬ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে অভিযুক্ত প্রধান আসামি মিঠু শেখ (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ রুহুল আমিন (৩৪) বিলটাকাপোড়া গ্রামের মৃত কালাম খানের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে আসছেন। ঘটনার দিন, তিনি বাড়ি থেকে নিজের মালিকানাধীন একটি লাল রঙের মোটরসাইকেল যোগে পেঁয়াজ কেনার উদ্দেশ্যে স্থানীয় নারুয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে, মনসুর আলী কলেজের সামনে পৌঁছালে, পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধের জেরে একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী শেখের পুত্র মিঠু শেখ তার পথ বাধা দেয়। মিঠু শেখ ভুক্তভোগী রুহুল আমিনকে মোটরসাইকেল থেকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায়, আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে, ভুক্তভোগীর প্যান্টের পকেটে থাকা পেঁয়াজ ক্রয়ের নগদ ১,৪৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক মোটরসাইকেলের চাবিসহ ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। যাওয়ার সময়, বিষয়টি পুলিশ বা থানাকে জানালে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করা হয়।

পরবর্তীতে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বালিয়াকান্দি থানায় হাজির হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তে নামে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কাঞ্চন মিয়া আজ ১৬ জুন দুপুর ২ টার দিকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বালিয়াকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মিঠু শেখকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে আসামির প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আজ বিকালেই গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিসট্রেট, বালিয়াকান্দি আমলী আদালত, রাজবাড়ীতে প্রেরণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে, শুনানি শেষে আদালত জামিন নামুনজুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%