০৯:৪২ পি.এম
আজ বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে।
সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সে বিষয়ে চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
আরও পড়ুন: বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরীক্ষার ফি নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন জারি
প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’
আজ বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: জামায়াত আমির: স্থানীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি
তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে, এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’
প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।
গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’
আরও পড়ুন: সড়কের উন্নয়ন কাজ তদারকিতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।
তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’
কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্ধারিত কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়নের তাগিদ পর্যটনমন্ত্রীর
তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন জানিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এখানে একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের চোখে-মুখে খুশি দেখেছেন আমার মনে হয় একই জিনিস মনে হয় আমিও দেখেছি। কিন্তু তার পরেও অবশ্যই দায়িত্বের একটা চাপ অনুভব করছি। কারণ, এখানে প্রচুর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। 그래서 অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি অফিস থেকে যখন বাসায় যাচ্ছি, তখন আমার সাথে গাড়িতে যারা ছিল, তখন আমি তাদের বলছিলাম আব্বা একসময় কথা উনার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন যে দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা মানে ৪৮ ঘন্টা হতো তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে পারতাম।’
তিনি বলেন, ‘আব্বার মতো আমি ওই দিন বলছিলাম যে, দিনটা মানে কখন অফিসে ঢুকছি এবং কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, একটু বুঝতেই পারছি না। দম ফেলানোর টাইম পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয় আসলে দিন ২৪ ঘন্টা না হয়ে যদি ৪৮ ঘন্টা হতো তাহলে একটু ভালো হতো।’
আরও পড়ুন: ‘জামায়াত সমর্থন না পেলে ৯১ সালে বিএনপির রাজনীতি শেষ হয়ে যেতে পারতো’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার জন্য এখনো এক্সরে করলে হয়ত দেখা যাবে আমার পিঠের হাড্ডিটা এখনো বাকাভাবে একটু লেগে আছে। যেহেতু প্রায় অনেকদিন এটা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রপার টাইমে চিকিৎসা করা হয়নি সেজন্য হয়ত একটু বাকাভাবে রয়ে গিয়েছে। চার সপ্তাহর মধ্যে তিন দিনে হাড্ডি জোড়া লেগে যাবে না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদেরকে বলছি, দয়া করে আমার নেতাকর্মীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান।
আরও পড়ুন: জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন