প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং অংশীদারত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে; তবে বেসরকারি খাতকে পর্যটন খাতের নেতৃত্ব, বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ে অগ্রসর হতে হবে।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা অনেক বেশি, তবে সমন্বয় এবং যোগাযোগের অভাব রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে পর্যটন খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগের প্রয়োজন, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সরকারের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য ইতিবাচক প্রচারের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অন্যান্য ইতিবাচক দিকগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। নতুন এলাকা পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।
বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমসসহ বিভিন্ন সেবায় সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত দক্ষতার সঙ্গে সেবা দিতে পারে, সেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, পর্যটন উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত করতে অটোমেশন এবং অনলাইন সেবা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মীর হেলাল বলেন, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভার প্রয়োজন রয়েছে। পর্যটনের উন্নয়নে একাধিক মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি কক্সবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা এবং জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়মিত পুলিশকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিলে তাদের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তা, পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামীমুজ্জামান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন