ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আবু সাঈদের সেই দৃশ্য ছিল জাতির ভয়জয়ের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী


আবু সাঈদের সেই দৃশ্য ছিল জাতির ভয়জয়ের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না। এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মন্তব্য করেছেন।

১৬ জুলাই ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন কথা বলেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ৬ জন শহীদ। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন। পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।

আরও পড়ুন: রাবি স্টেশনে থামবে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন

প্রধানমন্ত্রী ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ‘১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ।’ এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের সে গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর, আজ বর্তমান সরকার শহীদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী শহীদদের রক্ত কখনও বৃথা যেতে পারে না উল্লেখ করে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।’ রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, সেসব অকুতোভয় শহীদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।’

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুর

বাণীতে তিনি আবারও আল্লাহর দরবারে সব শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের দ্বীপগুলো দখল করতে সক্ষম হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের দ্বীপগুলো দখল করতে সক্ষম হবে?

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে না দেওয়ায় এ জল্পনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে সেই ধরনের অভিযান অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটন কি কেবল সামরিক চাপ সৃষ্টি করছে, নাকি ইরানের ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে?

গত মার্চে যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ খার্গ দ্বীপে বিশেষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যদিও পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সেই আলোচনা অনেকটা স্তিমিত হয়ে যায়।

তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ইরানের দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি 'না' বলেননি। বরং তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তার এই বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সামরিক সক্ষমতা আছে, কিন্তু মূল্য অনেক বেশি। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, সীমিত পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের কোনও ছোট দ্বীপ সামরিকভাবে দখল করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও দ্বীপ দখল করা এবং সেটি দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। শক্তিশালী নৌবাহিনী, বিমান শক্তি এবং উভচর অভিযানের সক্ষমতা থাকায় এমন অভিযান চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা হলে সেটি আর সীমিত অভিযান থাকবে না; বরং পূর্ণাঙ্গ উভচর যুদ্ধ অভিযানে রূপ নেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের দ্বীপগুলো দখল করা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হবে না। কারণ, ইরান মূল ভূখণ্ড থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে নৌপথে হামলা চালাতে পারে। এছাড়া দখল করা দ্বীপগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিয়মিত রসদ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হলে শুধু দ্বীপ নয়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো আবশ্যক। সেক্ষেত্রে তা একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে হলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের কোনও দ্বীপ দখল করা হলে তেহরান সেটিকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রাখা, বাণিজ্যিক জাহাজ, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এসব দেশ হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে চাইলেও নিজেদের ভূখণ্ডকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে আগ্রহী নয়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে ইরানের কোনও দ্বীপ দখলের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু বাস্তবে এমন পদক্ষেপের সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক ব্যয় এতটাই বেশি যে, সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাদের মতে, এমন কোনও অভিযান শুরু হলে তা শুধু কয়েকটি দ্বীপ দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের স্থলযুদ্ধের সূচনা ঘটাতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে পাকিস্তানি যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


প্রেমের টানে শরীয়তপুরে পাকিস্তানি যুবক

ভৌগোলিক সীমানা বা দেশের কাঁটাতার— কোনও কিছুই প্রেমের টানের কাছে বাধা হতে পারে না, এর আরও একটি উদাহরণ মিলেছে শরীয়তপুরের জাজিরায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গড়ে ওঠা চার বছরের দীর্ঘ প্রেমকে সার্থক করতে পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরে আসেন মোজাম্মেল হোসাইন (২৬) নামক এক পাকিস্তানি তরুণ। তাঁর এই আসার উদ্দেশ্য অন্য কেউ নন, তিনি জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণী তানজিলা (১৯)।

ইতোমধ্যে শরীয়তাহ মোতাবেক তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং নবদম্পতি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই 'ক্রস-বর্ডার' বিয়ে নিয়ে যেমন এলাকায় কৌতূহল দেখা দিয়েছে, তেমনই স্থানীয়দের মনে পাচার চক্রের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের সঙ্গে মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে তানজিলার। নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক।

সেই প্রেমের টানে ১১ জুলাই (শনিবার) মোজাম্মেল সরাসরি লাহোর থেকে জাজিরার বিলাসপুরের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় প্রেমিকার বাড়িতে হাজির হন। এরপর সেখানে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে তানজিলার মা আসমা আক্তার এই বিয়ে নিয়ে আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এতো দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তাঁদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

কিন্তু আসমা আক্তারের এই স্বস্তির বিপরীতে স্থানীয় প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের মধ্যে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার এবং চাচাতো চাচা তোফাজ্জল শিকদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইদানিং প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের বিদেশে পাচার করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক ছাড়া মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দারা পুরো বিষয়টি প্রশাসনের কাছে নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। অতি দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেমের টানে ভিনদেশি যুবকের জাজিরায় যাওয়ার এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, এবং এই বিয়ের আড়ালে কোনো আইনি জটিলতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি: রাজতন্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য কি নতুন আরব বসন্তের বার্তা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি: রাজতন্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য কি নতুন আরব বসন্তের বার্তা?
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের অবৈধ সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা যে আমূল বদলে গেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার প্রদর্শন এবং সংঘাতকে আঞ্চলিক মাত্রায় বিস্তৃত করার সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি রাষ্ট্রকে নতুন হিসাব-নিকাশে বাধ্য করেছে। এখন প্রশ্ন আর শুধু ইরান-ইসরাইল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নয়; বরং প্রশ্ন হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে থাকা মার্কিন এই ঘাঁটিগুলো যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ততদিন রাষ্ট্রগুলো এমন আরব বসন্তের ঝুঁকির মুখে থাকবে। এমনকি শুধু সেই ঘাঁটি গুলোই নয়; বরং সেগুলোকে আশ্রয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি নতুন ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্নকে আরও জোরালো করছে—কেন তাদের ভূখণ্ড অন্য একটি মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হবে?

ইরান ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত রাষ্ট্রগুলোর জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তাদের দেশ বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের ঘাঁটিতে পরিণত না হয়। এই আহ্বান কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জনমতের ওপর এর প্রভাবও বাড়বে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে রাষ্ট্রের ভেতরের ক্ষোভ আর আগের মতো সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে আঞ্চলিক জনমতে রূপ নিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বহু রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় যদি জনগণের একটি অংশ এই ধারণায় পৌঁছে যে, তাদের রাষ্ট্র বিদেশি শক্তির সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে গেছে, তাহলে সেই অসন্তোষ নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।

আরব বসন্তের ইতিহাস দেখিয়েছে, কখন কোন ক্ষোভ বিস্ফোরণে রূপ নেবে, তা অনেক সময় শাসকরাও বুঝে উঠতে পারেন না। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক বঞ্চনা, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং বহিরাগত সামরিক জোট—এই কয়েকটি উপাদান একসঙ্গে মিললে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্তমান সংঘাত সেই উপাদানগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব রাষ্ট্রে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি নিজেদের ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক যুদ্ধের সামনের সারিতে রাখবে, নাকি নিজেদের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মুসলিম দেশ এবং ইরানের সাথে অংশগ্রহণমূলক ভাবে সম্মিলিতভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। কারণ যুদ্ধের আগুন একবার রাষ্ট্রের ভেতরের জনঅসন্তোষের সঙ্গে মিশে গেলে তা শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা শাসনব্যবস্থার ভিতও কাঁপিয়ে দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় তাই এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়—যদি এসব রাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ অব্যাহত রাখে, তাহলে নতুন করে একটি আরব বসন্তের মতো আন্দোলনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেটি কখন, কোথায় বা কীভাবে ঘটবে—তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যখন জনগণের ক্ষোভ, আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং বহিরাগত সামরিক উপস্থিতি একই বিন্দুতে এসে মিলিত হয়, তখন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ আর কেবল তাত্ত্বিক আশঙ্কা হয়ে থাকে না; তা বাস্তব সম্ভাবনায় পরিণত হতে পারে এমন আশঙ্কা করা আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তুলতে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সরকার দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়নে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায়।

আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি, প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সৌজন্য সাক্ষাতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মানির ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান (শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) আনইয়া টার্সটেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জেরিনা।

আলোচনায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ বহর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

তারা এ বিষয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান। তারা এয়ারবাসের প্রস্তাবিত বিমান সংগ্রহের পাশাপাশি সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়া এবং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।

সরকারের বিমান বহর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিমান পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%