বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:১৭ এম
পাবনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।
এটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বনগ্রাম সারাডাঙ্গা এলাকায়।
পাবনার মাধপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ২০টি জাহাজ লক্ষ্য করে ইউক্রেন নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে রুশ বাহিনী ওডেসা, সুমি ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা করে। এই হামলায় অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’-কে লক্ষ্য করে বুধবার (১৫ জুলাই) বড় ধরনের ড্রোন হামলা ঘটে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দ্বারা। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার দাবি করেছেন, এই অভিযানে অন্তত ২০টি রাশিয়ান জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে দুটি গ্যাস ট্যাঙ্কার, ১৭টি তেল ট্যাঙ্কার এবং একটিটি টাগবোট অন্তর্ভুক্ত।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। কিয়েভ দাবি করেছে, গত ১০ দিনের মধ্যে তারা কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার ১৩০টিরও বেশি জাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলায় রাশিয়া দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রুশ সেনারা পাল্টা ওডেসা, সুমি এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রুশ বাহিনী আবাসিক ভবন ও বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করেছে।
এদিকে, ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী দাবি করে, রাশিয়ার ছোঁড়া ১২২টি ড্রোনের মধ্যে শতাধিক তারা ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের শক্তি বাড়াতে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক 'ড্রোন চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য নতুন করে ১০ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৮ সালের মধ্যে এই অংশীদারিত্বকে অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের দিকে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা আছে।
এছাড়া, ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানির সিইও সের্গেই কোরেতস্কিকে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের শেষে দলের পারফরম্যান্স, ফাইনালে ওঠার অনুভূতি এবং সমালোচকদের জবাব সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, "জাতীয় সংগীতের সময় থেকেই পুরো দল উপলব্ধি করেছিল ম্যাচটির গুরুত্ব।"
তিনি আরও যোগ করেছেন, "অবিশ্বাস্য একটা অভিজ্ঞতা ছিল। জাতীয় সংগীতের মুহূর্তে আমরা বিশেষ অনুভূতি পেয়েছি। পুরো দল বুঝেছিল, এটি সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। পুরো আর্জেন্টিনা এই জয় চেয়েছিল, আমরাও চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য পূরণ করে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পেরেছি।"
তিনি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও দলের আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন।
মেসি বলেন, "পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারাটা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ কঠিন হয়ে যাওয়ার পরও আমরা বিশ্বাস হারাইনি। নিজেদের খেলায় ফিরেছি, বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছি। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।"
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দলের সামর্থ্য নিয়ে নিজের বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
তিনি বলেন, "আমি জানতাম এই দল শেষ চারে থাকবে এবং শিরোপার জন্য লড়বে। এখন আবারও ফাইনালে উঠেছি। টানা পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল, এটা সত্যিই অসাধারণ অর্জন।"
সমালোচকদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মেসি। তার মতে, "কয়েকজন ফুটবলার পুরোপুরি ফিট না থাকলেও দল হিসেবে আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরাটা দিতে সক্ষম।"
তিনি আরও বলেন, "এই দল আমাকে অবাক করে না। অনেকের সন্দেহ ছিল, কারণ কয়েকজন খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট ছিল না। কিন্তু আমরা একসঙ্গে থাকলে সবসময় নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।"
রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান জানিয়ে মেসি বলেন, "ফাইনাল হবে কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।"
মেসি জানান, "স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। তাদের খেলার ধরন বহু বছর ধরে একই রকম। বিশ্বকাপের ফাইনাল সবসময়ই বিশেষ এবং আমি মনে করি ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।"
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি বলেন, "এই ম্যাচে হারার কোনো সুযোগ ছিল না।"
তিনি বলেন, "এটি ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা হারতে পারতাম না। যদি হেরে যেতাম, অনেকেই নানা বোকামিপূর্ণ কথা বলত। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। আমরা জানতাম, ফুটবলীয় সামর্থ্যে আমরা তাদের চেয়ে ভালো। তবে এমন ম্যাচে ইতিহাস, আবেগ ও চাপ সবকিছুই কাজ করে।"
এখন বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দলটি এবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সময় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচ চলাকালীন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং মডেল মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা গোল খাওয়ার পর তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ব্যাপক ট্রলের সৃষ্টি হয়, যেখানে অনেকেই হাস্যরসের ছলে তাঁকে ‘কুফা’ (অপয়া) বলে অভিহিত করেন।
ম্যাচের সময় ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের কিছুক্ষণ পর টয়া নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, "আমার মনে হয় আর ফুটবল দেখা হবে নারে!" পোস্টটি প্রকাশিত হতেই মন্তব্যের ঢল নামে।
কেউ লিখেছেন, "আপনি আসলেই কুফা!" আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, "সব আপনার দোষ অথবা দয়া করে আর খেলা দেখবেন না।" তবে পুরো বিষয়টি আসলে নেটিজেনদের মজা ও খুনসুটির অংশ।
টয়াকে কেন্দ্র করে এই ‘কুফা’ বিতর্কের শুরু মূলত ম্যাচের আগে থেকেই। বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মজা করেই তিনি দাবি করেছিলেন যে এবারের বিশ্বকাপে যে দলকে তিনি সমর্থন করছেন, সেই দলটি একে একে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিচ্ছে।
ভিডিওতে টয়া জানান, তার প্রিয় দল জার্মানি প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিয়েছে। পরে তিনি ব্রাজিল ও জাপানের উপরও সমর্থন জানিয়েছিলেন, কিন্তু তারাও টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পারেনি। এ কারণে তিনি বিষয়টিকে ‘একটি নিরীক্ষা’ হিসেবে দেখার সিদ্ধান্ত নেন।
ভিডিও বার্তায় টয়া বলেন, "আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জীবনের এই নিরীক্ষাটা এবার সিরিয়াসলি করব। পরবর্তী যে দলটাকে সমর্থন করব, যদি সেই দলও বাদ পড়ে যায়, তাহলে আমি মেনে নেব সমস্যাটা সত্যিই আমার। তাই এবার আমি আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করব। যদি আর্জেন্টিনা হেরে যায় বা বিশ্বকাপ জিততে না পারে, তাহলে নিজেকে কুফা ভক্ত হিসেবেই মেনে নেব এবং আর ফুটবল দেখব না।"
এর কিছু ঘণ্টা পরেই আর্জেন্টিনা গোল খাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়ে যায় টয়ার সেই বক্তব্য। এরপর থেকে ফুটবলপ্রেমীরা মজা করে তাঁকে ‘কুফা’ তকমা দিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।
তবে সম্পূর্ণ ঘটনাটি যে নিছক হাস্যরসের অংশ, তা মন্তব্যগুলোর প্রকৃতি থেকেই প্রতিফলিত হয়। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফিরে দাঁড়াতে পারে কি না এবং টয়া শেষ পর্যন্ত নেটিজেনদের দেওয়া ‘কুফা’ তকমা থেকে মুক্তি পান কি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উন্নীত হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টার সেমিফাইনালে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামদের বাধা পার করে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে। আগামী রবিবার নিউ জার্সিতে শিরোপার জন্য তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
আর্জেন্টিনার এই জয়ের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এক মহারণও নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অনেকের কাছে এটি হারিয়ে যাওয়া ‘ফাইনালিসিমা’র নতুন রূপ হিসাবে ধরা হচ্ছে।
এর আগে, ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পৌঁছেছে স্পেন। এরপর থেকেই আলোচনা চলছিল আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল সম্পর্কে। কারণ, এই ম্যাচের ফলেই নির্ধারণ হচ্ছিল, বিশ্বকাপের মঞ্চে বহুল প্রতীক্ষিত স্পেন-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ দেখা যাবে কি না।
মূলত চলতি বছরের মার্চে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালিসিমার আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ আয়োজিত হয়নি। দুই মহাদেশের সেরা দুটি দলের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা লম্বা হয়ে গেছে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচটি আয়োজনের স্থান হিসেবে কাতারের দোহা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেই আয়োজন বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে বিকল্প হিসেবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের একটি স্টেডিয়ামের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেখানে রাজি হয়নি আর্জেন্টিনা। তাদের দাবি ছিল, প্রতিপক্ষের দেশে এতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ার জন্য ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ফলে আলাদা একটি প্রতিযোগিতায় হওয়ার কথিত লড়াইটি এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সেই স্বপ্নের ফাইনালের পথে যাত্রা করেছে আর্জেন্টিনা।
একদিকে টানা সাফল্যে উড়ন্ত স্পেন, অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার তাড়না নিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা। দুই মহাদেশের বর্তমান সেরা দুই দলের এই মহারণকে ইতোমধ্যেই অনেকেই বিশ্বকাপের ‘স্বপ্নের ফাইনাল’ বলে অভিহিত করছেন।
এখন শুধুই অপেক্ষা শেষ লড়াইয়ের জন্য। বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়ে স্পেন ও আর্জেন্টিনা নির্ধারণ করবে, ফুটবল বিশ্বের নতুন রাজা কে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ