০৯:৩৪ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাকে বাংলাদেশ ‘সন্তোষজনক নয়’ উল্লেখ করে অভিহিত করেছে। এই ঘটনা সম্পর্কে বাংলাদেশ পুরো ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার (২৪ জুন) সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় ভারতীয় পক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সেটি সন্তোষজনক নয়। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বহু আগে জানানো হয়েছিল যে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের (আইওআরএ) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
তিনি আরও জানান, ‘এ বিষয়ে পূর্বে অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।’
চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএ’র একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে পরবর্তী যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ভারতের কোনো গাফিলতির কথা স্বীকার করেননি। তিনি পাল্টা দাবি করেন, ‘তিনি (বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) গত ১৪ জুন এখানে এসেছিলেন ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে। তিনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন। তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার ভারতে আসার উদ্দেশ্য রিম অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেয়া হয়। যদিও সে সময় তিনি নিজস্ব সিদ্ধান্তে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’
এদিকে, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে করা অপর এক মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সব নাগরিক, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আরো জানান যে বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন