০২:৩৭ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নতুন মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং তার ছেলে মো. আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, শাজাহান খান ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আজ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই মামলায়।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালত সোমবার (৫ অক্টোবর) এই আদেশ প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে দুদক যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি ফ্ল্যাটের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেটি ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে এবং সেই ফ্ল্যাটের মূল্য তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার বৈধ সম্পদের পরিমাণ দেড় কোটি টাকা এবং ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করছেন।
এদিন আদালতে শাজাহান খানকে পুলিশি পাহারায় হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এনসিপিকে নিয়ে কি বলব, তারা জামায়াতের সাথে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।"
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, আসিবুর রহমানের নামে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৭ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৭ টাকা। এর বাইরে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০১ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে, এসব সম্পদ ও ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস এবং দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানকে ওই সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের সম্পদ ও আয়সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করে মামলাটি দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছিল। দুদকের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন