মোঃ একদল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
০৪:২১ পি.এম
শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে নিয়েছেন যানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিড-ডে মিল একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে সব পর্যায়েই হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কোনোভাবেই টাঙ্গাইলে মাদক চলতে দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। যে মাদক যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক পরিবার ধান, জমি কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করেও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করে। সেই সন্তান যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিবারের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্ঘটনা দুর্যোগ,সবার পাশে,সবার আগে" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল এর তত্ত্বাবধানে ধনবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের উপস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপন ও ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ০৩ আগষ্ট সোমবার ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে । উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদা খাতুন এর সঞ্চালনায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরজাহান আক্তার সাথী । এসময় ধনবাড়ী উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান সোহান সহ অনান্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর আয়োজনে এবং ধনবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বাস্তবায়নে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতার মধ্যে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ দাবি তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে জানান।
আজ (বুধবার) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালি ও সমাবেশে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।
র্যালি ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক সাজান সাজু, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ ও এইচ এম আলামিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি এবং সাংবাদিক নেত্রী মাসুদা আক্তার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই বিজয় র্যালিতে শহীদ, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে সাংবাদিকদের স্লোগানে পুরো রাজপথ মুখর হয়ে ওঠে।
ডিইউজের সাংবাদিক নেতা দিদারুল আলম দিদারের স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনতাও আওয়াজ তোলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা আমাদের প্রেরণা, জুলাইয়ের রক্ত আমাদের শক্তি’; ‘জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’; ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই, দিতে হবে’ এবং ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’।
সমাবেশে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য ছাত্র, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা আবশ্যক।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে হলে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি যোগ করেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর সাহস পাবে না।
সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকতে হবে।
ডিইউজের সভাপতি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা ও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার আগে আন্দোলন চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে ছয়জন সাংবাদিক ছিলেন এবং আন্দোলনের সময় সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিক আহত হন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের আপস বা শৈথিল্য নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের।
ডিইউজের সভাপতি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। অসমাপ্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, আমরা যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ না থাকি এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমন ঘটতে পারে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা দেখেছি, সেই যুদ্ধের কৃতিত্ব কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল নিজেদের বলে দাবি করেছে। এর ফলে দেশে বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ বারবার সংকটের মুখে পড়েছে।
জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না, মতপার্থক্য ছিল না। আমাদের রক্তের রংও আলাদা ছিল না। আমরা যদি সেই ঐক্য ধরে রাখতে না পারি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে বাংলাদেশের সামনে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমনের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দেখছি, ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন রূপে, বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের নানা স্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই আজকের দিনে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে—যেভাবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিস্টদের পরাজিত করেছিলাম, সেভাবেই বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ৩৬ জুলাই অর্থাৎ আজকের ৫ আগস্টের সফলতার পেছনে অগণিত মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। রাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলন শুরু হলে হয়তো এটি সফল হতো না। কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলো সামনে না থাকলেও নেপথ্যে তাদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হবে, এই আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান উল্লেখ করেন, রাজমুকুট অর্জন করা যত সহজ, তা ধরে রাখা ততটা সহজ নয়। আজ আমাদের বিজয়ের দিন। এই বিজয়ের তাৎপর্যকে ধরে রাখতে পারস্পরিক ঐক্য ও সমঝোতা বজায় রাখতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হবে। সতীর্থদের মাফিয়া চক্র ও সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ১২ তলা একাডেমিক ভবনের সামনে এসে সমাপ্ত হয়।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই আমাদের চেতনার অংশ। জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করে আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমরা একত্রিত হয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করব। আগামী প্রজন্মই বাংলাদেশকে উত্তরোত্তর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্দেশ্য হলো সবাইকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সমাজের মানুষের জন্য কাজ করা। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি আমরা কোনো দিন বেইমানি করব না। এই দিনে আমরা জুলাইয়ের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
পরে বিকেল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘আমরাই গড়ব স্বপ্নের বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যসহ নানান পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের অন্তর্ভুক্ত সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ