১২:৪২ পি.এম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দুই আসামির জন্য সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার পর আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন।
বিচারক রায়ের সময় রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা অঝোরে কাঁদেন। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না চোখ বন্ধ করে বসে ছিলেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত উল্লেখ করে বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে প্রমাণ হয়েছে যে, রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, রামিসাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী স্বপ্না ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। স্বপ্নার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিরোধ না করে যে অমানবিক কাজ করেছেন, তাই তিনি সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। তাদের অপরাধ সংশোধনের যোগ্য নয় এবং তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়।
পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্নাকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
মামলার বিবরণ অনুসারে, নিহত শিশু রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
মেয়ের খোঁজ না পেয়ে, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার মাতা আসামিদের ঘরের সামনে তার জুতো দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন