প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপক্ষ রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট রয়েছে। রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রামিসার বাবা ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়েছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে রামিসার বাবা এই চিহ্ন প্রদর্শন করেন।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রায় রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১ টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দ্বারা ঘোষণা করা হয়। বিচারক ১১ টা ৪১ মিনিটে রায় ঘোষণা শেষে আদালতের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আজ বেলা ১১ টায় বিচারক আদালতে উঠে রায় পড়তে শুরু করেন। এই সময় বিচারক আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন।
বিচারক সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান। সাধারণ তথ্য এবং সাক্ষ্য প্রমাণের আলোকে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সন্তুষ্টি জানান।
রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে।
শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই মামলাটি বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছালো। গত ১৯ মে রাতে ১২ টা ৫ মিনিটে মামলাটি দায়ের হয়েছিল এবং ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একইদিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
এরপর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে নির্ধারিত বিচারিক ছুটি বাতিল করা হয় এবং বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে ১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর পরের দিন মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত একদিনে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা শেষ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন।
৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন ৪ জুন।
৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের পর বিচারক আজকের জন্য রায়ের দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়া সময় আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে খোঁজাখোঁজি করতে থাকে তার পরিবার। একপর্যায়ে তারা আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং আসামির শয়নকক্ষে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতিতে মাথা দেখতে পান।
আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা রামিসাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে এবং পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
এ ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিনে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন