মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৫ পি.এম
পদ্মবিল থেকে একটি পদ্মের আঁটি তুলে এনে, নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে কারও জন্য অপেক্ষা করার একটি কাব্যিক দৃশ্যের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক শিক্ষিকা। মাজিশাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমান পদ্ম হাতে ছবি তুলে কবিতার ভাষায় ভালো লাগা ও আবেগ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "তোমার জন্য-ই! পদ্মবিল থেকে তোমার জন্য এক আঁটি পদ্ম তুলে এনেছি। চা-বাগানের পাশে, নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি— তুমি আসবে বলেই তো অপেক্ষাটা এত সুন্দর!"
পোস্টের শেষে ছবিটি তিনি ‘সাহেবের তোলা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। কবিতার আবেগ, পদ্ম হাতে ছবি এবং অপেক্ষার রোমান্টিক বর্ণনা মিলিয়ে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তার এই প্রকাশভঙ্গি।
তন্নী রহমান পূর্বেও বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি টিয়া পাখির সঙ্গে ছবি তুলে তিনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছেন। সাবেক নির্বাচিত শিক্ষক নেত্রী তন্নী রহমানের স্বামীও শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত এবং একই বিদ্যালয়ে কর্মরত বলে জানা গেছে।
মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা সোলেমান মিয়া মন্তব্য করেন, "তন্নী রহমান একটি শিক্ষক পরিবারের সম্পদ। কবিতা, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও পড়াশোনায় তিনি ব্যতিক্রমী। তার প্রতিভা ও সৃজনশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তাকে সেরা শিক্ষিকা হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।"
শিক্ষক নেতা নয়ন চৌধুরী বলেন, "তন্নী রহমান বরাবরই নানা বিষয়ে আলোচনায় থাকেন। আমরা তার প্রতিভার আরও বিকাশ কামনা করি।"
মাধবপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, "শিল্প-সাহিত্য চর্চা অবশ্যই ভালো বিষয়। আশা করি, তিনি নিয়মনীতি মেনে এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টোকিওর প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় টোকিওর চিয়োডা ওয়ার্ডের নাগাতাচোর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের (‘কান্তেই’) নিকটবর্তী সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রবাসী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি যখন কার্যালয়ে প্রবেশ করে, তখন ‘জাপানে তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় নেতা-কর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। তাঁদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং শুভেচ্ছাবাণী খোদাই করা ছিল।
জাপান বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন জাপান শাখা বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম মনি, সহসভাপতি মাসুম জাকির, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সাদেকুল হায়দার বাবলু, জুয়েল পাঠান, মাকসুদুল হাসান, টুটুল ইব্রাহিম, ওমর ফারুক রিপন, ফরহাদ প্রিন্স, মাসুদ প্লাবন, ইমরান আল ইমু, ইসমাইল হোসেন, শেখ ফয়সাল, সাইফুল ইসলাম এবং তাওহিদুল ইসলাম হেলাল প্রমুখ।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক অনন্য উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তার ৮১তম জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন। জন্মদিনের দুদিন আগে তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নজিরবিহীন চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ ৮১তম জন্মদিন উদযাপনের আনন্দের পাশাপাশি, ব্রাজিলের শাসনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
লুলার সামনে অন্তত চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো একটি বিভক্ত ব্রাজিল, একটি বৈরী কংগ্রেস, দুর্বল রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার কৌশলই নির্ধারণ করবে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ।
রবিবারের নির্বাচনে লুলা ৫১.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৮.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলাফল প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক বিভাজন ব্রাজিলকে এক দশক ধরে টুকরো করে রেখেছে এবং এটি আরও দেখায় যে, অভ্যুত্থানের চেষ্টার দায়ে কট্টর ডানপন্থী নেতার ২৭ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পরও ‘বলসোনারিজম’ এখনো শক্তিশালী।
বর্তমান মেয়াদের মতো এবারও কংগ্রেসে লুলার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। এই মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত আইনসভা নির্বাচনে ডানপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ৫১৩ জন ডেপুটির মধ্যে ১২১টি এবং ৮১ জন সিনেটরের মধ্যে ২৮টি আসন নিয়ে প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। লুলাকে তার প্রস্তাবগুলো পাস করার জন্য ‘সেন্ট্রাও’-এর ওপর নির্ভর করতে হবে। এটি হলো কেন্দ্র-ডানপন্থী দলগুলোর একটি ব্লক, যারা সাধারণত ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, তাকে সমর্থন দিয়ে থাকে।
কিন্তু রিও ডি জেনেরিও ফেডারেল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মায়রা গৌলার্টের মতে, তাদের সাথে আলোচনা করা দিন দিন আরো কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি এএফপি-কে বলেছেন, আইনপ্রণেতারা এখন ফেডারেল বাজেটের একটি বড় অংশের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, যা তাদের নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে আরো বেশি স্বাধীনতা দেয়।
গেটুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশন-এর অর্থনীতিবিদ মাউরো রচলিন এএফপি-কে বলেছেন, ’অর্থনৈতিক দিক থেকে, ব্রাজিলের তিনটি বড় সমস্যা হলো— আর্থিক সমস্যা, আর্থিক সমস্যা এবং আর্থিক সমস্যা।’ এই বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্র যা আয় করে, তা ব্যয় করে তার চেয়ে অনেক বেশি। সরকারি ঋণ জিডিপির ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সুদের হার বজায় রাখছে। রচলিন বলেন, ’এই পরিস্থিতি খুব দ্রুত অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।’
তার মতে, এই অবস্থার সমন্বয় বা সংস্কার করা অনিবার্য, কিন্তু কঠিন। কারণ এর সাথে অপ্রীতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কংগ্রেসের ভেতরে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী লবিগুলোর মুখোমুখি হওয়ার বিষয় জড়িত রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জটি লুলার প্রধান সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা জুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, কারণ সহিংসতা অনেক ব্রাজিলীয় নাগরিকের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অপরাধের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর অভিযোগ তোলার পর, লুলা এবার ফলাফল দেখানোর জন্য বেশ চাপের মধ্যে থাকবেন; বিশেষ করে বিভিন্ন শহরে রাজত্ব করা অপরাধী চক্র ও মিলিশিয়া বাহিনীকে দমন করার ক্ষেত্রে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন যে, জঘন্য অপরাধের জন্য ফৌজদারি অপরাধের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার পক্ষে তিনি সমর্থন দেবেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক ডানপন্থীরা এটি কমিয়ে ১৪ বছর করতে চায়।
ল্যাটিন আমেরিকাজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় লুলা ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ট্রাম্প গত বছর তার মিত্র জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ব্রাজিলের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এই বছরও কিছু পণ্যের ওপর আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক এমনভাবে বজায় রাখতে হবে যাতে তার সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সুর নরম না হয়, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চলে ক্রমশ নিজেদের আধিপত্য জাহির করছে।
লাতিন আমেরিকা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে এসেছে লুলার জয়। এরই মধ্যে তিনি ব্রাজিলের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রিটিশ কাউন্সিল (এনএইচসিআইএস) পার্টনার স্কুলস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ‘লিডারশিপ ইন টিচিং’ ক্যাটাগরিতে ফাইনালিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলটি ঢাকার দিলু রোডে অবস্থিত।
এনএইচসিআইএসকে এই ক্যাটাগরিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং চূড়ান্ত বিজয়ী সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্কুলটির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষক উন্নয়ন, কারিকুলাম এবং ইনস্ট্রাকশনাল লিডারশিপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
প্রিন্সিপাল মারিয়াম নূর ইউনুসের নেতৃত্বে, স্কুলটি শিক্ষকদেরকে গতানুগতিক ভূমিকা থেকে বের করে আনার জন্য কাজ করছে। শিক্ষকরা যেন কেবল পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নকারী না হয়ে ‘কারিকুলাম ডিজাইনার’ হিসেবে কাজ করতে পারেন—এমন উদ্দেশ্যে তাদের উৎসাহিত ও সহায়তা করা হচ্ছে। শিক্ষকদেরকে বোঝানো হচ্ছে যে, তারা শুধু কী পড়াচ্ছেন তা নয়, বরং কেন পড়াচ্ছেন, শিক্ষার অগ্রগতি কীভাবে হওয়া উচিত এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রমকে কীভাবে রূপ দেওয়া যায়।
শিক্ষকরা নিয়মিত যৌথ পরিকল্পনা, পেশাগত শিখন সেশন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়ে পর্যালোচনা এবং কারিকুলাম উন্নয়নে অংশগ্রহণ করেন। ফলে শিক্ষাদানকে কেবল একটি নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করার কাজ হিসেবে না দেখে একটি পেশাগত দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
প্রিন্সিপাল মারিয়াম নূর ইউনুস বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সবচেয়ে শক্তিশালী ক্লাসরুমগুলো গড়ে তোলেন সেই শিক্ষকরা, যাদের শুধু নির্দেশ মেনে চলার বদলে ভাবা, ডিজাইন করা এবং নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হয়। শিক্ষকরা যখন কারিকুলামের স্থপতি হন, তখন শিক্ষার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের গভীর অনুধাবন তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই শ্রেণিকক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
স্কুলটির এই পদ্ধতি মূলত শিক্ষকদের ‘কারিকুলাম আর্কিটেক্ট’ বা কারিকুলামের স্থপতি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। তারা পাঠ্যক্রমের উদ্দেশ্য, শিক্ষাদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম হন। এর মূল লক্ষ্য হলো কারিকুলামের ধারণাগুলো যেন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রেণিকক্ষে বাস্তব ও অর্থবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
সুতরাং, নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্রিটিশ কাউন্সিল (এনএইচসিআইএস) এর জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই স্বীকৃতি কেবল ফাইনালিস্ট হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। এটি স্কুলটির সেই পেশাগত সংস্কৃতিরই একটি স্বীকৃতি, যা তারা যত্ন সহকারে গড়ে তুলছে—আরও দক্ষ শিক্ষক, কারিকুলামের ওপর স্বকীয় অধিকার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উদ্দেশ্যপূর্ণ শিখন পরিবেশ।
মারিয়াম নূর ইউনূস আরও যোগ করেন, “এই ক্যাটাগরিতে অন্যান্য শক্তিশালী স্কুলের পাশাপাশি স্বীকৃতি পেয়ে আমরা গর্বিত। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমার শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ দেখা। শিক্ষকরা যখন চিন্তাবিদ, ডিজাইনার এবং শিক্ষার স্থপতি হয়ে ওঠেন, তখন তারা এমন ক্লাসরুম তৈরি করতে পারেন যেখানে শিক্ষাদান ও শেখার পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেকসই পর্যটনকে কেন্দ্র করে আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। এই মেলা তিন দিনব্যাপী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এ মেলা। বিটিটিএফের ১৪তম আসর হিসেবে এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘এআই পাওয়ার ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবারের মেলায় ২০টির বেশি দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল থাকবে। এতে ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ক্রেতা অংশগ্রহণ করবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মেলায় ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী এবং ৬০ হাজারের বেশি সাধারণ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনীতে ২০০টির বেশি এয়ারলাইনস, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশগ্রহণ করবে।
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। আয়োজকদের আশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হানিফ মন্তব্য করেন, বিটিটিএফের পূর্ববর্তী ১৩টি আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এই মেলা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মেলার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
এবারের মেলার এয়ারলাইনস পার্টনার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, প্ল্যাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, জিডিএস পার্টনার সেবার, পিআর পার্টনার ইমপ্যাক্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভে সার্ভিস এবং ডিজিটাল পার্টনার মায়েস্ট্রো। অডিওভিজ্যুয়াল পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ খাতের যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছে টোয়াব। এবারের বিটিটিএফ থেকে পর্যটন ব্যবসায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ