০৯:৩৪ পি.এম
ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন, "ফ্যাসিস্টদের বিচার আগে, এরপর জাতীয় পুনর্মিলন।"
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "এই সরকার অবশ্যই আইনের শাসন নিশ্চিত করবে এবং জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনবে।"
আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আয়োজনে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ‘মহাসংলাপ : ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক সেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার প্রচেষ্টার কারণেই বিশ্বব্যাপী জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের বিচারিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোসমূহকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব কাঠামো শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তে সাধারণ নাগরিকের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।" এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশে ৫ আগস্ট বা তার পূর্ববর্তী সময়ের দিনগুলোতে যা ঘটেছিলো তা কেবল সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না বরং তা ছিল আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোর এক মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়ন।" এ সময় নাগরিকরা আইনের শাসনকে উপেক্ষা করা এবং নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা শাসনব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। জনগণ লড়াই করেছিল গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। তারা নজির স্থাপন করতে চেয়েছিল যাতে বাংলাদেশে আর কেউ কোনদিন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করার দুঃসাহস না দেখায়।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, "৫ আগস্টের ক্ষমতাচ্যুত শাসনব্যবস্থার সাথে সমঝোতার কোন অবকাশ নেই।" তিনি বলেন, "তারা আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার যোগ্যতা চিরতরে হারিয়েছে।" জনগণের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা রাষ্ট্রযন্ত্রকে যারা পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল, তাদের সাথে কোন সমঝোতা নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধের লড়াইয়ে এমন সব শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, যা স্বৈরাচারীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রুখে দিতে সক্ষম।" বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে সেই নতুন ভিত্তিসমূহ গড়ে তুলছি। আর এ প্রক্রিয়ায় রাজপথে যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা গভীরভাবে সচেতন। তিনি বলেন, "আমরা এমন এক ভবিষ্যতের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে সরকার কাঠামোগতভাবেই জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত থাকবে, যাতে স্বৈরতন্ত্রের অধ্যায়গুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।"
আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা
উক্ত সেশনে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টার ইউনিভার্সিটি অব রাজস্থান, ভারত এর প্রফেসর করোরি সিং, নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষক মাদালিৎসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস এন্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিকি সিঙ্গার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন