ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাল মিয়ানমার


থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাল মিয়ানমার

মিয়ানমারের সামরিক নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। এই সফরটি তার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এর পর মিয়ানমারে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে তার ভূমিকার কারণে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো তাকে কার্যত কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে রেখেছে এবং তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা

গত এপ্রিল মাসে তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশই ওই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায়, যা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ভোটগ্রহণ হয়নি। এইভাবে সেনাবাহিনী সমর্থিত দলটি নতুন পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে।

২০১৭ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সঙ্গে স্বাক্ষরিত পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণে মিন অং হ্লাইংকে আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ঐকমত্য অনুসারে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সহিংসতা কমানো এবং বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে বলা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি আসিয়ান সদস্য দেশ মনে করে, মিয়ানমারের মানবিক সংকট নিরসন ও গৃহযুদ্ধ বন্ধে সেনাবাহিনীকে আরও ছাড় দিতে হবে, এরপরই পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার সম্ভব।

থাইল্যান্ড ভিন্ন নীতি অবলম্বন করছে। দেশটি এই অবস্থানকে ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততা’ বলে অভিহিত করছে। ব্যাংককের যুক্তি হলো, মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের প্রায় দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, মানবপাচার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি যোগাযোগ প্রয়োজন।

থাইল্যান্ডে মিন অং হ্লাইংকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। সফরসূচিতে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, থাই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং থাই-মিয়ানমার ব্যবসায়িক ফোরামে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ফোরামের উদ্দেশ্য হচ্ছে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করা।

আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আয়োজন কার্যত মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক’-এর একটি প্রতিচ্ছবি। থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপটি মিয়ানমারের দুটি বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। নির্বাচনের পর উভয় দেশই নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিশেষ করে চীনের সমর্থন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সহায়তা সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে এবং বিদ্রোহীদের দখলে থাকা কিছু এলাকা পুনর্দখলে সহায়তা করেছে।

অথচ থাইল্যান্ডের এই উচ্চপর্যায়ের আতিথেয়তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপকে সামরিক সরকারের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন। অধিকারভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার এক বিবৃতিতে বলেছে, “থাই সরকার চলমান কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সামরিক জান্তাকে ভুয়া বৈধতা দিচ্ছে।”

সংগঠনটি আরও বলেছে, “মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর থাইল্যান্ডের তথাকথিত ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততা’ নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন, যা মিয়ানমারের জনগণের চলমান দুর্ভোগকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।”

আরও পড়ুন: তুরস্ক, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি স্বাক্ষর

বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক দিয়েই নয়, আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, মিয়ানমার নীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালা পুলিশের মানবিক উদ্যোগে মায়ের কাছে ফিরল শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


দীঘিনালা পুলিশের মানবিক উদ্যোগে মায়ের কাছে ফিরল শিশু

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পথ হারিয়ে অসহায় অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক শিশুকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছে দীঘিনালা থানা পুলিশ। পুলিশের আন্তরিক তৎপরতায় এক রাতের মধ্যেই শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করে মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের জিয়ানগর শিবির এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে প্রায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে একা বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। শিশুটি নিজের নাম-ঠিকানা স্পষ্টভাবে বলতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন তাকে দীঘিনালা থানায় নিয়ে যান।

পরে পুলিশ শিশুটিকে নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে নিরাপদে রাখে এবং তার পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তার মাধ্যমে তথ্য ও ছবি পাঠায়। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি সদর থানার সহযোগিতায় শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম মো. আরমান হোসেন (১০)। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গামারীডালা এলাকায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটির মা মোসা. আমেনা আক্তার বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে দীঘিনালা থানায় এসে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ছেলেকে নিজের সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেন। শিশুটিও তাকে নিজের মা হিসেবে শনাক্ত করলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় দীঘিনালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, শিশুটি নিরাপদে রয়েছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। পরিচয় শনাক্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় মানবিক ও পেশাদার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ কাজ করে যাবে।

স্থানীয়রা শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় দীঘিনালা থানার পুলিশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেফতার ও রায় কার্যকর করা হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেফতার ও রায় কার্যকর করা হবে’

 

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের হাতে পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সাথে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

এসময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর রয়েছে। সবগুলো স্তরের নির্বাচন করার জন্য সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। নির্বাচন কমিশন তাদের বাজেট ইতিমধ্যে দিয়েছে। সদ্য পাস হওয়া জাতীয় বাজেটে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, অন্তবির্ভাগের সম্মতি ও স্থানীয় সরকারের এর মধ্যে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে এবং কোনটি পরে হবে। আগস্ট মাসের পর অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন একত্রে বসে এ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকারের অবস্থান হচ্ছে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। তাকে অবশ্যই জেলে যেতে হবে এবং মামলার যে রায় হয়েছে, সেটি কার্যকর করা হবে।

এসটিএস পরিদর্শনকালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় জোরদার পদক্ষেপের আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় জোরদার পদক্ষেপের আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) এ সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।

বুধবার ডিআর কঙ্গো সফরের সময় তিনি এই আহ্বান করেন।

ডিআর কঙ্গো ১৫ মে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে খবর পাওয়া গেছে কিনশাসা থেকে। ডব্লিউএইচও কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, এ প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৭৪ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ৭৫১ জন মারা গেছে।

টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস মঙ্গলবার কিনশাসায় পৌঁছান। তার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির সঙ্গে বৈঠক করবেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমের বৈঠকের পর টেড্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, ‘আমাদের প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেয়ে দ্রুত গতিতে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি হটস্পটে নতুন রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের সব প্রচেষ্টা জরুরি ভিত্তিতে এবং ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।’

তার মতে, ‘এর অর্থ হলো, নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে। সমন্বয় জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, নজরদারি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফনের ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।’

আগস্ট মাসের শেষ দিকে টেড্রোস ইতুরি প্রদেশ সফর করেছিলেন, যেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ইবোলা রোগী উপস্থিত।

পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি প্রদেশে সরকারের উপস্থিতি দুর্বল, এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত।

এ সপ্তাহে ইতুরির মংবওয়ালুতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের চলমান সংকট স্পষ্ট হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতে ১০০ শয্যার একটি নতুন ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র চালু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে।

শরীরের তরলের সংস্পর্শে ইবোলা ছড়ায় এবং এতে রক্তক্ষরণের জন্য জ্বর দেখা দেয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এ রোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

-টিকা এবং চিকিৎসা-

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যা বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।

মঙ্গলবার কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নাকে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে।

গত জুলাইয়ের শেষে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি আরেকটি সম্ভাব্য টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এ টিকাটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।

এছাড়া, সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিলেম্যান ল্যাবরেটরিজ বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৃতীয় একটি সম্ভাব্য টিকার মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডব্লিউএইচও এর মতে, এটি সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক, কারণ এতে একই আরভিএসভি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদিত একমাত্র ইবোলা টিকা এরভেবো-তে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এরভেবো জাইর নামক ভিন্ন ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।

ইতুরিতে নিশ্চিত ইবোলা রোগীদের ওপর বর্তমানে দু’টি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষা চলছে। এগুলি হচ্ছে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির। এ দুটি চিকিৎসা পৃথক এবং সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে নিশ্চিত বুন্ডিবুগিও ইবোলা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের জন্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ওবেলডেসিভির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর সমাপ্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর সমাপ্ত

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কোহলার আজ বাংলাদেশে তার সরকারি সফর শেষ করেছেন। তিনি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক করেছেন।

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সফরকালে অ্যাডমিরাল কোহলার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খন্দকার মিসবাহ উল আজিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার বিভিন্ন উপায় পর্যালোচনা করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই দেশের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রতিফলন।

এতে আরও বলা হয়, সামুদ্রিক ক্ষেত্র এবং বিস্তৃত নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে অ্যাডমিরাল কোহলারের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%