০২:১৪ এম
ইসলামে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে ‘ঘর বন্ধ’ করা একটি পরিচিত প্রথা, যা বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। কেউ অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে, কেউ পারিবারিক বিশ্বাস থেকে, আবার কেউ ধর্মীয় বিধান মনে করে এ ধরনের কাজ করে থাকেন। তবে প্রশ্ন হলো, ‘ঘর বন্ধ’ করা কি শরিয়তসম্মত?
ইসলামি শরিয়তে কোনো কাজের বৈধতা নির্ভর করে তার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও বিশ্বাসের ওপর। ঘর বন্ধ বলতে যদি ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা বা নিরাপত্তার জন্য ঘর তালাবদ্ধ করাকে বোঝানো হয়, তাহলে তা স্বাভাবিক ও বৈধ কাজ।
তবে ঘর বন্ধ বলতে যদি বিশেষ মন্ত্র, তাবিজ, অজানা শব্দ, কুসংস্কার কিংবা অলৌকিক ক্ষমতার দাবিতে কোনো নির্দিষ্ট আচার পালন করাকে বোঝানো হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন। এ ক্ষেত্রে কাজটির প্রকৃতি ও তাতে কী বিশ্বাস করা হচ্ছে, তা যাচাই করা জরুরি। শিরক, প্রতারণা বা শরিয়তবিরোধী বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত কোনো কাজ ইসলাম সমর্থন করে না।
আরও পড়ুন: সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত
ইসলামে বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা, কোরআন তিলাওয়াত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির এবং শরিয়তসম্মত রুকইয়ার গুরুত্ব রয়েছে। তাই অজানা পদ্ধতি বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে কোরআন-সুন্নাহসম্মত আমল অনুসরণ করাই উত্তম।
এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রথাকে সরাসরি জায়েজ বা নাজায়েজ বলার আগে ‘ঘর বন্ধ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তের জন্য প্রথাটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে অভিজ্ঞ ও যোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন