ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রামিসা হত্যার রায় আজ, সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার


রামিসা হত্যার রায় আজ, সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ রবিবার (৭ জুন) রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। গত বৃহস্পতিবার, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর এ দিন রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণার জন্য প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পুলিশি পাহারায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হবে। সেখান থেকে কিছুক্ষণ পরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের নিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকার নিম্ন আদালতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হবে বলে আদালতের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে মামলাটি বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৯ মে দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিট অর্থাৎ ২০ মে মামলা দায়েরের পর ৫ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ওই দিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন এবং তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর পর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারিকের ছুটি বাতিল করে এ মামলাটির শুনানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে পরদিন, মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। ২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত একদিনেই সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা শেষ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক আজকের জন্য রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং পরবর্তীতে যুক্তিতর্ক শেষে আজ রবিবার রায়ের দিন নির্ধারণসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। সভায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ, আর আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার যাবজ্জীবন চান। তবে আসামিপক্ষের দাবি, এ মামলায় সহযোগিতার দায়ে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সাত বছরের সাজা দেওয়া হোক। রায় ঘোষণার পর সেটি কার্যকর হতে কতদিন লাগতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সেটি একমাত্র উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, রায়ে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই চাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রায় ঘোষণায় ট্রাইব্যুনাল দেবেন। রায় ঘোষণার পরে তা কার্যকর হতে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বিচারিক আদালতে রায়ের পরে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উচ্চ আদালতের বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটিও থাকে। সেক্ষেত্রে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি চাইলে দ্রুত এই রায় কার্যকর করার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত শেষ করতে পারবেন। সেটি একান্তই তার এখতিয়ার। গত বৃহস্পতিবার, যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলায় সম্পূর্ণরূপে সাক্ষ্য প্রমাণ আদালতে প্রমাণ হয়েছে। গত বুধবার, আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। সুতরাং আমরা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা মৃত্যুদণ্ড সেটি চেয়েছি। অপরদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহও আসামি সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তার যাবজ্জীবন চান। অপরদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার যেহেতু তাকে এ হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছেন এজন্য তাকে ২০১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড চেয়েছেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে এসব জানান তিনি। যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এই মামলার বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে শুনানি করেন। এ সময় তিনি আসামি সোহেল এবং স্বপ্নাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ পড়ে শোনান। একই সঙ্গে মামলার বাদী এবং রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগ আদালতে পড়ে শোনান। একইভাবে মামলাটির সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এই পিপি বলেন, মামলার প্রত্যেকটা সাক্ষী রামিসার গলাকাটা লাশ দেখেছেন বলে এখানে জবানবন্দি দিয়েছেন। ডলারের নাম আসার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামি জবানবন্দিতে ডলারের নাম বলেনি। এটি মূলত সে যখন অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে কারাগারে ছিল, সেখান থেকে অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে এই বুদ্ধি-পরামর্শ পায়। তবে একই সঙ্গে যেটা বলা উচিত, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসামি সোহেল কিন্তু স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়েছেন। বলা যায়, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। এই মামলায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে পিপি দুলু আদালতে বলেন, সে (স্বপ্না) কিন্তু রামিসার এই অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে জানাতে পারত। কিন্তু তিনি তা করেননি। শুধু সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন, এমনটি নয়, পুরো ব্যাপারে স্বপ্না সেখানে অবস্থান করে সহায়তা করেছেন। তিনি যদি নিরপরাধ হতেন, তাহলে কাউকে জানাতেন। পিপি তদন্ত কর্মকর্তার ওইদিনের সিসিফুটেজ না পাওয়ার বিষয়ে আদালতে বলেন, সিসিফুটেজে না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, পল্লবী এলাকা এত ডেভলপ হয়নি, এজন্য সিসিফুটেজে পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টা পর্যন্ত একটানা শুনানি করেন রাষ্ট্র পক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। পরবর্তীতে ১টা ৩১ মিনিট থেকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন। তিনি আদালতে বলেন, শুধু জবানবন্দির আলোকে চার্জশিট দিয়ে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন নেশাগ্রস্ত আসামি কি জবানবন্দি দিয়েছেন তা গ্রহণ করা যায় না। এটা বলে শুনানি শেষ করেন। পরে পিপি দুলু আসামিপক্ষের আইনজীবী ও আদালতকে বলেন, ঘটনার সময় সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিল, সেটা কোথাও প্রমাণিত হয়নি। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীও বিষয়টি মেনে নিলে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে, আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে, একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে, রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে, তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী, আসামি মো. সোহেল রানা হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২২ এম


সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারত থেকে ছয়জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৬ জুন) ভোর ৪ টার দিকে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ওই ছয়জন কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

জানা যায়, এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে বিজিবি এবং বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই রাজেন্দ্র কুমার পোয়ালে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই ওসিকুর রহমান। তবে বৈঠক হলেও কোন দেশ তাদের নিতে চায়নি। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৫০ গজ দূরে কাঁটাতারের পাশে তারা ভারতের ভূখণ্ডের অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ২০২০ সালে তারা ভারত যান এবং সেখানে জেল খাটার পরে শুক্রবার বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তের কাছে নিয়ে এসে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি বলে দাবি করেন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের মেইল পিলার ১০৪ এর সাবপিলার ৫ এর কাছ থেকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়ার মাধ্যমে ছয়জনকে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা ভারতের সীমান্তে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিএসএফ তাদের গ্রহণ না করায় তারা কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, দুজন নারী এবং এক শিশু রয়েছে।

তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৪ এম


সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই, পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের দেশকে তুলে ধরতে চাই।

মন্ত্রী আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে পুলিশ কনভেনশন হলে রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউ কর্তৃক ‘ডিডিসি সন্ধানী’কে একটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্লাড স্টোরেজ রেফ্রিজারেটর এবং মেডিকেল সামগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তের নিরাপদ সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, দুর্ঘটনা ও জরুরি অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে এই রেফ্রিজারেটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, রক্ত একটি জীবনদায়ী উপাদান। এর সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এডুকেশন স্কিল, কেয়ার গিভার, ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপরে জোর দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজ থেকে মাদকাসক্ত দূর করতে, জুয়াখেলা নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে, রামিসার মত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যাতে না ঘটে এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে জুন মাসের পর অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম প্রথম ঢাকাতে শুরু করতে চাই। এরপর পুরো দেশে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি সরকারের পাশাপাশি প্রচার, প্রচারণায় জনগণকে সচেতন করতে মিডিয়ার ভূমিকার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন এবং পিডিজি ড. ইশতিয়াক এ. জামান, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউর প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ও ক্লাব ডিরেক্টর রোটারিয়ান মো. সালাহ উদ্দিন, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউর সভাপতি রোটারিয়ান ডাক্তার লুবনা শারমিন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রাপ্যতা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। এই রেফ্রিজারেটর ডিডিসি সন্ধানীর সক্ষমতা বাড়াবে এবং সারাদেশে রক্ত সরবরাহে সহায়তা করবে।

রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সভাপতি আরটিএন ড. লুবনা শারমিন পিএইচএফ বলেন, রোটারির মূলমন্ত্র ‘সার্ভিস অ্যাবভ সেল্ফ’। আমরা বিশ্বাস করি, ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই ব্লাড স্টোরেজ রেফ্রিজারেটর ডিডিসি সন্ধানীর মাধ্যমে প্রতিদিন অনেক মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাবে।

ক্লাবের ডিরেক্টর ও প্রোগ্রাম চেয়ার মো. সালাহ উদ্দিন পিএইচএফ জানান, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্লাবের সদস্যরা একযোগে কাজ করেছেন। আমরা ডিডিসি সন্ধানীর সঙ্গে ভবিষ্যতেও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চালিয়ে যাব।

ডিডিসি সন্ধানী দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান কর্মসূচি, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা ও রক্ত সরবরাহে কাজ করে আসছে। নতুন এই আধুনিক রেফ্রিজারেটর সংস্থাটির সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং রক্তের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউ (ক্লাব আইডি: ৮৪৭৩৩) বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে রোটারিয়ান, চিকিৎসক, সন্ধানীর কর্মী, সামাজিক কর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশে চার পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৮ এম


মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশে চার পরিবর্তন

বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেওয়ার আগে ব্রাজিল রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার মুখোমুখি হয়েছিল। তারা ৬-২ গোলে ম্যাচটি জিতে দেশ ছাড়ে। রবিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় বিশ্বকাপের আগে সেলেসাওরা শেষ ম্যাচ খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ মিসর। দুই দলের জন্য এটি বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচ।

পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচের একাদশ থেকে ব্রাজিল মিশরের বিপক্ষে চারটি পরিবর্তন এনে মাঠে নামছে। ডিফেন্সে ব্রেমারের পরিবর্তে মার্কিনিয়োস খেলবেন, আর আলেক্স সান্দ্রোর স্থানে বাঁ প্রান্তে ডগলাস সান্তোসকে দেখা যাবে। মাঝমাঠে ম্যাথেউস কুনিয়ার জায়গায় লুকাস পাকেতা জায়গা পেয়েছেন। আক্রমণভাগে লুইজ হেনরিকের পরিবর্তে ফরোয়ার্ড ইগোর থিয়াগো সুযোগ পেয়েছেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা থাকা গ্যাব্রিয়েল মাগালেসকে শারীরিক ধকল এড়াতে বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

ম্যাচে কতজন খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেন, ‘আগামীকাল কতজন খেলবে, সেটা এখনই বলতে পারছি না। একটু অপেক্ষা করুন। এটা সংখ্যার বিষয় নয়। আমার কাছে স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ই শুরুর একাদশে খেলার যোগ্য। প্রথম ম্যাচের জন্য সেরা দল বেছে নেওয়ার দায়িত্ব আমার। তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ম্যাচে একাদশ বদলে যেতে পারে। আমার মাথায় একটি পরিকল্পনা আছে, কিন্তু প্রথম ম্যাচটা কারা শেষ করবে, তা আমি নিজেও জানি না।’

মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের দলের খেলোয়াড়রা হলেন- এলিসন বেকার, ওয়েসলি, মার্কিনিয়োস, লিও পেরেরা, ডগলাস সান্তোস, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস, লুকাস পাকেতা, রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগোর থিয়াগো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের আগে ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্যস্ত হাতি-গরিলা-জিরাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


বিশ্বকাপের আগে ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্যস্ত হাতি-গরিলা-জিরাফ

অনেকের মনে পল অক্টোপাসের কথা নিশ্চয়ই আছে। ২০১০ বিশ্বকাপে এই জলজ প্রাণীটি নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল। এ কারণে এবারও বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেক প্রাণীকেই ব্যবহার করা হচ্ছে জ্যোতিষবিদ্যার অংশ হিসেবে।

এমনই একটি মনে রাখার মতো উদাহরণ হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী। দুই হাতি এই ম্যাচটি নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছে। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানায় দুটি হাতির সামনে ছিল আলাদা আলাদা খাবার। একদিকে ছিল মেক্সিকোর পতাকা, যেখানে ঘাস রাখা ছিল। অন্যদিকে রাখা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা, যা সবুজ পাতা দিয়ে সাজানো।

হাতি দুটি ধীর পায়ে ধীরে ধীরে মেক্সিকোর পতাকার দিকে চলে যায়। এর অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকো জিতবে।

এটা শুধুমাত্র হাতির ভবিষ্যদ্বাণী নয়, আরও ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য ‘চেনচি’ ও ‘ফাউস্তিনা’ নামে দুটি গরিলাকে হাজির করা হয়েছিল।

গরিলাগুলো স্পেন ও উরুগুয়ের ২৬ জুনে মাঠে নামার ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তাদের সামনে দুটি পাত্রে ঝুলানো ছিল ‘পিনিয়াটা’, যা খাবার বা খেলনা ভরা রঙিন পাত্র হিসেবে পরিচিত। এসব দেখে একটি গরিলা দ্রুত উরুগুয়ের জার্সির পাত্রের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এছাড়াও, ‘মুলুক’ নামে একটি পুমা ও ৬টি জিরাফও নিজেদের পছন্দের জয়ী দলের নাম জানিয়ে দিয়েছে। পুমা চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়াকে জয়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অন্যদিকে, জিরাফগুলো জানিয়েছে যে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো জিতবে।

গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানার কিপার ইভান রেইনোসো জানিয়েছেন, প্রাণীদের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী কাজ চলতে থাকবে। তিনি এএফপিকে জানান, ‘বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচ নিয়ে এই প্রাণীরা তাদের মতো করে ভবিষ্যদ্বাণী করবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%