বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৩৯ পি.এম
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে এক ডিজিটাল প্রতারক গ্রেপ্তার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করলেও গ্রেপ্তারকৃত রোহান যাদব মূলত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রোহান যাদবের নেতৃত্বে একদল প্রতারক নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক বৃদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা বৃদ্ধকে জানায় যে, তিনি একটি মামলায় অভিযুক্ত। প্রতারকরা বৃদ্ধকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর হুমকি দেয়। আইনি ব্যবস্থা বাঁচানোর অছিলায় তারা বৃদ্ধকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ট্রান্সফার করতে বলেছিল।
পরে, প্রতারিত হওয়া বৃদ্ধ পুলিশে যোগাযোগ করেন।
প্রতারকদের ধরতে পুলিশ একটি ফাঁদ পাতে। একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় পুনে পুলিশ একজন অভিযুক্তকে খুঁজে পায়। এরপর তাদের মধ্যে হর্ষদ সুভাষ ধানতোলে, সমর্থ সুরেশ দেশমুখ এবং অমর শিবাজি আত্তারগিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন, ধানতোলে জানায় যে, সে যাদবকে তুলে নেওয়া টাকাগুলো দিয়েছিল; যে তখন পলাতক ছিল।
মাসতরিড ছিলেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা যাদব, যে মোট ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণা করা ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ট্রান্সফার করেছিল। তদন্তে দেখা যায়, সে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে হংকংয়ের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত এবং প্রায়ই তাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাবার্তা বলত।
পুলিশ জানিয়েছে, যাদব ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তার হংকংয়ের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করত এবং ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রায় টাকা পাঠানোর জন্য মোটা কমিশন পেত। কর্মকর্তারা জানান, ইনফ্লুয়েন্সার যাদব সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্টের কাজও করত।
রোহান যাদবের বিরুদ্ধে পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তার সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক উৎস বন্ধ করে দেওয়ার পর, সে গ্রেপ্তার এড়াতে শুক্রবার পুনের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এরপর, পুনে সাইবার পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তাঁর দেশে ফেরার খবরের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এই বিষয়টি অনুসরণ করছেন।
নেপালে ফেরার পর, দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, দেশে ফিরে সেখানে থেকেই রাত্রি যাপন করবেন।
অবশ্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের দিকে রওনা হন। এরপর থেকে দেউবা প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটান। তবে তার এই দীর্ঘ বিদেশ অবস্থান এবং চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি কি ছিল, সেই সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে যাত্রা করলেও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সেখানে পৌঁছান। দেউবা, রানাসহ তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ের উদ্দেশে গেছেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার, যা ঘটে, দেউবা দেশে ফিরে এলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান সক্রিয়ভাবে জানা যাচ্ছে না। দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন।
কিন্তু কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন, কিংবা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এইদিকে, প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে যাতায়াত এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় যে তারা বহন করেছেন, সেটিও নিয়ে আলোচনা উঠেছে।
৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা, যিনি নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হয়ে নেপালের জেন-জি আন্দোলন, দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন বাড়তে থাকলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীকালে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এদিকে একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতিও এলাকার বিশেষজ্ঞ মোস্তফা খোশচেশম দাবি করেন।
তিনি আল-জাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এমন একটি পথ খুঁজছেন, যা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সাহায্য করবে এবং ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হবে না।
খোশচেশমের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপক্ষে গেলেও ট্রাম্প কখনও নিজেকে পরাজিত হিসেবে উপস্থাপন করেন না। তিনি সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি ‘দরজা’ খুঁজছেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিজয় হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “মাঠে যা-ই ঘটুক না কেন, ট্রাম্প কখনও বলবেন না যে, তিনি পরাজিত হয়েছেন।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট চেষ্টা করছেন এমন একটি পথ খুঁজতে, যেটির মাধ্যমে তিনি সংঘাতের সমাপ্তি ঘটিয়ে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
“তিনি বিজয় দাবি করে বেরিয়ে যাওয়ার একটি দরজা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন; কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছেন,” খোশচেশম বলেন।
বিশেষজ্ঞের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, সেগুলো মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রিত করিডর ব্যবহার করেই পার হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ যাচ্ছে, তারা ইরানের করিডর ব্যবহার করছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই যুদ্ধে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন।”
হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাজারে একটি বিরাট প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালি অন্যতম প্রধান কৌশলগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের জন্যও এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, প্রণালিটির উন্মুক্ত এবং নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্কিত।
এই কারণে, দুই দেশের মধ্যে চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ চলাচলের কেন্দ্র করে।
বড় হামলার আশঙ্কা
খোশচেশমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজলেও অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মার্কিন দূতাবাসগুলোকে ন্যূনতম সক্ষমতায় পরিচালনের নির্দেশ দিয়েছে। তার অভিমত, এটি একটি ইঙ্গিত যে, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে মার্কিন সরকার ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের নতুন হামলা সম্পর্কে কোনো পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। তাই বিশেষজ্ঞের এই মন্তব্যকে তার নিজস্ব মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যাহোক, দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সাধারণত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের সংকেত দিতে পারে। বিশেষ করে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে।
সংঘাত থামানোর চেষ্টা নাকি নতুন হামলার প্রস্তুতি?
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য রয়েছে। একদিকে সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং অন্যদিকে সামরিক চাপ বজায় রেখে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা।
খোশচেশমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এমন কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি, যা প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিকভাবে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব না হওয়া এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় ওয়াশিংটন আরও বড় সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপই সংঘাতের গতিপথকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যদি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে না; বরং হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প সংঘাতের অবসান ঘটানোর কোনো সমঝোতায় পৌঁছান, তবে তাকে সেটিকে রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করার চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করতে হবে।
এভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে একটি বড় প্রশ্ন বিদ্যমান রয়েছে- ওয়াশিংটন কি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসবে, নাকি আরও বড় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান তার সামরিক কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রদান করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধকে শুধু ইরানের ভূখণ্ডে প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং প্রয়োজনে শত্রুর ভূখণ্ডেও যুদ্ধ নিতে চাওয়ার সক্ষমতা যেন তাদের মধ্যে থাকে।
সম্প্রতি, আইআরজিসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাঘদি বলেন, ইরানের নতুন সামরিক নীতির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এমন সক্ষমতা তৈরি করা, যা দ্বারা প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হবে।
তিনি দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে যে গতিতে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তা এখনকার গতির তুলনায় অগ্রগতি লাভ করছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হলে দেশের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা থাকবে।
নাঘদির বক্তৃতা অনুযায়ী, ইরানের সামরিক শিল্প এখন শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অস্ত্র তৈরি করছে না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এমন সংঘাতের জন্যও প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিকে একদিকে শক্তিশালী এবং অন্যদিকে সম্ভাব্য শত্রুকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইছে।
ইরান দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জনের একটি প্রমাণিত রেকর্ড রেখেছে। তাই বর্তমানে দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) থাকা অত্যাশ্চর্য বলা চলে না।
বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো খোররামশাহর, যার পাল্লা ৪ হাজার কিলোমিটার। এখন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ১২ হাজার কিমি পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে।
১২ হাজার কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার বিষয়টি যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভূখণ্ড থেকে বিশ্বের যেকোন জায়গায় আঘাত করায় সক্ষম।
ইরানের সামরিক নীতিতে ‘শত্রুর ভূখণ্ডে যুদ্ধ নিয়ে যাওয়ার’ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এতদিন ইরানের সামরিক বক্তব্যে মূলত দেশের ভূখণ্ডে আগে আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সম্ভাব্য হামলার জবাব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন বক্তব্যে, ইরান এখন আক্রমণাত্মক সক্ষমতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
নাঘদির মন্তব্য থেকে প্রতিভাত হচ্ছে যে, ইরান ভবিষ্যতের সংঘাতে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আটকানোর ওপর নির্ভর করতে চায় না। বরং প্রয়োজনে শত্রুর সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা ও তা প্রতিহত করার সক্ষমতাকেও নিশ্চিত রাখতে চায় তেহরান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের জন্য কৌশলগত বার্তা। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, যদি তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান হয়, তবে সংঘাত কেবল ইরানের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। নাঘদি দাবি করেছেন, এসব অস্ত্র উৎপাদনের গতি বর্তমানে ব্যবহৃত গতিকে ছাড়িয়ে গেছে।
এতে ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, সংঘাত চলাকালীন ইরান নতুন অস্ত্র তৈরি করে মজুত পুনরায় পূরণ করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এই ধরনের উৎপাদন সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি মূল উপাদান। একই সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা যায় এমন ড্রোনকে দীর্ঘপাল্লার হামলা এবং নজরদারির ক্ষেত্রে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নাঘদির বক্তব্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তা হলো শুধু অস্ত্রের সংখ্যা নয়, যুদ্ধ চলাকালে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রাখা।
আইআরজিসির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পর তেহরান তার প্রতিরোধ সক্ষমতার ওপর একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছে। এবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে যুদ্ধকে শত্রুর ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের দৃষ্টিতে, সম্ভাব্য মার্কিন বা মিত্র বাহিনীর হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণ করার সক্ষমতা থাকলে প্রতিপক্ষের জন্য সামরিক অভিযান চালানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
নাঘদি আরও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যেতে পারবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রাখছে।
এ ধরনের প্রস্তুতির মধ্যে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো, সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধরে রাখার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। তবে ইরানের এই দাবিগুলোর বাস্তব সক্ষমতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তবে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইরান ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতে কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে চাইছে না। বরং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাকে সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ফলে, ইরানের নতুন সামরিক মতবাদ সম্পর্কিত এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে নতুনভাবে তাৎপর্য তৈরি করেছে। বিশেষভাবে যদি ইরান সত্যিই যুদ্ধকে শত্রুর ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতে যদি কোনো সরাসরি সংঘাত ঘটে, তার পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছেন, দেশের প্রতি প্রেম ও责任বোধ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায়, রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজধানীতে দেশী এবং বিদেশী কূটনীতিকসহ সব স্তরের মানুষ বসবাস করেন। তাই, রাজধানীর আইন ও শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাটা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
মাঠপর্যায়ের কাজকে গতিশীল করতে সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক তদারকি থাকলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহী হয়।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। তবে, ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। সেই পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের একটাই পরিচয়, আমরা আইন ও জনগণের সেবক। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্তি আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপএমসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ