ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা করবে ইউজিসি


আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা করবে ইউজিসি

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষায় পিএইচডিধারী শিক্ষকের অভাব পূরণ এবং দেশের গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এবং বিদেশে অন্তত ৩ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া, হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় গবেষণার মানোন্নয়নে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে হিট প্রকল্পের আওতায় এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ইসলামে ব্যবসার ১০টি মূলনীতি: সততা, মিথ্যা ও প্রতারণার নিষেধ

ইউজিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় পিএইচডিধারী শিক্ষক ও দক্ষ গবেষকের সংখ্যা এখনও যথেষ্ট নয়। এই ঘাটতি পূরণের জন্য চলতি বছর ইউজিসির পিএইচডি ফেলোশিপের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী বছর এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম গবেষক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

হিট প্রকল্পের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার গবেষণা অনুদান সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা প্রস্তাবের গুণগত মান, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণার অবদানকে মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য উপপ্রকল্প নির্বাচন করে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে হিট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

এছাড়া, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন ও কোষাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে স্থায়ী রূপ দিতে গাজীপুরে একটি ‘উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি’ এবং ঢাকার বাইরে আরও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, হিট প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের তিন থেকে ছয় মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ দিতে এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এসব একাডেমিতে শিক্ষক ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি শিল্প খাতের নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, এ প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা উচ্চশিক্ষায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনবে।

গত ৯ থেকে ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ছয় দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সচিব পদায়ন নিয়ে জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে রুল

সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান, অ্যাডভান্স এইচইর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মার্ক ফিলিপ ও হারা, হিট প্রকল্পের চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক সেলিনা জামান এবং ইউজিসির সংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাপ্তাহিক ছুটি কোন দেশে কি বার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


সাপ্তাহিক ছুটি কোন দেশে কি বার?

অনেকের কাছে শুক্রবারের দিন ছুটির দিন হিসেবে পরিচিত। তবে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করা হয় না। বেশ কিছু দেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়। কোথাও শনিবার ও রোববার সরকারি ছুটি, কোথাও সপ্তাহে দুই দিন ছুটি হলেও তা পরপর নয়, আবার কোথাও টানা তিন দিনের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে।

ধর্মীয় রীতিনীতি, সরকারি নীতিমালা এবং স্থানীয় কর্মসংস্কৃতির ভিত্তিতে এসব পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাপ্তাহিক ছুটি কিভাবে পালিত হয়, তা জানার চেষ্টা করা যাক—

সৌদি আরব: শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি

দ্য ন্যাশনাল-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে সরকারি দপ্তরগুলো রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে পালন করা হয়।

২০১৩ সালের জুন মাসে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর আগে, সেখানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আন্তর্জাতিক বাজার ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

কাতার: রোববার থেকে শুরু হয় কর্মসপ্তাহ

কাতারে সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মসপ্তাহ রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি দপ্তরের সাপ্তাহিক ছুটি।

২০২৫ সালের আমিরি সিদ্ধান্ত নম্বর ৫৭-এর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের কর্মীদের কর্মসূচি নিয়োগকর্তা এবং ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশ: শুক্রবার ও শনিবার সরকারি দপ্তর বন্ধ

বাংলাদেশে সরকারি দপ্তরগুলো সাধারণত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এর ফলে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রোববার একটি স্বাভাবিক কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হয়।

তবে, এই ব্যবস্থা সব কর্মক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কিছু বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনিবারও খোলা থাকে।

ব্রুনাই: পরপর নয়, সপ্তাহে দুই দিন ছুটি

ব্রুনাইয়ের সরকারি দপ্তরগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্ন। এখানে টানা দুই দিন ছুটির পরিবর্তে সরকারি কর্মচারীরা সাধারণত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার কাজ করেন। শুক্রবার ও রোববার তাদের সাপ্তাহিক ছুটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ: সরকারি কর্মীদের টানা তিন দিনের ছুটি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের একটি শারজাহতে সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলো সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার, শনিবার ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।

ইসরাইল: ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত হয়

সাধারণত শনিবার ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হয়—এমন দেশগুলোর তুলনায় ইসরাইলের সাপ্তাহিক বিশ্রামের ব্যবস্থা ভিন্ন। ইহুদি কর্মীদের জন্য শনিবার প্রধান সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিন। এটি ইহুদি ধর্মের শাব্বাত পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কেন বিভিন্ন দেশে সাপ্তাহিক ছুটি ভিন্ন হয়?

দেশভেদে সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থায় পার্থক্য থাকার পেছনে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রথা। ইসলামে শুক্রবার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মে শনিবার ঐতিহ্যগত বিশ্রামের দিন। আবার খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রয়েছে এমন বহু দেশে রোববারকে বিশ্রামের দিন হিসেবে পালন করা হয়।

অর্থনৈতিক বিবেচনাও কর্মসপ্তাহ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে কিছু সরকার তাদের সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্টের নোটিস, মোদি সরকারকে সিইসি ও যন্তর মন্তর ইস্যুতে জবাব দিতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


সুপ্রিম কোর্টের নোটিস, মোদি সরকারকে সিইসি ও যন্তর মন্তর ইস্যুতে জবাব দিতে হবে

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মোদি সরকার এবং দিল্লি পুলিশের কাছে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জবাব চেয়েছে। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নোটিস প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শীর্ষ আদালত জানায়, “আমরা কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের জবাব চেয়েছি। আগে তারা জবাব দেবে। যদি সেই জবাবে সন্তুষ্ট হওয়া না যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এছাড়াও, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতাদের দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্যদের নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশির কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবিলা-নেহালের সংসারে ভাঙনের গুঞ্জন, সন্দেহ শাকিব খানকে কেন্দ্র করে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


সাবিলা-নেহালের সংসারে ভাঙনের গুঞ্জন, সন্দেহ শাকিব খানকে কেন্দ্র করে

ঢালিউড পাড়ায় সম্প্রতি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে আর একসঙ্গে বসবাস করছেন না। ২০১৯ সালে তারা যখন গাঁটছড়া বাঁধেন, তখন তাদের সুখী সংসার নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের অভাব ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরেছে, যা এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল।

এই গুঞ্জনের পেছনে রয়েছেন মিলি সুলতানা, যিনি একজন অ্যাক্টিভিস্ট এবং সমালোচক। তার ফেসবুক পোস্টগুলোই মূলত সাবিলার বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে উসকে দিয়েছে। মিলি সুলতানার একটি দীর্ঘ পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবিলা অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার শুটিং সেট থেকেই নাকি তাদের সংসারের ভাঙনের সূচনা হয়েছিল। পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ঘনিষ্ঠতা বাড়ার কারণে নেহালের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া, মিলি সুলতানা সাবিলার বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলতে অন্য নায়িকাদের সঙ্গে শাকিবের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

মিলি সুলতানা তার পরবর্তী পোস্টে আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, ‘রকস্টার’ সিনেমার ডিওপি আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর সাবিলা ও নেহালের সাত বছরের সম্পর্কের মধ্যে চির ধরে গেছে।

অন্য একটি পোস্টে মিলি সুলতানা দাবি করেন, ‘যদিও শাকিবের সঙ্গে সাবিলা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন, তবে তার ঘর ভাঙার জন্য আবদুল মামুন দায়ী—এ বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের চাঞ্চল্যকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একদল নেটিজেন এসব দাবিকে বানোয়াট ও মনগড়া গল্প বলে উড়িয়ে দিলেও অন্য একটি পক্ষ শাকিব খানের অতীতের ঘটনার কথা উল্লেখ করে এটিকে সত্যি বলার চেষ্টা করছেন।

অনেকে মনে করছেন, শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মিলি সুলতানার এই দাবিগুলো ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, কিন্তু এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি জামায়াতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে সারের তীব্র সংকট এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, ‘দেশে সংকটের অভাব নেই; যেখানেই হাত দেবেন, সেখানেই সংকট। সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব কৃষি খাত ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়ছে। বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সার বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, একজনের দায়িত্ব হলেও কথা বলছেন অন্যজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণেই দেশে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলার নিয়োগের ন্যূনতম শর্ত মানা হয়নি। দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘গবেষণামূলক প্রতিবেদন ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় তীব্র সারের সংকট তৈরি হয়েছে এবং কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক এলাকার বাসিন্দাকে অন্য এলাকায় সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি, এমনকি ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দেখিয়েও ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ডিলার নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের যৌথ নাম পাওয়া গেছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের কোনো মন্ত্রীই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে এখন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়, বরং ‘সবার আগে দল’ নীতি চলছে। আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে এসব ডিলারশিপ বণ্টন করা হয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়ায্জম হোসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. আব্দুর রব, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

জামায়াতের ৬ দফা দাবি হলো—

১. সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. ডিলার নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. সারের সংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতির অসংগতি যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

৫. ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে।

৬. প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না; যেকোনো অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সারের সংকট সম্পর্কে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। বিগত ছয়-সাত মাসে সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ ও দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ওপর চাপানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমন-পীড়নমুক্ত একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিপন্থি। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংস্কার করে ফ্যাসিবাদের মতো ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা চলছে।’

পরশেষে তিনি বলেন, গণভোটে নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আলোকেই সংবিধান সংশোধন করা উচিত। রাজপথে সংকট না বাড়িয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনেই বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংস্কারসহ সার, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%