০৯:৩২ পি.এম
দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকবার পর অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কারকৃত পাঠাগার। শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানের চর্চার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বুধবার (২৪ জুন) বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন চত্বরে পুরনো ভূমি অফিস ভবন সংস্কার করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক এই পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এই পাঠাগারের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক শামীম শিবলী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক, সুধীজন ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রদর্শনী
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বইয়ের সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি পাঠাগার শুধুমাত্র বই পড়ার স্থান নয়, এটি জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র। দীর্ঘদিন পরে পাঠাগারটি পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক বইও রাখা হচ্ছে। পাঠাগারকে আরও প্রাণবন্ত ও পাঠকবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকবে। পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ ও সংযোজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাঠাগারের ভবন ২০০৯ সালে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর এলাকাবাসী একটি পাঠাগার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পুরনো পাঠাগারের প্রায় তিন হাজার বই নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর নতুন পাঠাগার নির্মাণের দাবি জোরালো হয়।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
প্রয়াত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা পাঠাগারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন