বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫২ পি.এম
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় সালিশ ব্যক্তিত্ব আব্দুল আহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি প্রায় আট মাস আগে ঘটেছিল। তবে, এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় অধিকাংশ এজাহারভুক্ত আসামি এখনও অধরা রয়ে গেছেন। ঘটনার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং নিরাপত্তার হীনমন্যতা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত হুমকি এবং বিচারহীনতার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
হত্যাকাণ্ডটির নেপথ্য এবং নৃশংসতার বিবরণ তুলে ধরতে গেলে জানা যায়, নিহত আব্দুল আহাদ এলাকায় একজন সফল ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সালিশ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হাট-বাজার, নদী ইজারা এবং বালু-পাথারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পরিবারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, অবৈধ কালোবাজারি ও চোরাচালানের প্রতিবাদ করায় তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের তীব্র রোষানলে পড়েন।
মামলার এজাহার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে আব্দুল আহাদকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আর তিনি জীবিত ফিরে আসেননি। পরদিন (১৫ ডিসেম্বর) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলস জেলার চেল্লা থানার আওতাধীন একটি নির্জন এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে নিয়ে এসে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরিবারের তথ্যমতে, আব্দুল আহাদের মাথা, বুক, গলা, কোমর এবং হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ রক্তমাখা টি-শার্ট, স্যান্ডেল, গ্যাস লাইট এবং ধস্তাধস্তির আলামত উদ্ধার করে। এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের অডিও বাদীপক্ষের কাছে পৌঁছায়। পরিবারের দাবি, যদি অডিওটির পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়, তবে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের পরিচয় অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রাপ্ত হয়েছে। ১ নম্বর আসামি আব্দুল আজিজ গং এলাকায় ভারতীয় গরু-মহিষের বিশাল সীমান্ত চোরাচালান এবং 'কালো স্মাগলিং' রাজত্ব পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠছে। প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি ভারত থেকে গরু-মহিষ বাংলাদেশে এনে ব্যবসা করেন। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দাম্ভিকতার সঙ্গে তিনি বলেন, "সরকারের রাজস্ব দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাই না, তাই রাজস্বও দিই না।"
একজন হত্যামামলার আসামির এমন খোলামেলা চোরাচালান এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিচিত ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি হলেন: ১. আব্দুল আজিজ (৫৫), পিতা: মৃত আব্দুল গফুর, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর। ২. ইয়াকুব আলী (৪০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর। ৩. কদ্দুছ আলী (৫০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর। ৪. ফয়ছল আহমদ (৩৫), পিতা: আব্দুল আজিজ, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর। ৫. (তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে)। ৬. নজরুল ইসলাম (৫০), পিতা: মৃত আতাউর রহমান, গ্রাম: দ্বীনেরটুক। ৭. আরিফুল ইসলাম (৩৫), পিতা: মৃত আমিনুল ইসলাম শাহা, গ্রাম: শ্রীপুর। ৮. ফখরুল আলম বাবলু (৩৫), পিতা: মৃত মুক্তার আলী, গ্রাম: শ্রীপুর। ৯. আব্দুল আলী (৪৫), পিতা: মৃত ছাদ উল্লা, গ্রাম: তেরাপুর (হাতিরভাঙ্গা)। ১০. আরমান আলী (৩৫), পিতা: কদ্দুছ আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলায় অভিযুক্তদের কয়েকজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাইরে এসে মামলা তুলে নিতে অণবরত চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিনিয়ত নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আসামিদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ ও সিআইডির প্রতি পরিবারের আকুতি: তদন্তের শ্লথগতি দেখে নিহতের ভাই মো. আ. কাইয়ুম ফারুক সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি আকুল কণ্ঠে জানান, "আমরা কোনো বৈষম্য বা অন্যায় চাই না, কেবল আমার ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই। প্রকাশ্যে ঘুরতে থাকা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।"
বর্তমানে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তভার সিআইডি (CID)-এর ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সিআইডি মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন: * দ্রুত পদক্ষেপ: পলাতক এবং চিহ্নিত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনা। * স্বচ্ছ তদন্ত: ফরেনসিক প্রমাণাদিসহ নিরপেক্ষ তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল। * নিরাপত্তা প্রদান: মামলার বাদী, সাক্ষী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। * দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: বিচারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে সমাজে আইনের শাসনের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনায় একজন যুবক শিবলী হোসেন রুবেলকে বিদেশি পিস্তল এবং গুলি সহ গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) নগরীর নিরালা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার ভোর চারটার সময় নগরীর মোতালেবের মোড় এলাকায় একজনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পর গোয়েন্দা বিভাগ এবং খুলনা থানা পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খালিশপুরে অবস্থিত গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি বলেন, অভিযানে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি চিহ্নিত সন্ত্রাসী পলাশ ও আশিক গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক অপরাধমূলক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৬৮ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমদকে কমিটির আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার দফতরের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) আবুল মালেককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল আলম সওদাগর।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে কমিটিকে অভিযোগসংক্রান্ত শিক্ষকদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করতে হবে, সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি অনুযায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমনের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এটি উল্লেখ্য যে, এ তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পূর্বে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত, কোনোটিই চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে ৫৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, টেকনাফের নাইট্যংপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গতকাল (বুধবার) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয় কোস্ট গার্ড স্টেশন, টেকনাফ।
এই অভিযান চলাকালে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ১ টি মোবাইল যন্ত্র এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত সিএনজিসহ একটি মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত আলামত এবং আটককৃত মাদক কারবারিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন কেরুনতলী এলাকায় সকালে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেসময় ব্যাটারী চালিত ভ্যান গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫ হাজার পিস ইয়াবা এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত ভ্যান গাড়িসহ আরেকটি মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত মাদক কারবারির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদকের বিস্তার রোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা, শিক্ষা, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইন এবং বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান এবং দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এসব দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তা করতে অস্ট্রেলিয়া বেশ আগ্রহী। আগে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, কিন্তু এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন এই কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, এর আইনি দিক এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসময় এই উদ্যোগে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও যুক্ত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একইসাথে শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
সুসান রাইল আরো জানান, শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনার সময় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত মানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এই লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি এবং আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই এসব বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখতে জোর দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে তারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ