ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হলেন ইবি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম


ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হলেন ইবি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম

ঢাকাস্থ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রুহুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলামকে ২৩ জুলাই (২০২৬) থেকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক তিনি সকল প্রকার দায়িত্ব ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

জানা গেছে, অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলামকে চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী লিয়েন চুক্তিতে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রেজিস্ট্রার পদ গ্রহণ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম বলেন, শুরুতেই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাকে এই দায়িত্ব দেন। আর যারা আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এই দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমি যেন এই দায়িত্ব সফল ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারি, সেই জন্য সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্লাসগোয় শুরু ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস, উদ্বোধন করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


গ্লাসগোয় শুরু ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস, উদ্বোধন করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা

গ্লাসগোয় শুরু হয়েছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্লাসগো শহরের প্রাণচাঞ্চল্য স্পষ্ট ছিল।

এবারের কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক দেশ স্কটল্যান্ড এটি চতুর্থবারের মতো। বর্তমানে ২৩তম আসরে ক্রীড়াপ্রেমীরা আগামী ১১ দিন ধরে উৎসবের আমেজ উপভোগ করবেন।

গতকাল গ্লাসগোয় এই উদ্বোধন করা হয়, যেখানে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার উপস্থিতি ছিল।

দ্য রয়েল ফ্যামিলি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে বলেছেন, গ্লাসগোয় শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী মুহূর্তটি ‘অবিশ্বাস্য সন্ধ্যা’ ছিল। এই অনুষ্ঠানটির ফলে গ্লাসগো এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

২৩তম গেমসে ৭৪টিরও বেশি দেশের ৩ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করছেন। ১০টি ইভেন্টের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তারা। তাছাড়া ৬টি প্যারা ইভেন্টও রয়েছে।

এই কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই শুরু হয়ে ২ আগস্ট শেষ হবে।

১৯৩০ সালে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ থেকে ১৭ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন এবং তারা ৪টি ইভেন্টে competing করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটির দিনে ঢাকার বায়ুমানে সুখবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


ছুটির দিনে ঢাকার বায়ুমানে সুখবর

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ প্রতিদিন বাড়ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের শিকার। তবে সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ধরে শহরটির বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে এসেছে। ধূলিকণা ধুয়ে যাওয়া কারণে, প্রায়ই বায়ুদূষণের শীর্ষ দশে অবস্থিত ঢাকার বাতাস এখন অনেকটাই নির্মল ও সহনীয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ছুটির দিন সকালে আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৪১তম স্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ৬৬, যা ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য মোটামুটি ভালো বা সহনীয় বলা যায়।

তালিকার শীর্ষ স্থান দখলকারী শহর কঙ্গোর কিনশাসার স্কোর ১৬৬, যা ওই শহরের বাসিন্দাদের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা উগান্ডার কামপালার বাতাসের দূষণের মাত্রাও অস্বাস্থ্যকর। কামপালার বায়ুমানের স্কোর ১৬৪।

এদিকে, সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর তালিকায় চারটি শহরের নাম উল্লেখ রয়েছে। এই শহরগুলো হলো- ভারতের দিল্লি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং ইরাইলের তেল আবিব।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে স্কোরকে মাঝারি হিসেবে ধরা হয়, আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচনা করা হয়। যখন স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হয়, তখন তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু হিসেবে মনে করা হয়।

এছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ প্রতিপন্ন করা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকতে এবং অন্যান্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে উপদেশ দেয়া হয়। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে ফের ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


বিশ্ববাজারে ফের ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

 

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুনভাবে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উদ্বেগের প্রভাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ঘটলো।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর চলতি ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতিটি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পথও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।

একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রতি থার্মে প্রায় ১৫০ পেন্স, যা জুনের শেষে প্রায় ৯৮ পেন্স ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমে গিয়েছিল এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও পরিবর্তিত হয়। এ সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা রয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। তেলের মূল্য বেড়ে গেলে সাধারণত পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে দেখা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে গত আড়াই সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় মূল্য বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড প্রতি লিটার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবার ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ পর্যায়ে থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লেও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ফেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঋণের সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তথাপি গত মাসে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফেডের প্রথম বৈঠকে সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির ১ যুগের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ বিস্ফোরণ-ই কি তার পতনের ঘন্টা ধ্বনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


মোদির ১ যুগের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ বিস্ফোরণ-ই কি তার পতনের ঘন্টা ধ্বনি?

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান রাজনীতিকে ব্যঙ্গ করে তৈরি হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পুরো ভারত জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সহ নির্দিষ্ট কিছু দাবিতে তৈরি হওয়া তাদের এই ছাত্র গণ আন্দোলন দিল্লির যন্তর মন্তরেই চলছিল। কিন্তু তাদের শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের আন্দোলনের এই সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর দিল্লী পুলিশের অমাণবিক ও বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতন কি শেয পর্যন্ত এই আন্দোলনকে শ্রীলংকা, নেপাল ও বাংলাদেশের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লব কিংবা গণ-বিষ্ফোরণের মতো মোদি হটাও আন্দোলন কিংবা মোদি সরকার পতনের আন্দোলনে রুপ দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়? 
কারণ আন্দোলনে গোটা ভারতবর্ষের জনগণের ছাত্রদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের সম্পৃক্ততা ও তীব্রতা দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার গদি বাঁচাতেই কি গভীর রাতে নমনীয় মনোভাব নিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নিজের ভেরিফিক আইডি থেকে লাইভে এসে ভিডিও বার্তা প্রদান করেছেন?
 
যিনি ছাত্রদের এ আন্দোলনকে পাত্তাই দিচ্ছিলেন না, তাদের আন্দোলনের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গেছে বলে অনুভব করলে বা তিনি ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে বিশ্বগুরু দাবি করা ব্যক্তি আন্দোলনের তীব্রতা কতটা অনুভব করলে ব্যক্তিগতভাবে লাইভে এসে একপ্রকার আকুতি জানাতে পারেন তা থেকে অনুমান করা যায়, এই আন্দোলন কি শেষ পর্যন্ত সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও নেপালের মত ছাত্রদের সাথে জনতা মিলে ছাত্র জনতার আন্দোলনে রূপ নিয়ে গণবিস্ফোরণে  পরিণত হবে না তো?
 

ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে কেবল একটি পেপার লিক কেলেঙ্কারির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে মোদি সরকারের অপ-শাসনের দীর্ঘ এক যুগের প্রকৃত বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়াল হয়ে যাবে। মূলত এটি বহু বছর ধরে জমে থাকা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্নফাঁস ছিল কেবল সেই স্ফুলিঙ্গ, যা দীর্ঘদিনের ১৪০ কোটি নাগরিকের ভেতর জমে থাকা  বারুদ ভর্তি মনে জ্বলে ওঠা অসন্তোষের আগুন।

নরেন্দ্র মোদী টানা প্রায় ১২ বছর ধরে ভারতের ক্ষমতায়। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, তদন্ত সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে বিরোধী মহল থেকে ধারাবাহিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

একই সঙ্গে বিরোধী মত দমন , সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া, বিরোধী দলের ও কণ্ঠের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি, সারাদিন গণমাধ্যমকে নিজের করতল গত পরে একপ্রকার গলা চেপে ধরা এবং ভিন্নমত প্রকাশের পরিসর সীমিত হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বৃহৎ এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের হবে তীব্র ক্ষোভের প্রতিফলন আজকের ছাত্র আন্দোলন।

এটি শুধু একটি পেপার লিংক ঘটনার বিষয়ে আন্দোলন বললে ভুল হবে। কারণ কাশ্মীর থেকে তামিলনাডু, গুজরাট থেকে অরুণাচল সর্বভারতে জনতার ক্ষোভের যে বিস্ফোরণ দেখা গেছে তা মোদির দীর্ঘ ১২ বছরের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

ক্ষমতা ধরে রাখতে, নাগরিকদের নাগরিকত্ব অধিকার কেড়ে নিতে , বিরোধীপক্ষের মতাদর্শ বা জনতার শক্তিকে খর্ব করতে এনআরসি, সিএএসহ নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নীতিগুলোও ভারতীয় রাজনীতিতে গভীর বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা ভারতীয় নাগরিকদের জন্মের অধিকার তথা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে মোদি সরকার চরম ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

সমালোচকদের মতে, এসব উদ্যোগ বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিপুলসংখ্যক মুসলিম , দলিত হিন্দু ও মোদি বিরোধী বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রায় ৯০ লক্ষাধিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। সরকারের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন; তারা দাবি করে, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সুসংহত করার জন্য -যা  মূলত মোদী সরকারের নিরঙ্কুশ, একনায়ক ও স্বৈরাশশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য একটি কৌশল বা হাতিয়ার ছিল মাত্র।

কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি পুরোনো সত্য হলো—যখন একটি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ক্ষোভ জমতে থাকে, তখন একটি মাত্র ঘটনাই বিস্ফোরণের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন কি সেই বিস্ফোরণের সূচনা? প্রশ্নটি এখন আর অমূলক নয়।

আজ যে তরুণেরা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে, তাদের অনেকের ক্ষোভ কেবল একটি পরীক্ষাকে ঘিরে নয়; বরং কর্মসংস্থান, বৈষম্য, দুর্নীতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, নিজেদের মত জনগণের উপর বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেয়া, সকল সাধারণ হিন্দুদের উপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী চেতনা চাপিয়ে দেয়া, মুসলিমদের মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণ করার মত উগ্র জাতীয়তাবাদীর নামে সাম্প্রদায়িক চেতনা চাপিয়ে দেয়া,  প্রশাসন, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি রাষ্ট্র কাঠামোকে দলীয়করণ করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া এবং জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও গোটা ভারতেই এই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সেই কারণেই ছাত্রদের এই আন্দোলন ১৪০ কোটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে যাদের হয়ে কথা বলার প্রতিনিধি এতদিন ছিল না।

এটি শুধু পেপার প্রশ্ন ফাঁস বা লিক বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নয়; এটি মোদি সরকারের দীর্ঘ অপশাসন ও গণতন্ত্রের লেবাসে কৌশলে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার বিষয় নিয়ে মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের ও অসন্তোষের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্ব অনেক সময় শাসকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, ক্ষমতায় থাকায় দম্ভ ও অহংকার সৃষ্টি হয়, কিন্তু একই সঙ্গে জনগণের ক্ষোভও নীরবে জমতে থাকে যা যুগে যুগে স্বৈরশাসকেরা কখনো অনুধাবন করতে পারেনি। ইতিহাস বহুবার দেখিয়েছে—সেই ক্ষোভ যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতার মসনদও কেঁপে ওঠে।
আর তার সর্বশেষ উদাহরণ এশিয়ায় মালদ্বীপ থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের যারা এককভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার সর্বশেষ চেষ্টা যা প্রশাসন দ্বারা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। সাম্প্রতিক সিজেপির (ককরোজ জনতা পার্টির) ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর যে হিংস্র আচরণ মোদি সরকার পেটোয়া বাহিনী দ্বারা করা হয়েছে কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর কথায় পুলিশকে ছাত্রদের উপর লেলিয়ে দেওয়া এবং এসব ব্যবহার করেও ক্ষমতায় থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করাও শেষ পর্যন্ত সফল নাও হতে পারে।

ভারতের রাজপথে আজ যে উত্তাল তরঙ্গ দেখা যাচ্ছে, সেটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যে আগুন একবার মানুষের মনে জ্বলে ওঠে, তাকে শুধু প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে চিরদিন দমিয়ে রাখা যায় না। যদি এই ক্ষোভ আরও বিস্তৃত সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়, তবে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

কাজেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন থামাতে কিংবা ক্ষমতা ধরে রাখতে কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবানলের মত উত্তাল আন্দোলন দেখে গদি সামলাতে রাতে তার স্যেসাল মিডিয়ায় লাইভে ভাল মানুষ হয়ে সেজে এসে ভাল কথা বলে কি বারুদসম ১৪০ কোটি নাগরিকের ভেতর দাবানলের মতো জ্বলে ওঠা অগ্নি স্ফুলিঙ্গে জল ঢালতে পারবে?-আমার মনে হয় সেটি সম্ভব নয়, বাকিটা হয়তো সময়েই বলবে - এমন কথা বলা মনে হয় আজকের দিনে বলা  অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%