০৬:৫৫ পি.এম
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ীতে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে একটি পরিবার। হামলার ফলে গুরুতর আহত এক যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্য উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়েরের অভিযোগ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়, খোকশাবাড়ির আবু হাসান খানের সাথে মোছা. জাহেদা বেগমের জমির বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এডিসি মহোদয় আদালতে জাহেদা বেগমের করা একটি পিটিশন মামলা, যার নং ৪৬/২০২৬, এসি ল্যান্ডের অকাট্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ মে খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এই তথ্য গোপন রেখে জাহেদা বেগম ২০ মে পুনরায় ডুপ্লিকেট মামলা দায়ের করেন যেটি নং ৮৫/২০২৬ ইং।
২১ জুন ২০২৬ তারিখে মো. আবু হাসান খান ও তাঁর পুত্র কাওসার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে নিজ জমিতে গাছপালার পরিচর্যা করার সময়, জাহেদা বেগমের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আবু হাসান ও তার ছেলে কাওসার আহমেদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় ধারালো রামদার কোপে কাওসার গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার গলার ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাঁচাতে গেলে আবু হাসান এবং আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে হামলাকারীরা। এমনকি আনোয়ারকে জনসমক্ষে চরম লাঞ্ছনা করা হয়। এই ঘটনার পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয় যার নং-২৩৮/২০২৬।
আরও পড়ুন: জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান, এক দশকের কাজের স্বীকৃতি
হামলার পরেও ক্ষান্ত হয়নি জাহেদা খাতুন গংরা। ২৬ জুন তারা আবু হাসানের জমির বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দেয় এবং ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলে, যার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি জিডি করা হয় যার নং ১৯১৪। এসব অপরাধ আড়াল করার জন্য গত ২৯ জুন জাহেদা বেগম অভিযোগ এনে আবু হাসান ও তার ছেলেসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যার নং ৪৭। তবে এই হয়রানিমূলক মামলায় ফরোসের ৯ জন বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক তদন্ত পুর্বক পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি আবেদন জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। জাহেদা বেগমের মামলাটিকে 'সাজানো নাটক' আখ্যা দিয়ে আবু হাসান খান বলেন, "২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হামলার অভিযোগ করা হলেও, ওই দিন রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আমি জাহেদা বেগমকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার গেটে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। আমার সাথে তার কথাও হয়, যার চাক্ষুষ সাক্ষী মো. তোজাম খান। সদর থানার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার এই মিথ্যা মামলার গোমর ফাঁস হয়ে যাবে।" এছাড়া, ওই মামলার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মোছা. খুশি খাতুনও আঘাতের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে না পারলেও তাকে স্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, "আমাদেরকে পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য জাহেদা খাতুন নিজের মাথা কেটে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন।" হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা খাতুনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তবে আঘাতটি কীভাবে লেগেছে বা এটি স্ব-প্রণোদিত (Self-inflicted) কিনা, তা কেবল সুনির্দিষ্ট ফরেনসিক বা চিকিৎসকের চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও হয়রানিমূলক এই মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক (DC), পুলিশ সুপার (SP), থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন