০১:২৬ পি.এম
রচডেল শহরের উত্তরে মেথডিস্ট চার্চের ওপর নিজের জিম খোলার মুহূর্তে ৫০ বছর বয়সী ক্রেগ কার্বির ফোনটি আবার বেজে উঠল। টিকটকে তার আপলোড করা শেষ ভিডিওটির ভিউ ততক্ষণে ৮৫ হাজারেরও বেশি হয়ে গেছে।
ভিডিওটি কার্বির কোনো পেশাদার ম্যাচের নয়, বরং একটি অপেশাদার ফুটবল ম্যাচের যা কাদা-ঘাসে ভরা স্থানীয় পার্কের মাঠে ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু
এখানে তার স্ত্রী লিন্ডসে বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরাবন্দী করেছেন ৫০ স্পর্শ করা কার্বির পায়ের কারুকাজ। ক্যাপশনে লেখা, ‘ফিটনেস আর বল ছাড়া মাঠের মুভমেন্টই ফুটবলের ৯০ শতাংশ।’
কার্বির এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। তার টিকটক প্রফাইলে পিন করে রাখা অন্য একটি ভিডিও দেখা হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ (২.৯ মিলিয়ন) বার! ল্যাঙ্কাশায়ারের পাহাড়ি গ্রাম্য আবহ ও বাচ্চাদের পার্কের পটভূমিতে উইটওয়ার্থ ভ্যালির হয়ে খেলার সেই ভিডিওতে শিরোনাম ছিল, ‘আজ অনেক হারলাম।
তবে ৫০ বছর বয়সের হিসেবে মন্দ না!’
আরও পড়ুন: সাদমানের উপর আস্থা রাখছেন কোচ সালাহউদ্দিন, সেঞ্চুরির আশা
ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক মিলিয়ে কার্বির ‘ফুটবল এট ফিফটি’ পেজের অনুসারী এখন অনেক। কিন্তু এই রূপকথার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বুকভাঙা কষ্টের গল্প। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ২০ বছর বয়সে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে কর্মরত ছেলে সেবাস্টিয়ান আত্মহত্যা করেন। ছেলের এমন করুণ প্রয়াণে ফুটবল চিরতরে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কার্বি।
তবে স্ত্রীর উৎসাহেই আবার মাঠে ফেরা। খেলা রেকর্ড করে নেটদুনিয়ায় পোস্ট করার সিদ্ধান্তও তার স্ত্রীর। কার্বি ভেবেছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধু হয়তো ভিডিওগুলো দেখবে। কিন্তু রাতারাতি এক মিলিয়নের বেশি ভিউ দেখে চমকে যান এই দম্পতি। কার্বি বলেন, ‘এখন ২০ বা ৩০ বছর বয়সের চেয়েও আমি ফুটবলটা বেশি উপভোগ করছি।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
কৈশোরে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সে ট্রায়াল দিয়েছিলেন কার্বি। কিন্তু বাবার মতো সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্নে ফুটবলের সে পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২৫ বছর বয়সে সেনাবাহিনী ছাড়ার পর কেমব্রিজ ইউনাইটেড থেকেও প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব নিতে বেছে নেন পার্সোনাল ট্রেইনারের কাজ।
মাথার চুল ধূসর হলেও নিজের সুঠাম ফিটনেস ও নিখুঁত পাশের কারণে অনায়াসেই কাবু করছেন তরুণ প্রতিপক্ষদের। মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা তাকে তুলনা করছেন জিনেদিন জিদান কিংবা সের্হিও বুসকেতসের মতো ফুটবল কিংবদন্তিদের সঙ্গে। বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, তা প্রমাণ করে সমবয়সীদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন এই সাবেক সেনা সদস্য।
সম্প্রতি ডাক পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ওভার-ফিফটি (৫০ উর্ধ্ব) জাতীয় দলেও। থাইল্যান্ডে থ্রি লায়ন্সদের জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
তবে মাঠের প্রতিটি দৌড় ও ট্রফির লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে বাবার এক চরম আবেগ। কার্বি বলেন, “আমি শোকের কারণে প্রিয় খেলাটা ছেড়ে দিতে চাইনি। ৯৯ শতাংশ সময় আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করি, তবে আমি যখনই মাঠে নামি পুরো খেলাটাই আমার ছেলে ‘সেব’-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা থাকে।”
আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী: পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো হবে প্রাণবন্ত
শোকের কালো মেঘ কাটিয়ে খেলাধুলাকে আঁকড়ে ধরে নতুন করে বেঁচে থাকার বার্তা দিচ্ছেন কার্বি। যারা বয়সের দোহাই দিয়ে বুটজোড়া তুলে রাখার কথা ভাবছেন, তাদের উদ্দেশ্যে তার সহজ পরামর্শ, ‘কোনো কিছু করতে চাইলে দ্বিধা না করে মাঠে নেমে পড়ুন। চিন্তা করাই মূল বাধা, কাজটা করে ফেলা নয়।’
কবে থামবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ৫০ বছরের এই তরুণ হাসিমুখে জানান, ‘যেদিন মাঠে কোনো তরুণ আমাকে ড্রিবল করে পার হয়ে গিয়ে হাসাহাসি করবে, বুঝব থামার সময় এসেছে!’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন