ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এই দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

আরও পড়ুন: রূপপুরে কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছেছে নতুন ইউরেনিয়াম চালান

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা- ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

সরকার প্রধান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলে ছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ড উপকূলে বালুদস্যুতা নিয়ে উদ্বেগ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাক শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্ধান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।

আরও পড়ুন: ৬০ নয়, ১০০ বছর বিদ্যুৎ দেবে রূপপুর! কিন্তু কীভাবে?

সরকার প্রধান বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। রক্তে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু ভিন্ন চিন্তা, ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়, সে ব্যাপারে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এইসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভীর শোক, মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ

সবশেষে বাণীতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনও ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনও ভুলবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় গড়ে তোলা হবে নতুন বাংলাদেশ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় গড়ে তোলা হবে নতুন বাংলাদেশ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃততে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃততে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে। এ সময়ে বহু মানুষ গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শিক্ষা ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আন্দোলন থেমে থাকেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলন দমনে শত শত তরুণকে হত্যা করা হয়। এমনকি বাড়ির বারান্দা ও ছাদে থাকা শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন এবং নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।

বিবৃততে ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে জাতিসংঘের তদন্ত এবং দেশের ট্রাইব্যুনালে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচার শেষে রায় কার্যকর হয়েছে।

বর্তমান সরকারের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, হামের প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ, কোটি মানুষের স্বপ্ন, মেধা ও পরিশ্রমকে শক্তি করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই দেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এটাই ৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং এটাই আমাদের অঙ্গীকার。

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিরেই ইতিহাসের দোরগোড়ায় স্টার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিরেই ইতিহাসের দোরগোড়ায় স্টার্ক

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে মাঠে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। ডারউইনে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম টেস্টে যদি তিনি মাত্র একটি উইকেট পান, তবে ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবকে স্পর্শ করবেন। আর যদি সাতটি উইকেট শিকার করতে পারেন, তবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক গতি তারকা ডেল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যাবেন। এতে ৩৬ বছর বয়সী এই অজি তারকা টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী পেসারদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে আসবেন।

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছেন স্টার্ক। ১০৫ টেস্টে তার উইকেটের সংখ্যা ৪৩৩। অস্ট্রেলিয়া নতুন মৌসুম শুরু করছে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে, যেখানে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও স্কট বোল্যান্ডের সঙ্গে আক্রমণের নেতৃত্বে রয়েছেন স্টার্ক।

গত বছর দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। ১৭.৩২ গড়ে ৫৫টি টেস্ট উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল বোলার। সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এবারও তার ওপর বড় প্রত্যাশা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টার্ক জানিয়েছেন, বয়স নয়, মানসিকতার পরিবর্তনই তাকে আরও পরিণত করেছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি এখন খারাপ সময়গুলো দ্রুত পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শিখেছি। আপনি যতটা ভালো ভাবেন, ততটা ভালো নন। আবার যতটা খারাপ মনে হয়, ততটাও নন।"

তিনি আরও জানিয়েছেন, "এখনও খারাপ বল করলে বিরক্ত হই। তবে আমাদের দলে কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স সবসময় শেখান, যা হয়ে গেছে তা নিয়ে পড়ে থাকলে লাভ নেই। সামনে কীভাবে ভালো করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।"

স্টার্কের মতে, তার দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টিকে থাকার মূল রহস্য নিজেকে প্রতিনিয়ত বদলে নেওয়া। ওব্লিক সিম, ধারাবাহিক লাইন-লেন্থ এবং পরিষ্কার মানসিকতা এই তিনটি দিক তার বোলিংকে আরও কার্যকর করেছে।

রেকর্ডের খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন স্টার্ক। তিনি বলেন, "রেকর্ডের কথা উঠছে মানেই আমি অনেক দিন ধরে খেলছি। কিংবদন্তিদের সঙ্গে নিজের নাম শুনতে অবশ্যই ভালো লাগে। তবে মাঠে থাকাকালীন এসব নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না। আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই।"

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই যদি স্টেইনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন, তবে সর্বকালের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারিদের শীর্ষ দশে জায়গা করে নেবেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ পেসার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন কোচের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভিনিসিউস: মরিনিয়ো চান আমি যেন হাসিখুশি থাকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


নতুন কোচের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভিনিসিউস: মরিনিয়ো চান আমি যেন হাসিখুশি থাকি

দলবদলের গুঞ্জনের মধ্যে রয়্যাল মাদ্রিদের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন ভিনিসিউস জুনিয়র। নতুন কোচ জোসে মরিনিয়োর অধীনে তিনি হাসিমুখে মানিয়ে নিতে শুরু করেছেন। যদিও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

ভিনিসিউস, যার বয়স ২৬ বছর, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে রিয়ালের আক্রমণভাগের জন্য অন্যতম ভরসা হিসেবে মানা হয়। আর্সেনালে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনের মাঝে, তিনি মরিনিয়োর অধীনে প্রাক-মৌসুম অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন শেষে দারুণ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে তিনি বলেন, 'সবকিছু খুব ভালোই চলছে। নতুন কোচ ও নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি এবং কঠোর পরিশ্রম করছি। মরিনিয়ো চান আমি যেন সব সময়ের মতোই হাসিখুশি, প্রাণবন্ত থাকি এবং নিজের স্বাভাবিক ফুটবল খেলি।'

কিন্তু মাঠে ভিনিসিউসের হাসিখুশি উপস্থিতির আড়ালে ক্লাবের ভেতরে একটি জটিল পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমান হচ্ছে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এখন আর মাত্র এক বছর বাকি। স্প্যানিশ এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তি নিয়ে এখনো রিয়াল মাদ্রিদ ও ভিনিসিউসের মধ্যে আলোচনার সারসংক্ষেপ হচ্ছে। এছাড়া, প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালও তাকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখছে।

এখন পর্যন্ত রিয়ালের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস ১২৮টি গোল করেছেন এবং ১০০টি গোলে সহায়তা করেছেন। এই কারণে, আগামী বছর বিনা ট্রান্সফার ফিতে তাকে হারানোর ঝুঁকি নিতে রাজি নেই স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

সম্প্রতি তিনি ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন, যদিও ব্রাজিল শেষ ষোলোয়ে বিদায় নেয়। এখন তার পুরো মনোযোগ নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিতে।

ভিনিসিউস মন্তব্য করেছেন, 'আমাদের শারীরিকভাবে এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে মৌসুমজুড়ে চোট কম হয় এবং সবাইকে পাওয়া যায়। আজকের অনুশীলনটা খুব ভালো হয়েছে। আমরা সবাই খুব ক্লান্ত হয়ে মাঠ ছেড়েছি, কিন্তু এখন আগামীকাল বিশ্রাম নেওয়ার সময়। প্রাক-মৌসুম এমনই হয়, আর আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।'

বিশ্বকাপে চার গোল করে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ে রক্তঝরা বিপ্লব দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ এম


জুলাইয়ে রক্তঝরা বিপ্লব দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান ছিল এক ঐতিহাসিক বিপ্লব। আমরা ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডের গ্লোরিয়াস রেভল্যুশন এবং ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের কথা জানি। স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানও আমাদের চোখের সামনে ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, যে রক্তঝরা বিপ্লব ঘটেছে, যার ফলাফল ৫ আগস্ট, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, মানুষের ভেতরের যে পারমাণবিক শক্তি থাকে, সেটি যদি বিস্ফোরিত হয়, তাহলে ফ্যাসিস্টদের ময়ূরের সিংহাসন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই শক্তির বিষয়টি স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট এবং নিপীড়নকারীরা বারবার ভুলে যায়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবদান’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।

রিজভী বলেন, আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক এবং শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের এই আত্মত্যাগ বিশ্বের সমস্ত স্বৈরাচার, অগণতান্ত্রিক শক্তি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি যোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অসংখ্য গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই বিপ্লবের সফল পরিণতি এসেছে।

শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমরা জানি হিটলার এবং মুসোলিনির মতো স্বৈরশাসকদের ইতিহাস। তবে তারা তাদের নিজস্ব দেশকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা একদিকে ব্যাংক লুট করেছেন, শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছেন, অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং জমি দখল করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এত লোভী ও ভয়ংকর স্বৈরাচারের নজির পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে মানুষের রক্ত ঝরানোর পর জনগণই শেষ পর্যন্ত সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। ৫ আগস্ট তারা জনগণের শক্তির কাছে শিমুল তুলার মতো উড়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের বিগত সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%