মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৫ এম
বলিউডের অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সুনীতা একাধিকবার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। বিশেষ করে কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে গোবিন্দের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এবার এই অভিযোগগুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন গোবিন্দ। অভিনেতার দাবি, কেউ একজন তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করছেন।
সম্প্রতি এবিপি লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতির আভাস তিনি সাত-আট বছর আগে থেকেই পেয়েছিলেন। অভিনেতার মতে, তাঁর সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক মন্তব্য ও বদনাম ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই একসময় তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্ত্রীর অভিযোগের জবাবে সরাসরি পাল্টা আক্রমণে যেতে চান না গোবিন্দ। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের মন্তব্য নিয়েও তাঁর আপত্তি নেই। তবে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি কথা বলার পরিবর্তে নীরব থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
গোবিন্দের দাবি, তাঁকে এবং সুনীতাকে ঘিরে একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, কেউ তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করছেন। যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি। তাঁর মতে, কথার মাধ্যমে সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়তে পারে। তাই কাউকে বিব্রত বা অসম্মান না করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চান তিনি।
দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চললেও সুনীতার অবদান তিনি অস্বীকার করেননি। গোবিন্দ নিজের জীবনে অর্জিত পরিচিতি ও সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও স্ত্রীর প্রতি অসম্মান করার ইচ্ছা তাঁর নেই।
সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ তাঁর জীবনের আরেকটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। পায়ে গুলি লাগার ঘটনার পর এক পা হারানো ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন। এমনকি ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গোবিন্দ ১৯৮৭ সালে সুনীতা আহুজাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান, মেয়ে টিনা ও ছেলে যশবর্ধন। সম্প্রতি গোবিন্দের আসন্ন ছবি ‘রূপা’র সহশিল্পী কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দম্পতিকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পরকীয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী একটি মামলায় পুলিশ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর মডেল থানার একটি বিশেষ দল তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালায়।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মো. ইবাদত হোসেন (৩৫), যিনি বলুহর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য। অপরজন হলেন—কোটচাঁদপুর পৌরসভার রেলস্টেশন দর্গাতলা পাড়া এলাকার মো. আশাদুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম (৪২), যিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভা যুবলীগের সদস্য।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) একটি নতুন চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে রাশিয়ার একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা।
কমিশন একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনটি জানায়, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলার শিকারদের মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।
প্রতিবেদনে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরাইল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তৃতি আরও বাড়ানোর ফলে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরো বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, বশীভূত রাখা এবং তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সমালোচনার মুখে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সমাবর্তন কমিটির বৈঠকের পর নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়।
নতুন ফি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি হবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৪ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা সহ মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ের ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফি ২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারা নির্ধারিত ফি ছিল স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য ৫ হাজার টাকা, যার সঙ্গে মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা যোগ হয়ে মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা দাঁড়ায়। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা, এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা।
সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নির্ধারণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ফি কমানোর দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি বহন করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে মেসভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ বহন করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে সমাবর্তনের বাড়তি ফি তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছিল।
জকসু সমাবর্তনের ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানায়। গত ২২ অক্টোবর জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি কমানোর দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন। ফি পুনর্নির্ধারণ না হলে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনও ফি কমানোর দাবি জানায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ