বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ পি.এম
চার দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
মাতামুহুরী এবং পেকুয়া উপজেলার বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি সরে গিয়ে চকরিয়া উপজেলায় বরইতলী ইউনিয়নে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম রুমি আক্তার (১৫)। সে বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের কন্যা এবং বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
অন্য শিশু মোহাম্মদ তৌসিফ (১০) আবদুল মজিদের পুত্র এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। নিহতরা আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোন। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেছেন, "একদিকে ভয়াবহ বন্যা, অন্যদিকে পাহাড় ধ্বসের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে লোকজনের মধ্যে। গত দুইদিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে গ্রামগুলো। এই অবস্থায় পাহাড় ধসে দুইজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"
জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমু বিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিংগা, হারবাং এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর, সাহারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌরসভা এলাকারও বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনেক ফসলি জমি এবং চিংড়ির ঘেরও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দুই উপজেলার পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশয়ে সরে যেতে প্রশাসন মাইকিং করছে।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা এডভোকেট মঈনুল আমিন বলেছেন, "চার দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি থামলেই মনে হয় পানি নামবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তাঘাটে পানির নিচে থাকায় চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।" মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ আলম জানান, "আমনের বীজতলা ও সবজিক্ষ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।" চকরিয়া পৌরসভার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেছেন, "বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ঠিকমতো আয় হচ্ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মঈনউদ্দিন বলেছেন, "উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে মাতামুহুরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ রান্নাবান্না করতে পারছে না। শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছে। আমি নিজেও পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। এরপরও চেষ্টা করছি এলাকার বন্যা কবলিত মানুষদের সাহায্য করতে।" মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ বলেছেন, "চার দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে রয়েছে।"
তিনি বলেছেন, "ইতোমধ্যে কোণাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। আমরা বন্যা কবলিত মানুষদের খোঁজ খবর নিচ্ছি।" চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীদ দেলোয়ার জানিয়েছেন, "টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ে ঢলের পানিতে মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে মাতামুহুরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। স্ব-স্ব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেছেন, "পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের লইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতামুহুরী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর, বলেছেন যে, প্রায় চার বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। এই মূল্যস্ফীতি প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের জন্য তো বটেই, মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ ধরনের সংকট কেবল কোনো বৈশ্বিক পরিস্থতির ফল নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং নীতি দুর্বলতার অনিবার্য পরিণতি।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বগুড়ার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বগুড়া জেলা শাখা আয়োজন করে একটি তৃণমূল দায়িত্বশীল সম্মেলন। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চরমোনাই পীর বক্তব্যে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে যে, দেশের এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোনো কথা বলার ফুলঝুরি নয়, বরং অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আল্লামা আব্দুল হক আজাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিলো সাম্য, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য থেকে দেশ দূরে সরে যাচ্ছে।
জেলা সভাপতি, আ.ন.ম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় আজকের তৃণমূল দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আরও বক্তব্য প্রদান করেন আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বগুড়া জেলার সভাপতি-মাওলানা আব্দুল মতিন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মুফতী এমদাদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক জিয়াউর রহমান জিয়া, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি-মুহাম্মাদ সোহরাব হোসেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি ফরহাদ হোসেন মন্টু, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ছাত্র নেতা সোহেল রানা প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীতে যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এই যানজটের কারণে তারা দুভোগে পড়ছেন। যার ফলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় ঘোষণা দেন যে, ১০ হাজার অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন যে, বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। কিন্তু এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ঘোষণা করেছেন যে, আগামী সপ্তাহ থেকে অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধনকৃত অটোরিকশায় চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে। এসব লাইসেন্স প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, ফলে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।
প্রশাসক আরও জানান যে, কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে নগরীতে যানজট ও দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এসব অটোরিকশার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। যার ফলে অনেকেই আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন যে, এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। তিনি বলেন, রাজনীতি মূলত সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে। তিনি যোগ করেন যে, নগরবাসীর হাঁটার অভ্যাসও গড়ে তোলা প্রয়োজন। মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোঃ রায়হান কবির, যিনি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, আকস্মিকভাবে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, রাজস্ব শাখা এবং রাজস্ব মুন্সিখানা শাখা পরিদর্শন করেন।
এই পরিদর্শনের সময়, তিনি আগত সেবা প্রত্যাশীদের সাথে কথোপকথনে অংশ নেন। তিনি অফিস প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন, যাতে নিশ্চিত হয় যে কোন প্রকার দালাল সক্রিয় আছে কিনা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, "যদি কোন প্রকার হয়রানি, দালালী কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তা বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময়, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকালে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জেলার প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, 'পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের নিজেদের ঘর ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিজের পাড়া এবং মহল্লা পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই সামগ্রিকভাবে শহর, জেলা এবং পুরো দেশকে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব।' জেলা প্রশাসক তিনি বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য যে দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ আঙিনায় অন্ততপক্ষে একটি করে হলেও ফলদ, বনজ বা ঔষধি গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখতে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দ্বীন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সুজন চাঁদপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ এবং জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ডায়গনস্টিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, তিনি বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ দূষণের কারণে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, অধিক খরা, বন্যা এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এরই ফলাফল। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি বিশেষ করে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নদীতে না ফেলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চাঁদপুর পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলন-এর সাধারণ সম্পাদক আল আমিন। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভার আগে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ