প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এ বছর তৃতীয়বারের মতো স্নো-ফ্লেক বা তুষারকণা কাগজ দিয়ে দ্রুততম সময়ে তৈরি করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন বরিশালের কলেজ রোডের বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা। তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী, যার নাম তিনবার উঠেছে বিশ্বরেকর্ডের খাতায়।
এর আগে দ্বিতীয়বার নিপা কয়েন দিয়ে দ্রুততম সময়ে টাওয়ার বানানোর মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে নাম লিখেছিলেন। পরে তিনি চপস্টিক দিয়ে এক मिनटের মধ্যে ভাত খাওয়ার রেকর্ডও তার দখলে নিয়েছিলেন।
তবে এ কাজের মধ্যে এখানেই শেষ নয়। বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন এই ছাত্রীর সাথে বাসসের একান্ত সাক্ষাৎকারে জানা যায়, তিনি চতুর্থবার গিনেস বুকে নাম লেখাবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ‘কাগজের স্নো-ফ্লেক’ বা তুষারকণা তৈরি করে দ্রুততম সময়ে রেকর্ডটি করেন। তার আগে এই রেকর্ড ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে চীনের দখলে ছিল।
নিপা বলেন, “আমি ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে শেষ করে রেকর্ডটি বাংলাদেশে এনেছি।” চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে করা এ রেকর্ডের কিছুদিন পরে তিনি সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তিনি জানান, কাগজ বিভিন্নভাবে কেটে ও ভাঁজ করে তুষারকণার মতো তৈরি করে এ রেকর্ডটি গড়েছেন।
২০২১ সালে মহামারি করোনার সময় তিনি এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করেছিলেন। এই প্রচেষ্টা ছিল ইতালির সিলভিও সাব্বারের গড়া রেকর্ড ভেঙে গিনেস বুকে প্রথমবার নাম লেখানোর। পরে ২০২৪ সালে তিনি চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে নতুন রেকর্ড করেছিলেন।
একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিপা বলেন, 'কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।' তিনি উল্লেখ করেন, 'আমার খেলাধুলার শখ থাকলেও বরিশালে মেয়েদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘরে বসেই দেশ ও আমার শহর বরিশালকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে এ রেকর্ড করেছি। ভবিষ্যতেও আমার এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'
পরবর্তী রেকর্ড কী নিয়ে করবেন জানতে চাইলে তিনি রহস্যময় কণ্ঠে বলেন, 'দেখা যাক!'
নিপার বাবা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু বাসসকে জানান, 'আমার একমাত্র মেয়ে নিপা। সে ছোটোবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তার এ সাফল্য শুধু বরিশালবাসীর নয়, সারা বাংলাদেশের জন্য। আমি আশা করি, আগামীতে সে আরো ভালো কিছু করবে।'
বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর শাহ সাজেদা বাসসকে বলেন, 'মেয়েটি একবার নয়, তিন তিনবার গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছে। যা সত্যিকার অর্থেই আমাদের বরিশালের জন্য গর্বের।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমাদের সমাজে মেয়েরা বেশিরভাগ সময়ই পিছিয়ে থাকে। নিপা সেই রেকর্ডও ভেঙেছে।'
তিনি বলেন, 'নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিপা যে গৌরব অর্জন করেছে, সেটি আমাদের জন্য গর্বের। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সমাজের নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে মেয়েরাও এগিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে তাদের জন্য সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের সফলতার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উচিত হবে তাদের সহযোগিতা ও সম্মানিত করা।'
এতে সমাজের অন্য মেয়েও বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে উৎসাহ পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন