১২:৫০ এম
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকবাহী একটি হাউসবোটের ইঞ্জিনের (মেশিন) ভেতরে পড়ে সৌমাতা সরকার নিঝুম (৮) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের আনুমানিক ৩টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নিঝুম ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা। সে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন চন্দ্র সরকারের কন্যা।
স্বজন ও হাউসবোট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, 'ভ্রমণশৈলী' নামের নতুন চালু হওয়া একটি হাউসবোটের উদ্বোধনী ভ্রমণে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে গিয়েছিল নিঝুম। হাওরে গোসল শেষে হাউসবোটটি যখন নিলাদ্রি লেকের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিল তখন সে বোটের পেছনের অংশ থেকে সামনের দিকে আসছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত সে হাউসবোটের চলন্ত ইঞ্জিনের ওপর পড়ে যায়। চলন্ত মেশিনের আঘাতে তার শরীর গুরুতরভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ১৭ যুবক
হাউসবোটের মালিক পংকজ রায় জানান, 'এটি ছিল আমাদের হাউসবোটের একদম প্রথম ট্রিপ।' তিনি আরও বলেন, 'পারিবারিক সদস্যদের নিয়েই আমরা হাওর ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। দুর্ঘটনার সময় নিঝুম তার মা ও বোনের সঙ্গেই ছিল। মেশিনে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইঞ্জিন বন্ধ করা হলেও তাকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।'
মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বাবা এসআই স্বপন চন্দ্র সরকার বলেন, 'আমি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত আছি। আমার স্ত্রী ও দুই মেয়ে আত্মীয়ের ওই হাউসবোটে করে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে গিয়েছিল। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় আমার আদরের ছোট মেয়েটিকে হারালাম। এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।'
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণকালে অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বাবার লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসেবীসহ গ্রেফতার ১৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন