বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:০৫ পি.এম
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট শহর মিনাবে নিজের পুরোনো স্কুলের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে সাবধানে হাঁটছিলেন ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি। ভাঙা কংক্রিটের বড় বড় অংশ ঝুলে থাকার কারণে পুরো এলাকার অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ।
তবুও, তিনি সহজেই চিনে নিতে পারছিলেন স্কুলের প্রতিটি অংশ। কোথায় মেয়েদের শ্রেণিকক্ষ ছিল, কোথায় ছেলেদের ক্লাসরুম, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ এবং প্রার্থনার স্থান—সবই তার মনে আছে। মিনাবের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে শ্রেণিকক্ষে তিনি প্রথম শ্রেণির ছাত্রীদের পড়াতেন, সেটি এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে শুধু ভাঙা ইট-পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে একটি স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একটি সাধারণ শনিবারের সকালে মুহূর্তেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটে। এটি ছিল ওই যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক হামলাগুলোর মধ্যে একটি।
মিনাব প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৫৬ জন নিহত হয়। উল্লেখযোগ্য যে, নিহতদের মধ্যে ১২০ জন শিশু, একজন গর্ভবতী নারী এবং তার অনাগত সন্তানও ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন প্রমাণে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে হামলাটি মার্কিন বাহিনী চালিয়ে থাকতে পারে। স্কুলটির পাশে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনা ছিল, সেখানে স্যাটেলাইট ছবিতে একাধিকবার হামলার চিহ্ন দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। যদিও মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে সামরিক তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে হামলা চালিয়েছিল।
স্কুলে হামলার পরও সেখানে শোকের আবহ কাটেনি। শিক্ষকরা বলেন, তারা প্রতিদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা করেন। উদ্ধারকারীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের দেহাবশেষ খুঁজে চলেছেন। হামলায় ভবনের ওপরের তলার বেশিরভাগ অংশ নিচের তলার উপরে ধসে পড়েছে।
শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি বলেন, ‘এটিকে আর স্কুল বলা যায় না। এটি এখন মনে হয় শুধু মৃত্যু, শোক এবং রক্তের স্মৃতি বহন করে এমন কয়েকটি দেয়াল।’
ইরানি কর্তৃপক্ষ চায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই স্কুলটি পরিদর্শন করুক। তাদের দাবি, ঘটনাটি দেখায় যে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো বলা যে অভিযান যুক্তরাষ্ট্র তুলে ধরেছিল, তার সবচেয়ে বড় মূল্য সাধারণ বেসামরিক মানুষকে দিতে হয়েছে।
শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি জানান, সেদিনও অন্য দিনের মতো ক্লাস শুরু হয়েছিল। রমজান মাস হওয়ায় শিশুরা প্রথমে প্রার্থনা কক্ষে কোরআন তেলাওয়াত করছিল। এরপর তারা ফারসি বর্ণমালার নতুন একটি অক্ষর শেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময় ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধের প্রথম হামলার খবর আসে। তখন প্রধান শিক্ষক স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেন এবং শিক্ষকরা অভিভাবকদের ফোন করে সন্তানদের নিয়ে যেতে বলেন।
আমাইনেহ জানান, প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সময় তার প্রথম শ্রেণির ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন শ্রেণিকক্ষে ছিল। তিনি তখন করিডোরে ছিলেন এবং শিশুদের দ্রুত নিয়ে আসার জন্য শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান। তিনি বলেন, ‘আমি বের হওয়ার ঠিক মুহূর্তে একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলে আঘাত হানে। কিছু একটা আমার এবং শিশুদের মাথায় আঘাত করে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি।’
তার ভাষ্য, এরপর পুরো শ্রেণিকক্ষ ঘন কালো ধোঁয়ায় পূর্ণ হয়। তিনি বলেন, ‘আমি কোলে থাকা শিশুদেরও দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমরা শ্বাস নিতে পারছিলাম না।’
তিনি আরও বলেন, এরপর আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ, মানুষের চিৎকার, শিশুদের কান্না এবং ভবন ধসে পড়ার বিকট শব্দ একসঙ্গে শোনা যায়। আমাইনেহ বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। আমার শরীর এবং ছাত্রছাত্রীদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।’
‘তারা অস্ত্র নয়, বই-খাতা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল’
মিনাবের স্কুলে হামলার ঘটনাকে ইরান সরকার বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সরকারি বক্তব্য ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ব্যাখ্যার বিপরীতে একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এই যুদ্ধ ইরানের মধ্যে মতভেদ তৈরি করেছে। কেউ কেউ আশা করেছিলেন, বিদেশি সামরিক চাপ সরকারকে দুর্বল করবে। তবে সরকারের সমালোচকরাও বিবিসিকে বলেছেন, মিনাবের স্কুলে হামলা তাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তাদের মতে, এ ঘটনা দেখিয়েছে যে যুদ্ধে বেসামরিক মানুষও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে সরকার বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে জনগণের রক্ষক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে, শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি প্রতিনিয়ত তার নিহত শিক্ষার্থীদের কবর জিয়ারত করেন। কবরস্থানের পাশে থাকা একটি স্মৃতিফলকে সেই শিশু, শিক্ষক, কর্মচারী এবং অভিভাবকদের ছবি রয়েছে, যারা সেদিন সকালে স্কুলে গিয়েছিলেন কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি।
নয় বছর বয়সী সেতায়েশের মা এখনও প্রতিদিন মেয়ের কবরের পাশে বসে থাকেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল? তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাদের কাছে ছিল শুধু একটি পেন্সিল, একটি বই, একটি খাতা এবং একটি স্কুলব্যাগ। তারা যুদ্ধ করতে নয়, শিখতে স্কুলে গিয়েছিল।’
ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে দেখলেন স্বজনদের আর্তনাদ
আমাইনেহ নাদেমি জানান, কিছুক্ষণ পর ধোঁয়া একটু সরে গেলে তিনি আহত শিশুদের নিচে অপেক্ষা করা লোকজনের কাছে পৌঁছে দেন। এরপর আগুন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে স্কুলের গেটের দিকে যান। সেখানে তিনি অসংখ্য উদ্বিগ্ন অভিভাবককে জড়ো হতে দেখেন। অনেকেই এত তাড়াহুড়ো করে ছুটে এসেছিলেন যে, তাদের পায়ে জুতাও ছিল না।
তিনি বলেন, তখনও তিনি বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে। তার ধারণা ছিল, সবাই ইতোমধ্যে ভবন থেকে বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না, তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।’
আমাইনেহ ছয় বছর ধরে ওই স্কুলে প্রথম শ্রেণির শিক্ষকতা করেছেন। তিনি জানান, হামলায় তার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আদ্রিনা ও তার মা সিঁড়িতে নিহত হন। এছাড়াও, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমাসহ আরো অনেক শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। নিহতদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও ছিলেন, যাদের তিনি একসময় বর্ণমালা শিখিয়েছিলেন।
হামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এবং কোরআনের শিক্ষকও নিহত হন বলে জানান আমাইনেহ।
‘আমার ছেলেকে খুঁজে দিন’—স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ
হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মী রেজা বেশারাতি জানান, তিনি প্রথম দিকের উদ্ধারকারীদের একজন ছিলেন। সেই সময় স্কুলের আশপাশের রাস্তাগুলো সন্তানদের খুঁজতে ছুটে আসা স্বজনদের ভিড়ে আটকে গিয়েছিল।
মিনাব ছোট শহর হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের দিকে যেতে গিয়ে তিনি অনেক পরিচিত মানুষকে দেখেন, যেখানে তার নিজের আত্মীয়ও ছিলেন। রেজা বলেন, ‘আমরা জীবিত কাউকে পাওয়ার আশায় খোঁজ শুরু করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাউকে জীবিত পাইনি।’
তিনি জানান, অনেক মরদেহ এতোটাই ক্ষতবিক্ষত ছিল যে সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও শুধু একটি হাত, কোথাও শুধু একটি পা পাওয়া গেছে। কোনো দেহই সম্পূর্ণ ছিল না। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের জুতা বা পোশাক দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
রেজা বলেন, তার এক আত্মীয় বারবার কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘আমার সন্তানকে খুঁজে দিন, আমার ছেলেকে খুঁজে দিন।’ কিন্তু তিনি জানতেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে সত্যিটা বলতে পারিনি। আমরা সবাই শুধু কাঁদছিলাম।’
রেজা জানায়, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজের সময় দেখা ভয়াবহ দৃশ্য এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আমি ঘুমাতে পারিনি। চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্যগুলোর কথা মনে পড়ে।’
স্কুলে হামলার পর শুরুতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইরানকে দায়ী করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না। পরে তিনি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বাইরের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা দেন। তবে এখনো সেই তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে স্কুলটিকে ভুল করে একটি সামরিক স্থাপনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলের পাশের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি কমপ্লেক্স নির্ভুলভাবে পরিচালিত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি ও যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল এবং পাশের কয়েকটি ভবনেও হামলা হয়েছে। মার্কিন সামরিক মানচিত্রেও ওই সময় মিনাব এলাকায় মার্কিন অভিযান চালানোর তথ্য রয়েছে।
ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, স্কুলের জায়গাটি একসময় আইআরজিসি কমপ্লেক্সের অংশ ছিল। তবে ২০১৬ সালের পর এটি আলাদা প্রাচীর, নিজস্ব প্রবেশপথ ও প্রাঙ্গণসহ একটি স্বতন্ত্র স্কুলে পরিণত হয়। এ ছাড়া স্কুলটির ঠিকানাসহ তথ্য অনলাইনেও প্রকাশ্যে ছিল। হামলার কয়েক মাস আগেও স্কুলটির ওয়েবসাইটে এসব তথ্য দেখা গেছে।
মে মাসে সেন্টকমের প্রধান কংগ্রেসে বলেন, তদন্তটি জটিল, কারণ স্কুলটি আইআরজিসির একটি সক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ছিল বলে তাদের দাবি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাটি আগে আইআরজিসির একটি নৌ ঘাঁটি ছিল, কিন্তু কয়েক বছর আগে সেখানে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই কমপ্লেক্সে একটি ক্লিনিক ও গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রসহ বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তদন্ত এখনও চলছে এবং এ মুহূর্তে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
মোজা দেখে শনাক্ত হয় ৯ বছরের সেতায়েশ
ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের কাছেই একটি কবরস্থানে নিহত অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্বজনরা সেখানে জড়ো হন। মায়েরা সন্তানদের ছবির ধুলো মুছে দেন, আর বাবা-মায়েরা গভীর রাত পর্যন্ত কবরের পাশে বসে প্রার্থনা করেন। কবরগুলোর পাশে ছোট ভাইবোনদের খেলতেও দেখা যায়।
নয় বছর বয়সী মেয়ে সেতায়েশকে হারানো মা মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদী প্রতিদিন তার মেয়ের কবর জিয়ারত করতে আসেন। হামলার দিন তিনিও অন্য অভিভাবকদের মতো স্কুলে ছুটে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুল বলে কিছু ছিল না। চারদিকে শুধু ধোঁয়া, শিশুদের চুল, কোথাও একটি হাত, কোথাও একটি পা পড়ে ছিল। সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি শুধু সেতায়েশকে নয়, সব শিশুদেরই ডাকছিলাম—বাচ্চারা, তোমরা কোথায়?’ মাসুমেহ জানান, পরদিন ভোরের আগে পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি যে সেতায়েশ মারা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা বারবার জানতে চেয়েছিলেন, সে কী রঙের মোজা পরেছিল। তিনি বলেন, তার মেয়ে ক্রিম রঙের মোজা পরেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই মোজা দেখেই সেতায়েশের মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
মায়ের ভাষায়, সেতায়েশ বড় হয়ে একজন শিক্ষিকা হতে চেয়েছিল। সে বাড়িতে পুতুলগুলোকে সারি করে বসিয়ে বলত, ‘আমি তোমাদের শিক্ষিকা। আমি এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি, তাই আমিও শিক্ষক।’ মাসুমেহ বলেন, সন্তান হারানোর শোকের সঙ্গে তাদের ক্ষোভও মিশে আছে। তার ভাষ্য, ‘ট্রাম্প ধ্বংস হোক, যেন এই শিশুদের রক্ত বৃথা না যায়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রীষ্মের দলবদলের মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে। এই ইংলিশ তরুণ ফুটবলার চার বছরের জন্য চুক্তিটি নবায়ন করেছেন ম্যান সিটি।
নতুন স্প্যানিশ কোচ এনজো মারেস্কা দলে যোগ দেবার পর ক্লাবকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ফোডেনের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী মৌসুমের পর ফোডেনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন চুক্তিতে আরও এক বছরের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করেছে।
নতুন চুক্তিটি ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডকে আরও স্থিতিশীল হতে সাহায্য করবে। তিনি চোটে ভোগা কঠিন সময়ে ফর্ম হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের দলে জায়গাও পাননি।
ফোডেন জানিয়েছেন, "সিটির সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ বেঁধে ফেলতে পারা আমার জন্য সবকিছুর চেয়ে বড়। এই ক্লাবের হয়ে খেলাই সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল।"
এই জার্সি গায়ে তোলা সবসময়ই গর্বের।
ক্লাবের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা ফোডেন বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি এফএ কাপ এবং পাঁচটি লিগ কাপ জিতেছেন।
তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের একজন। এই তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন বার্নার্ন্ডো সিলভা ও জন স্টোনস, যারা দুজনই গত মৌসুম শেষে ক্লাব ছেড়ে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের রাজধানী টোকিওতে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত অবস্থায় বুধবার প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে একজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা রেকর্ডসংখ্যক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জরুরি সেবা বিভাগ এই তথ্য জানায়।
টোকিও ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, বুধবার তাপজনিত অসুস্থতার কারণে ৪৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২০১০ সালে তথ্য সংরক্ষণের কাজ শুরু হওয়ার পর এ সংখ্যা একদিনে সর্বোচ্চ।
একইসঙ্গে, জরুরি সেবা বিভাগে ভর্তির সংখ্যা অন্তত ৬৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণে পৌঁছেছে।
এই খবর টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে গতকাল ও তার আগের দিন রোগীর সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
মুখপাত্র আরও জানান, বুধবার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট মোট ৩ হাজার ৬১২টি জরুরি সেবার জন্য মোতায়েন হয়েছে। ১৯৬৩ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটাও সর্বাধিক।
তিনি উল্লেখ করেন, টোকিও প্রিফেকচারে, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস, সেখানেও প্রচণ্ড গরমের ফলে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ার গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতির ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার তদন্তকারীরা নির্বাচন কমিশনে অভিযান চালিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন মুখপাত্র এএফপিকে তথ্যটি জানিয়েছেন। পুলিশ এবং প্রসিকিউটরদের অভিজ্ঞানসম্পন্ন বিশেষ তদন্ত দলের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে টেলিফোনে বলেছেন, ‘আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং গিয়ংগি প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় নির্বাচনের সময় ভোটার উপস্থিতির ভুয়া তথ্য নথিভুক্ত করেছেন। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তল্লাশি ও আলামত জব্দের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।’ সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঈশ্বরদী শহরের দাশুড়িয়া মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণে পরীক্ষা না দিয়েই সুযোগ দেওয়া সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বিষয়টি সঠিকভাবে নজর না দেওয়ার কারণে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে সমিতির প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।
এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে দায় চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঠিক উত্তর দিতে পারেননি এবং এসময় উল্টো অন্য শিক্ষকদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক, এবং (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) শিক্ষকেরা অভিযোগ জানিয়েছেন যে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বার্ষিক, প্রি-টেস্ট কিংবা টেস্ট পরীক্ষা না দিয়েই অযোগ্য শিক্ষার্থীদের দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ রয়েছে আলিম পরীক্ষার ক্ষেত্রেও, যেখানে টেস্ট পরীক্ষা ছাড়াই অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, সরকারী নীতিমালা অমান্য করে সমিতি থেকে প্রশ্ন কিনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযোগও উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ক্লাস রুটিন সময়মতো টাঙানো হয় না এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস না করিয়ে নিজের খেয়ালখুশিমতো প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন তিনি।
এভাবে বার্ষিক, প্রি-টেস্ট, এবং টেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার সুযোগ দিলে তাদের পড়ার মানসিকতা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক qualified শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হয় না। শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা পর্যন্ত মেনে চলা হচ্ছে না, ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।
এবং এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জমির উদ্দিন। নিজের অপকর্ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকা দিতে মাদ্রাসার সহকর্মী শিক্ষকদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির এমন নজিরবিহীন অনিয়মে অভিভাবক ও সচেতন মহল চরম ক্ষুব্ধ। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতি দায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে মাদ্রাসার শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ