বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কিনা, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। তিনি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার প্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে।
পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে আপনি কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’
তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। তিনি বলেন, সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১৫১টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে মোট ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাহমিদা হক এমপি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সকল পূজা মন্দিরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির পর্যবেক্ষক টিম এবং মন্দির ভিত্তিক ভলেন্টিয়াররা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবে।
তিনি বলেন, "আমাদের সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বন্ধন যেন অটুট থাকে। কোনো অবস্থাতেই যেন সুযোগ-সন্ধানীরা এই সম্প্রীতির বন্ধনকে ধুলিসাৎ করতে না পারে, এজন্য আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।"
এমপি ফাহমিদা হক আরও বলেন, "কয়রা-পাইকগাছার আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট নির্মাণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে ইতোমধ্যেই তালিকা জমা দিয়েছি। আজ মন্দির অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দের ডিও লেটার মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এর বাইরেও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরও ৪৭টি পূজা মন্দিরে ৫ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।"
তিনি আরো বলেন, "এই অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। অবহেলিত এই অঞ্চলকে আধুনিকায়নে দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।"
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকেই এখানে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছে। দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, এজন্য বর্তমান সরকার সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করছে।"
প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, পাইকগাছা থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হক, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ এ্যাড. আবু সাঈদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, শেখ রুহুল কুদ্দুস, সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, তুষার কান্তি মন্ডল, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রাণকৃষ্ণ দাশ, সদস্য সচিব হিমাদ্রি শেখর দে, পৌর সভাপতি বাবুরাম মন্ডল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পৌর সভাপতি সন্তোষ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা লাকি, সাজ্জাদ হোসেন মানিক, আনোয়ারুল ইসলাম, বেনজির আহমেদ লাল, মোস্তফা মোড়ল, মিজান জোয়ার্দার, প্রভাষক সুজিত, প্রভাষক ইকবাল, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মেছের আলী সানা, মহিলা দলের সভাপতি লক্ষ্মী রানী গোলদার, যুবদলের সদস্য সচিব ইমরান সরদার, পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জি এম রুস্তম, সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতার চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। নতুন করে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০৬ জন শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ জন। তবে, এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১৫ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা, খুলনা, কুষ্টিয়া ও ভোলায় একজন করে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭ জনে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন।
এদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯ হাজার ৮৭৬ জনে পৌঁছেছে। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯২৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ জন।
হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রমও চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ কোটি ১৬ শতাংশের বেশি টিকা প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দেবপ্রিয় অধিকারী নীল, যিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেবপ্রিয়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা করেন।
সূত্রে জানা গেছে, দেবপ্রিয় যখন শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসা, প্লাটিলেট ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে গিয়ে তার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
এ অবস্থায় ছাত্রদল নেতা রুমি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে দেবপ্রিয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।
এ সময় তিনি রোগীর চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে। অসুস্থ শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসায় সহায়তা করায় বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেছেন, “বিএনপি জনগণের দল। এ দলের শেকড় এত গভীরে যে, কেউ চাইলেই তা উপড়ে ফেলতে পারবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যারা দেশবিরোধী অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তারা আবারও ফ্যাসিস্টদের পক্ষ নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার এয়াকুবদণ্ডী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা, বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি এনাম বলেন, “বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি অতীতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ফেল না করে সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়।
এমপি এনাম আরো বলেন, শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ানো নয়, বরং তারা কতটা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করছে সেটিই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার মূল বিবেচ্য বিষয়। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।
এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. এ কে এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৌমেন বড়ুয়া, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটনসহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ