ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ম্যাচের আগে ভায়াগ্রা নিতে পারবেন কেইনরা


ম্যাচের আগে ভায়াগ্রা নিতে পারবেন কেইনরা

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড ভিন্নধর্মী প্রস্তুতি নিয়েছে। দলের মেডিক্যাল টিম খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা (সিলডেনাফিল) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজে লাগতে পারে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ব্যবহার করা হবে প্রয়োজন মনে করলে।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার (৭,৩৫০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। উচ্চতার কারণে বাতাসের অক্সিজেনের ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকে, যা খেলোয়াড়দের শ্বাস-প্রশ্বাস, সহনশীলতা এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিষয়টি নজরে রেখেই ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ও দলের চিকিৎসকরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।

নিউজবাংলা আঠেরোর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভায়াগ্রার সক্রিয় উপাদান সিলডেনাফিল কিছু উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যায় ফুসফুসের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। যদিও এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল এখনো মিশ্র। ফলে এটি কার্যকর হবে কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, ভায়াগ্রা বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ডব্লিউএডিএ)-এর নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় নেই। তাই খেলোয়াড়রা চিকিৎসাগত প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগিতার সময় কিংবা তার বাইরে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

অন্যদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায় যে, ইংল্যান্ড শিবির উচ্চতা বা পরিবেশ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। বরং তারা পুরোপুরি ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগী।

রাউন্ড অব ১৬-এর এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এস্তাদিও আজতেকায়, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকোর রেকর্ড অত্যন্ত শক্তিশালী। নিজেদের মাঠে ৮৯ ম্যাচে মাত্র দুটি হার দেখেছে মেক্সিকো, এবং সর্বশেষ পরাজয় তাদের ২০১৩ সালে হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে তারা চারটি ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে শিরোপার জন্য লড়াইয়ে রয়েছে। তবে আগের রাউন্ডে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় তারা সতর্ক রয়েছে। তাই ফুটবলের বাইরের যেকোনো শারীরিক প্রতিকূলতা যেন ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত না করে, সেই জন্য সব ধরনের বৈজ্ঞানিক বিকল্প খোলা রাখছে ইংল্যান্ড।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে খামেনির জানাজায় অংশ নিয়ে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এমপি পীরজাদা হানজালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


ইরানে খামেনির জানাজায় অংশ নিয়ে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এমপি পীরজাদা হানজালা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণকালে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খুরশেদ আলম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা হানজালা।

সাক্ষাৎকালে দুই নেতা আন্তরিক পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন এবং সমসাময়িক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা, মুসলিম বিশ্বের চলমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফর করেন সংসদ সদস্য পীরজাদা হানজালা। সফরকালে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খুরশেদ আলম খানের সঙ্গে তার এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও জানাজাকে কেন্দ্র করে ইরানে কয়েকদিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।

প্রসঙ্গত, পীরজাদা হানজালা ১১-দলীয় জোটের সমর্থনে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একটি দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি ‘পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা এতে দুই দেশের গভীর অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্ক আরও সুসংহত হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক পরিসরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা এবং দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকার ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এই অংশীদারিত্ব আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর অবদান রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে স্পিকা‌রের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে স্পিকা‌রের বৈঠক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এ বৈঠক শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়ে ছিল। তালেবান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছে।

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি জানান, বৈঠকের বিষয়বস্তু হলো দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আলোচনা, বিশেষ করে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময়।

বৈঠকের সময় আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে যেটি ব্যাপক। তিনি এও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্পিকারও দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যেকোন ভুল এশিয়ার মানচিত্রকে পরিবর্তন করতে পারে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যেকোন ভুল এশিয়ার মানচিত্রকে পরিবর্তন করতে পারে!

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক ভুল, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভুল হিসাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই নয়, সমগ্র এশিয়ার মানচিত্রসহ কৌশলগত ভারসাম্যকেও নাড়া দিতে পারে। তাই বাংলাদেশের প্রতি যেকোনো আগ্রাসী বা একতরফা নীতির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরে ভারতের একান্ত অনুগত রাজনৈতিক দলের প্রধান শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর দুই দেশের সম্পর্ক শীতলীকরন প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে।

অতীতের একমুখী সম্পর্কের পরিবর্তে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডঃ ইউনুস এর সময় থেকে বর্তমান নির্বাচিত নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ এখন বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির পথে হাঁটছে। এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক কূটনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে এই পরিবর্তনকে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ ক্রমেই সন্দেহ ও অস্বস্তির দৃষ্টিতে দেখছে। বিশেষ করে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ক্ষমতায় আসা বিজেপির শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান সেই মনোভাবকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করেছে বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা।

বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে অধীনস্থ করে রাখার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের সীমান্ত হত্যা, সীমান্তে উত্তেজনা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি নতুন করে অবৈধ "পুশ-ইন" নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মোদি সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী আচরণের রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী, বিশেষত মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক এবং তাদের বাংলাদেশী বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা সহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টা বাংলাদেশে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যদি এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু মানবিক সংকটই নয়, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ কারণে সম্পর্কের শীতলতা থেকে উষ্ণ হওয়ার পরিবর্তে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় তা হিমাগারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এমনকি এমন ক্রমাগত উস্কানির ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাও অস্বাভাবিক নয়- যার পরিণতি আন্দাজ করা ভুলও হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রুদ্ধশ্বাস ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসানের পর থেকেই নতুন বাংলাদেশ চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও আরব বিশ্ব সহ পশ্চিমা বিশ্বের তথা ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে চলেছে, তবে সেটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির অংশ। কোনো রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থে বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে—এটাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। পূর্বের ধ্যান-ধারণা বজায় রেখে সেটাকে বা সেই সিদ্ধান্তকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোখে দেখা কিংবা অভ্যাসগতভাবে পূর্বের মতো চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কারও জন্যই লাভজনক হবে না বরং তা নিজেদের জন্যই বুমেরাং হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের নিজস্ব কৌশলগত বাস্তবতা - যে দেশের প্রায় ২৮টি অঙ্গরাজ্যে ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অনেকটিতেই দীর্ঘদিন থেকে স্বাধীনতা লাভের চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠীগুলো। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তার, একাধিক ক্ষমতাধর দেশে সঙ্গে সংবেদনশীল সীমান্ত, বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আধিপত্যবাদী মনোভাবের কারণে তৈরি হওয়া জটিল সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ভারতের সামনে এমনিতেই বহুস্তরীয় নিরাপত্তার হিসাব রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে ভুল ক্রমেও ক্ষদ্রাতি ক্ষুদ্র কোন ভুল, সংঘাত বা সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা ভারতের জন্যও অপরিণামদর্শী ও অকল্পনীয় জটিল কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে একাধিক নিরাপত্তা ফ্রন্টে চাপ মোকাবিলা করা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। যে ভুলটি দীর্ঘদিন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের উপর করে এসেছে । বিশাল সামরিক শক্তি, বিশ্বে একাধিপত্যের ভীতিকর ধারণা সবকিছু মিলিয়েই ইরানকে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুল হিসেব করে সহজেই পর্যদুস্তু করতে চেয়েছিল-এমনকি শাসন ব্যবস্থা সহ তাদের মেরুদন্ডও ভেঙে দিতে চেয়েছিল - পরিণতি কি? বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্যের স্থানে বহু মেরু ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে এখন গোটা বিশ্ব, এমনকি রাজনৈতিকভাবে উভয় দেশ তাদের নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে ভবিষ্যৎ ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি করেছে।

এ কারণেই নিজেদের অসংখ্য দুর্বলতা, সীমান্ত জটিলতা, পূর্ব-পশ্চিমে শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দুই পরাশক্তির সাথে ক্রমাগত সীমান্ত উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোতে স্বাধীনতার বিস্ফোরণের চাপ থাকার পরেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের কোন ধরনের শক্তি প্রদর্শনের ভুল রাজনীতি কিংবা সামরিক চাপের কৌশলকে সহজ সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, অর্থনৈতিক করিডোর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশ আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও ভূ-রাজনৈতিকভাবে বিশ্বের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্ব পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল এর পরিবর্তে তাদের নিজেদের পরাশক্তির শত্রুতা ভুলে একসাথে হতে সময় লাগবে না। এ কারণে একটি ছোট্ট ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কখন যে প্রত্যাশার সীমা ছাড়িয়ে যাবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

 
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় মহারাষ্ট্র হিসেবে খ্যাত ভারতকে এত বড় শক্তি হিসেবে দেখতে চায় না বিশ্বের পরাশক্তি গুলো। বিশ্ব শাসনের সুপার পাওয়ার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়া, রাশিয়া থেকে চীন এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের মার্কিন মিত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও ভারতের এই বিশাল ভূখণ্ডকে নিয়ে কৌশলগত রাজনীতিতে একমত। অর্থাৎ বিশ্ব পরাশক্তির রাজনীতিতে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ পরাশক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ অবস্থায় থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতি রাজনীতির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একই মেরুতে এসে যুক্ত হয়- এটি ভারতের নীতি নির্ধারণী কৌশলবিদ তথা রাজনীতিবিদদের অনুধাবন করা সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ আজ আর অতীতের সেই অবস্থানে নেই, যেখানে তার কৌশলগত গুরুত্বকে উপেক্ষা করা সম্ভব। বঙ্গোপসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক, আঞ্চলিক সংযোগ এবং অর্থনৈতিক করিডোরের কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশ এখন বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে বাংলাদেশের প্রতি যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ শুধু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মহা সংকট সৃষ্টি করবে না; বরং সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত মানচিত্র ও পরিবেশকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, শক্তির অহংকার অনেক সময় রাষ্ট্রকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে যার মূল্য বহু বছর ধরে দিতে হয়। তাই আজ প্রয়োজন সংঘাতের ভাষা নয়, বাস্তবতার ভাষা বোঝা। বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যথায় একটি ক্ষুদ্র ভুল হিসাব কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, সমগ্র এশিয়ার মানচিত্রসহ ভূরাজনীতির গতিপথকেও অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে দিতে পারে - এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%