০৪:০৩ পি.এম
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে একসময়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল বাঁশ-বেতের তৈরি নানা সামগ্রী। ঘরের কাজে ডালা, কুলা, ঝুড়ি থেকে শুরু করে মাছ ধরার আটোল, পাটা ও খারাসহ নানা উপকরণ তৈরি হতো বাঁশ-বেত দিয়ে। সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক ও আধুনিক সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ায় সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে জীবন আর জীবিকার তাগিদে এখনও সেই পুরোনো ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে রেখেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের আব্দুস সাত্তার, জবেদ আলী মেম্বর ও নুর গাজীসহ অনেকে।
বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও থেমে নেই আব্দুস সাত্তারের কর্মযজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে নিজ হাতে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করছেন ডালা, বুড়ি, কুলা, মাছ ধরার খারা, আটোল, শিশুদের দোলনাসহ নানা ধরনের সামগ্রী। এসব পণ্য হোগলা মোড়ে সাজিয়ে রেখে বিক্রি করেন তিনি। নিজের হাতে তৈরি এসব সামগ্রী বিক্রির আয় দিয়েই চলে তাঁর জীবন-জীবিকা। বয়সের ভারে কাজের গতি আগের মতো নেই। তবুও হাতের কাজ থামাননি আব্দুস সাত্তার গাজী। বাঁশ চেছে, বেত কেটে, ধীরে ধীরে নিপুণ হাতে তৈরি করেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তাঁর কাছে এই কাজ শুধু পেশা নয়, জীবন চালিয়ে নেওয়ার একমাত্র অবলম্বন।
সরেজমিনে হোগলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বাঁশ-বেতের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন আব্দুস সাত্তার গাজী, জবেদ আলী ও নুর গাজী। স্থানীয়দের পাশাপাশি পথচারী ও ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সামগ্রী কিনছেন। তাঁদের দোকান থেকে
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
এ স্টলে বাঁশ-বেতের তৈরি কুলা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোট বুড়ি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, মাছ ধরার খারা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, আটোল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং শিশুদের দোলনা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী।
আব্দুস সাত্তার গাজী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাঁশ-বেতের সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন। একসময় এসব পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। এখন প্লাস্টিক ও অন্যান্য আধুনিক সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো পরিশ্রমও করতে পারেন না। তারপরও সংসারের খরচ চালাতে কাজ করে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আব্দুস সাত্তারের মতো কারিগররা নিজের জীবিকার পাশাপাশি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যও ধরে রেখেছেন। একসময় মানুষের ঘরে ঘরে বাঁশ-বেতের সামগ্রী দেখা গেলেও এখন সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক ও আধুনিক উপকরণ। ফলে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক কারিগরই এখন জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, বাঁশ-বেতের ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ কারুশিল্প বাঁচবে, অন্যদিকে আব্দুস সাত্তারের মতো প্রবীণ কারিগরদের শেষ বয়সের জীবনযুদ্ধও কিছুটা সহজ হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন তার ইউনিয়নের হোগলা ও চাঁচাই গ্রামের অনেকেই ধরে রেখেছেন বাঁশ ও বেতের তৈরী নানান শিল্প। তবে সরকারীভাবে তাদের পৃষ্টপেশকতা দেওয়ার দরকার।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন