১১:৩৩ পি.এম
নাটোরের গুরুদাসপুরে জলসার প্যান্ডেল নির্মাণের আড়ালে ১৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি মাদ্রাসার ৫৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জমিদাতার দাবি, আদালতের ১৪৪ ধারার নির্দেশনা উপেক্ষা করেই সেখানে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের পুরুলিয়া গ্রামে।
জমির মালিক দাবিদার জিন্নাতুননেছা নামের এক নারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন দাখিল করেছেন। পিটিশনে পুরুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪০), শাহিনুর ইসলাম (৪৫), আব্দুল মাজেদ (৫১), মহিদুল ইসলাম (৩৭), আনছার আলী ও নুরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের সেই নির্দেশনা অমান্য করে বুধবার (৭ অক্টোবর) সেখানে জলসার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সাপাহারের ব্যবসায়ী কাদের মোল্লাকে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুরুলিয়া মৌজার আরএস ৫৬৭ ও ৫৭৫ দাগের ৫৫ শতক জমি বাদী জিন্নাতুননেছা তার স্বামী ইব্রাহীম আলী সরকারের সহায়তায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেছিলেন। তবে কলেজটি শেষপর্যন্ত চালু হয়নি। পরবর্তীতে সেখানে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত ১৭ বছরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
বুধবার ওই জমিতে পাশের ‘পুরুলিয়া দারুল উলুম ইবতেদায়ি নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার’ জলসার প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়।
বাদীর পরিবারের অভিযোগ, আয়োজক মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাদের জমি জবরদখল করতেই এ প্যান্ডেল তৈরি করেছে।
জমিদাতার স্বামী ইব্রাহিম সরকার বলেন, "আমার স্ত্রীর নামের ৫৫ শতক জমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা হয়েছিল। শর্ত ছিল—প্রতিষ্ঠান সচল না হলে জমি আমরা ফেরত পাব। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান চালু না হওয়ায় প্রতিপক্ষরা এটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আদালতের নির্দেশে জমি ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া চললেও এখন জলসার নামে জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা চলছে।"
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে কৃষকদলের উদ্যোগে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা
অভিযোগ অস্বীকার করে জলসা আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. মকলেছুর রহমান বলেন, "নিজেদের আঙিনায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় সাময়িকভাবে পরিত্যক্ত মাঠে প্যান্ডেল করা হয়েছে। জায়গা দখলের কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই।"
পরিত্যক্ত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান ও মামলায় অভিযুক্তরা দাবি করেন, এলাকার স্বার্থে মাদ্রাসাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় জমিদাতা পরিবার আদালতের আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ তুলছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, "আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটনাস্থলে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করে শান্তি বিঘ্নিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সিলেটের গণদাবি পরিষদের দাবি, প্যারিস-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু হোক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন