ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

গুরুদাসপুরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে জলসার কার্যক্রম অব্যাহত


গুরুদাসপুরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে জলসার কার্যক্রম অব্যাহত

নাটোরের গুরুদাসপুরে জলসার প্যান্ডেল নির্মাণের আড়ালে ১৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি মাদ্রাসার ৫৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জমিদাতার দাবি, আদালতের ১৪৪ ধারার নির্দেশনা উপেক্ষা করেই সেখানে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের পুরুলিয়া গ্রামে।

জমির মালিক দাবিদার জিন্নাতুননেছা নামের এক নারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন দাখিল করেছেন। পিটিশনে পুরুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪০), শাহিনুর ইসলাম (৪৫), আব্দুল মাজেদ (৫১), মহিদুল ইসলাম (৩৭), আনছার আলী ও নুরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের সেই নির্দেশনা অমান্য করে বুধবার (৭ অক্টোবর) সেখানে জলসার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সাপাহারের ব্যবসায়ী কাদের মোল্লাকে

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুরুলিয়া মৌজার আরএস ৫৬৭ ও ৫৭৫ দাগের ৫৫ শতক জমি বাদী জিন্নাতুননেছা তার স্বামী ইব্রাহীম আলী সরকারের সহায়তায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেছিলেন। তবে কলেজটি শেষপর্যন্ত চালু হয়নি। পরবর্তীতে সেখানে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত ১৭ বছরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

বুধবার ওই জমিতে পাশের ‘পুরুলিয়া দারুল উলুম ইবতেদায়ি নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার’ জলসার প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়।

বাদীর পরিবারের অভিযোগ, আয়োজক মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাদের জমি জবরদখল করতেই এ প্যান্ডেল তৈরি করেছে।

জমিদাতার স্বামী ইব্রাহিম সরকার বলেন, "আমার স্ত্রীর নামের ৫৫ শতক জমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা হয়েছিল। শর্ত ছিল—প্রতিষ্ঠান সচল না হলে জমি আমরা ফেরত পাব। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান চালু না হওয়ায় প্রতিপক্ষরা এটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আদালতের নির্দেশে জমি ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া চললেও এখন জলসার নামে জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা চলছে।"

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে কৃষকদলের উদ্যোগে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা

অভিযোগ অস্বীকার করে জলসা আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. মকলেছুর রহমান বলেন, "নিজেদের আঙিনায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় সাময়িকভাবে পরিত্যক্ত মাঠে প্যান্ডেল করা হয়েছে। জায়গা দখলের কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই।"

পরিত্যক্ত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান ও মামলায় অভিযুক্তরা দাবি করেন, এলাকার স্বার্থে মাদ্রাসাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় জমিদাতা পরিবার আদালতের আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ তুলছে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, "আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটনাস্থলে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করে শান্তি বিঘ্নিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সিলেটের গণদাবি পরিষদের দাবি, প্যারিস-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু হোক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে ২ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


ময়মনসিংহে ২ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাসের সন্তানকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করার ঘটনায় মায়ের দায়ের করা মামলায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের মাইজহাটি সুতিভরাট গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে নাঈম তার শিশু সন্তান মোজাহিদকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। এই বিষয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর শিশুর মা রোজিনা বেগম বিষয়টি জানতে পারেন।

শিশুটির মা জানিয়েছেন, আবেদ মোল্লার কাছে তার স্বামী নাঈম শিশুটিকে বিক্রি করে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রোজিনা বেগম ঢাকা থেকে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি সুতিভরাট গ্রামে এসে তার সন্তান বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ রোজিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে দোহার থানার হরিচন্ডি চর মাহমুদপুর গ্রামের আবেদ মোল্লার বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ আবেদ মোল্লা (৩৫), তার স্ত্রী শিখা (৩৫), ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি সুতিভরাট গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫) এবং উচাখিলা গ্রামের শরীফা খাতুন (৩৫)কে গ্রেফতার করে।

ওসি সাজ্জাদ রোমন জানিয়েছেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারদের ময়মনসিংহের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নারী আটক, জনতার হামলায় চার পুলিশ আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নারী আটক, জনতার হামলায় চার পুলিশ আহত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয়া আক্তার (২৪) নামে এক নারীকে আটক করে উত্তেজিত জনতা গণধোলাই করেছেন।

পরে, ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে জনতার ইটপাটকেল ও হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা, কনস্টেবল আতাউর রহমান, কনস্টেবল সারোয়ার হোসেন এবং কনস্টেবল আল আমিন। আহত পুলিশ সদস্য, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার এবং আটক প্রিয়া আক্তারকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আটক প্রিয়া আক্তার বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের টিপু মিয়ার স্ত্রী। উদ্ধার হওয়া শিশু ইলমা আক্তার বেথইর মহল্লার জামাল মিয়ার কন্যা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশোয়ার সুলতানা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী এসে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে ‘তোমার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন’ বলে ফুসলিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় সহপাঠীদের নজরে আসলে তারা দৌড়ে গিয়ে শিক্ষক ও দপ্তরিকে জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির বাবাসহ স্থানীয়রা খুঁজতে বের হন।

পরে বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে শিশু ইলমাকে উদ্ধার করা হয় এবং ওই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার জানিয়েছেন, ওই নারী তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কারণ তিনি বলেছিলেন যে তার বাবা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। অটোরিকশায় তোলার পর ওই নারী তার কানের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার এসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ অবরুদ্ধ নারীকে উদ্ধার করে পিকআপে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ির সামনের গ্লাস ও বাম্পার ভেঙে যায়।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানিয়েছেন, আহত চার পুলিশ সদস্য, শিশু শিক্ষার্থী এবং আটক নারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।

হামলায় আহত এসআই মো. মাসুদ রানা বলেন, "খবর পেয়ে অবরুদ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হই এবং গাড়ির ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

মুন্সীগঞ্জে কোটি টাকার আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক দুই ব্যাংক ম্যানেজারসহ ৫ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে কোটি টাকার আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক দুই ব্যাংক ম্যানেজারসহ ৫ গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় শ্রীনগর থানা পুলিশ সাবেক দুই ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সহযোগিতা ও মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার সাময়িক বরখাস্ত কর্মকর্তা (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তা প্রহরী রঞ্জু আহম্মেদ এবং সাময়িক বরখাস্ত নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল হাই। এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছেছে।

এর আগে একই ঘটনায় জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে ওই শাখার রেমিট্যান্স কর্মকর্তা মো. শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোহাগ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে থাকার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ায় তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মুঠোফোন, চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড ও একটি লকারের চাবি উদ্ধার করা হয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, দায়িত্ব পালনকালে শরীফুজ্জামান সোহাগ গ্রাহকদের টাকা জমা নেওয়ার রসিদ দিলেও তা হিসাবে জমা করতেন না। এছাড়া অনেক গ্রাহকের অজান্তেই তাদের হিসাব থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হতো। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শাখায় গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে।

২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গ্রাহক লিখিত অভিযোগ জমা দেন, যাতে আত্মসাৎ হওয়া আমানতের দাবি ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) ছায়া তদন্তে নামে। মূল অভিযুক্ত শরীফুজ্জামানকে ইতোমধ্যে দুদকের মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী জানান, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং আত্মসাতের সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মেলায় শ্রীনগর থানা পুলিশের সহায়তায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত পাঁচজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা ও আইনি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রানওয়ে সম্প্রসারণে বাঁকড়া মসজিদ: আদালতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ পি.এম


রানওয়ে সম্প্রসারণে বাঁকড়া মসজিদ: আদালতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

নামাজ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মসজিদ থাকা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি জমিতে অবস্থিত ধর্মীয় স্থাপনা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের বিষয়ক বাঁকড়া মসজিদ মামলায় আদালতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়েছে।

বুধবার মামলার শুনানিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সৌমিন্দ্রনাথ মুখার্জি বলেন, "বিতর্কিত জমিটি সরকারি জমি। নামাজের জন্য নির্দিষ্ট একটি মসজিদ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। অন্য যেকোনো স্থানেও নামাজ আদায় করা সম্ভব। দেশের নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তার মতো বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।"

আদালতকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ওই জমি ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি অধিগ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছিল। পুনর্বাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

আইনজীবী আরও জানান, ওই জমিতে অবস্থিত মসজিদের কারণে বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

গত ১৩ মে বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৩ মে মসজিদ কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ৮ জুলাইয়ের বৈঠকে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট প্রবেশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীও আদালতে বলেন, "সংবিধানে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্থাপনার জন্য কোনো বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়নি।" তাঁর দাবি, বৃহত্তর জনস্বার্থ বা জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে জমি অধিগ্রহণে কোনো ধর্মীয় কাঠামো বাধা হতে পারে না।

আদালতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, "প্রায় ১৩৬ বছর ধরে ওই মসজিদে নামাজ ও ধর্মীয় আচার পালন হয়ে আসছে। এত বছর ধরে সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি।"

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, কোনো মসজিদ ভেঙে অন্য ধর্মীয় স্থানে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে না। পাশাপাশি জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকায় সব ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের দাবি একইভাবে প্রযোজ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ শুনানির পর বুধবার আদালত কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেননি। আগামী ৯ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%