১১:১৮ পি.এম
সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে ভারত ৫২ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বেশ কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য সম্মতি দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিএসি)।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, স্থলবাহিনীর জন্য অনুমোদিত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ‘আকাশ তরঙ্গ’ অ্যান্টি-ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল (এমপিএটিজিএম), মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এমআরএসএএম), ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ভি-শোরাডস), ট্যাংকের অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম এবং জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এমপিএটিজিএম পদাতিক বাহিনীর ট্যাংকবিধ্বংসী সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে। এমআরএসএএম মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বহুমাত্রিক সেন্সরসমৃদ্ধ ভি-শোরাডস শত্রুর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকরভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি ট্যাংকের অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম যুদ্ধক্ষেত্রে সুরক্ষা বৃদ্ধি করবে এবং কামিকাজে ড্রোন কম খরচে অধিক কার্যকর আঘাত হানার সক্ষমতা যোগাবে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
নৌবাহিনীর জন্য মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (এমআইজিএম), নৌযানভিত্তিক মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা (এনএসইউএএস) এবং ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেমের জন্য একটি স্থলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এমআইজিএম শত্রুপক্ষের নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে সমুদ্রে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে। এনএসইউএএস উন্নত সেন্সরের মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আর নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র ভবিষ্যৎ যুদ্ধজাহাজের জন্য ইলেকট্রিক প্রপালশন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া বিমানবাহিনীর জন্য ফিক্সড-উইং হাই অলটিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (এফডব্লিউ-হ্যাপস) প্ল্যাটফর্মসহ আরও কিছু প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম এই প্ল্যাটফর্ম গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, টেলিযোগাযোগ এবং দূর অনুধাবন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে। এতে বিমানবাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিপ্রায়, সর্বশেষ এই অনুমোদন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে নতুন গতি এনে দেবে। দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার ফলে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ- তিন ক্ষেত্রেই ভারতের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে। সূত্র: দ্য হিন্দু
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন