ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে পাওনা শোধ না হওয়ায় অর্ডার স্থগিত করছে পোলিশ পোশাক কোম্পানি এলপিপি


বাংলাদেশে পাওনা শোধ না হওয়ায় অর্ডার স্থগিত করছে পোলিশ পোশাক কোম্পানি এলপিপি

পোল্যান্ডের আন্তর্জাতিক পোশাক জায়ান্ট ‘এলপিপি’ বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ (অর্ডার) দেওয়া স্থগিত করেছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার (সাড়ে চার শ কোটি টাকা) পাওনা শোধ না করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ১৮ মাস ধরে বকেয়া অর্থ আটকে রাখার পর তারা উল্টো সোর্সিং বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য পাওয়া যায়।

৩০ জুলাই বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ ব্যবসার কৌশলগত পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশে সব ধরনের নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখছে তারা। এটি ছাড়াও পোশাক সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে বিকল্প উৎপাদনের সুযোগ খোঁজার হুমকিও দিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউসগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় কারখানাগুলো আদালতের শরণাপন্ন হলে এলপিপি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। বকেয়া পরিশোধ নিয়ে আলোচনার মূল শর্ত হিসেবে দায়ের করা সব আইনি মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতেই সরাসরি ব্যবসায়িক জটিলতা এড়াতে এলপিপির দেওয়া গ্যারান্টিতে ‘এফইএস রিটেইল’ নামে একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পোশাক তৈরির কাজ চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তত ৪০টি কারখানা ও বায়িং হাউস ওই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে যাহা তৈরি ও পাঠায়। তবে পণ্য পৌঁছানোর পর থেকেই গত দেড় বছর ধরে এলপিপি কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। এলপিপির দাবি, ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো দেনা-পাওনার হিসাব নেই।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বিপুল পরিমাণ পোশাক সোর্সিং করা এই বহুজাতিক ব্র্যান্ডের একপক্ষীয় সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে দেশীয় তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। তারা পাওনা না মিটিয়ে ক্রয়াদেশ স্থগিত করার এই পদক্ষেপকে দেশীয় সরবরাহকারীদের ভয় দেখিয়ে কোণঠাসা করার একটি অপকৌশল হিসেবে দেখছেন।

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা ও সমাধানের পথ খুঁজতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।

আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, ‘তারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং বন্ধ করবে কি না, সেটি তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের রপ্তানিকারকদের পাওনা না দিলে এলপিপিকে বাংলাদেশে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ফোরামেও প্রতিষ্ঠানটির এই অনিয়মের কথা তোলা হবে।’

এদিকে, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, বছরে ৭০ কোটি ডলারের বাজার হারানো খাতটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাই সমঝোতার মাধ্যমে বকেয়া উদ্ধার এবং বাণিজ্য বজায় রাখার পথ খোঁজা উচিত। তিনি আরও জানান, এলপিপি পূর্বে বকেয়ার ৫০ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা স্থানীয় কারখানার জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবাইয়ে কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন বেনজীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


দুবাইয়ে কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন বেনজীর

দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর।

কারামুক্তির সংবাদ পেয়ে দেশের বেসরকারি গণমাধ্যম এশিয়া পোস্ট তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়।

গণমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

তবে জানা গেছে, বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে সেখানকার আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে বেনজীরকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।

এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

এর আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে বাণিজ্য চলেছে, অধ্যক্ষ নিউজ না করার অনুরোধ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে বাণিজ্য চলেছে, অধ্যক্ষ নিউজ না করার অনুরোধ করেছেন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রবেশপত্র বিতরণের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড প্রবেশপত্র বিতরণের জন্য কোনো ধরনের ফি নির্ধারণ করেনি।

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্র ফি ছাড়া বোর্ড নির্ধারিত ফি মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ১৪০ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফির বাইরে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ২৪২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার এবং অনেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবারও আলাদাভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবেশপত্র বিতরণের সময়ও প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানান পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ফরম পূরণের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছিলেন, আদায়কৃত টাকার মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু পরে পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবার আলাদাভাবে টাকা নেওয়া হয়। একই সাথে প্রবেশপত্র সংগ্রহের সময়ও ১ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য হওয়া যায়। এতে অনেক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী শামিম বলেন, আমি মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। ফরম পূরণের সময় আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আরও ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী জাহিদ বলেন, ফরম পূরণের সময় আমি ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আরও ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পরীক্ষার্থীর স্বজন জানান, আমার স্ত্রী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার ফরম পূরণের সময় ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের সময় ১ হাজার টাকা এবং প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আরও ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অথচ আমরা জানি, প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষা বোর্ড কোনো ফি নির্ধারণ করেনি এবং ফরম পূরণের ফিরও নির্দিষ্ট হার রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।

এই বিষয়ে দুলারহাট মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউছুফ আলীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর তিনি কলেজে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে কলেজে গেলে তিনি রিপোর্টটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন মাসুদ বলেন, এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


শতবর্ষের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহের কারণে rবিবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর ফলে অতীতের শতবর্ষের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ইয়াংসান শহরে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে টানা পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে, দেশের বিভিন্ন শহরেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায়, রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ বছর প্রথমবারের মতো এই বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষে জানিয়েছে, কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেই জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। অথচ ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল বছরে মাত্র ৮ দিন। অর্থাৎ কয়েক দশকের ব্যবধানে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকলে তাকে ক্রান্তীয় রাত বলা হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, দাবদাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক রেকর্ড তাপমাত্রাও সেই বৈশ্বিক পরিবর্তনেরই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন; শিশুর সুস্থ বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ইউএনও ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


কাউখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন; শিশুর সুস্থ বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ইউএনও ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

'জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি, বেগবান'—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্থায়ী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোমা সরকার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সাবেক সভাপতি এনামুল হক এবং ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা এবাদত হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনোলজিস্ট এবিএম আনিসুল হক।

অনুষ্ঠানের সভাপতির ডাঃ সুব্রত কর্মকার বলেন, মায়ের দুধ একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম ও সর্বোত্তম খাদ্য। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিশু অপুষ্টি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পায় এবং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে ঘটে। একই সঙ্গে মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও মাতৃদুগ্ধ পান করানো অত্যন্ত উপকারী।

তিনি আরও বলেন, "বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের লক্ষ্য হলো পরিবার ও সমাজের সব স্তরে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রত্যেক মা যেন পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান তা নিশ্চিত করা।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপিত হয় শিশুর জন্মের পর থেকেই। তাই মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মায়েদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো শিশু মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত না হয়।"

তিনি আরও বলেন, "সরকার মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে একযোগে কাজ করতে হবে।"

আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের তাৎপর্য এবং শিশুর সুস্থ বিকাশে মাতৃদুগ্ধের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%