০২:৫০ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহের কারণে rবিবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর ফলে অতীতের শতবর্ষের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ইয়াংসান শহরে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে টানা পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে, দেশের বিভিন্ন শহরেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায়, রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ বছর প্রথমবারের মতো এই বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের দাবি, আইজিপির বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষে জানিয়েছে, কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেই জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। অথচ ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল বছরে মাত্র ৮ দিন। অর্থাৎ কয়েক দশকের ব্যবধানে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকলে তাকে ক্রান্তীয় রাত বলা হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, দাবদাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক রেকর্ড তাপমাত্রাও সেই বৈশ্বিক পরিবর্তনেরই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।
আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের চিন্তা পুলিশের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ: আমীনের উদ্বেগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন