০১:০৩ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনলাইন কনটেন্ট নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
এই অভিযোগে বলা হয়েছে, টিকটকের কিছু নকশাগত বৈশিষ্ট্য শিশুদের অনলাইনে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্যের ফলে শিশুরা যৌন শিকারি বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারে, এ ব্যাপারে ইইউ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, টিকটককে বেশ বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে যে, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর আওতায় এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
এখনো এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রাথমিক তদন্তের ফল। ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। গত দুই বছরে টিকটকের বিরুদ্ধে এটি হলো ইইউর চতুর্থ অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ : ইশরাক হোসেন
ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ, টিকটকের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নকশা শিশুদের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করছে না। কমিশনের মতে, টিকটকে শিশুদের অ্যাকাউন্ট অনেক ক্ষেত্রে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা যায়। এর ফলে অপরিচিত ব্যক্তিরা তাদের পোস্ট দেখতে পারে, ফলে শিশুরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারে বা অনলাইনে ক্ষতিকর ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসতে পারে। কমিশনের আরেকটি উদ্বেগ হচ্ছে, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট করা হলেও শিশুদের পুরোপুরি নিরাপদ রাখা যাচ্ছে না, কারণ অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের অনুসরণ তালিকা ও অনুসারীর তালিকার মাধ্যমে সহজে খুঁজে বের করতে পারে। এমনকি যাদের টিকটক অ্যাকাউন্ট নেই, তারাও কিছু ক্ষেত্রে এই তথ্যের মাধ্যমে শিশুদের শনাক্ত করতে পারে। ইইউর নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টের ডিফল্ট বা স্বাভাবিক সেটিংসে পরিবর্তন আনা দরকার।
টিকটক জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। টিকটকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কিশোরদের অ্যাকাউন্টে শুরু থেকেই ৫০টির বেশি নির্ধারিত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।' প্রতিষ্ঠানটি আরো বলেছে, ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শুরু থেকেই ব্যক্তিগত থাকে। টিকটকের দাবি, তারা এমন কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের একটি যেখানে কম বয়সী কিশোররা সরাসরি বার্তা পাঠানোর সুবিধা ব্যবহার করতে পারে না এবং তাদের কনটেন্ট ‘ফর ইউ’ ফিডে দেখানোর জন্য নির্বাচন করা হয় না।
টিকটক এখন ইউরোপীয় কমিশনের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবে। এরপর তারা নিজের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা জমা দিতে পারবে। সব তথ্য পর্যালোচনার পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী টিকটকের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন বলেন, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সেবার নকশার মধ্যেই শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'প্ল্যাটফর্মগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তারা তা করতে ব্যর্থ হলে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'উচ্চমানের নিরাপত্তা আলাদা করে চালু করার মত কোনো বিষয় নয়। এটি শুরু থেকেই সেবার স্বাভাবিক অংশ হওয়া উচিত।' টিকটকের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ ইউরোপে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তে থাকা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইশরাক কাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্পষ্ট: আখতার হোসেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন