প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া সত্ত্বেও ২৬ দিনের অনশন কেন প্রত্যাহার করলেন, সে সম্পর্কে মুখ খুলেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ ঠেকানো।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বহাল থাকলেও অনশন চালিয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা যদি আরও ঝুঁকিতে পড়ে, তবে সেটি তিনি চাননি। এজন্য তিনি সরকার থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরেই অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।
অবশ্য, ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে ছিলেন। তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে জানায়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। এসময় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলা হয়।
ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনার মুখে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ তোলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত না করেই তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। এই বিষয়ে ওয়াংচুক বলেন, “কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়। আমি চেয়েছি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের না করা হয়।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। তবে সরকার এব্যাপারে আরও সময় চেয়েছে। ওয়াংচুকের দাবি, জনগণের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকার একসময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। এজন্য তিনি আন্দোলনের অন্যান্য দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এদিকে, সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। ওয়াংচুক বলেন, “যদি সমঝোতাই করতে হতো, তাহলে ২৬ দিন না খেয়ে অনশনে থাকার প্রয়োজন ছিল না। সহজ পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার সামনে ছিল।”
তিনি জানান, অনশন ভাঙার পর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
এছাড়া, অনশন ভাঙার সময় আন্দোলনের সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের অনেকেই তার পাশে থাকতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। তার ভাষায়, অনশন চলাকালে যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের অনুপস্থিতিই ছিল তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ওয়াংচুকের মতে, এই দাবি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সামনে এগিয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন