বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এই চুক্তি ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী বছরগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মোদি।
বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের পরে মোদি বলেন, ‘আজ আমরা পারমাণবিক জ্বালানি বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’
এ সময় তিনি আরও জানান, ‘এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে নতুন গতি আসবে।’
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি করা হবে।
এতে আরও সংযোজন করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।’
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম রপ্তানির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে এতদিন দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্যের ব্যাপকতা ছিল না।
বৃহস্পতিবারো, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আলবানিজ।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র : এএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বক্তব্য নিয়ে সরকারের মনে কোনো গুরুত্ব নেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার মনে করে, দণ্ডিত একজন আসামির রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব পড়ে না। বাংলাদেশ ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব বিষয় উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় ভারত। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার প্রত্যয়ের কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং উল্লেখ করেন যে, দণ্ডিত একজন আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনোভাবেই প্রভাব ফেলে না। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। সরকার এই বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতায় কোনো ঘাটতি রাখে না।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের মন্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ চলছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে এবং একটি প্রগতিশীল অগ্রগতি সাধিত হবে।
মন্ত্রণালয়ে রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার আলোকে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজন, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যোগ্যতা ও দেশের প্রতি ভালোবাসাই সবার চেয়ে প্রধান বিবেচ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৬০০ জনে পৌঁছিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাত্র তিন দিন আগে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭৫৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য থেকে ৬০০ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেশী উগান্ডায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে ১৭ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, দেশটিতে এই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৩৪ শতাংশ।
ডিআর কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ২৮৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণসহ এই জ্বরে আক্রান্ত সন্দেহভাজন আরও ৩০৪টি ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব চারটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এই ধরনের ইবোলার জন্য এখনো পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসাপদ্ধতি নেই।
গত ২ জুলাই ডিআর কঙ্গোতে বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলার সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসাপদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করা হয়েছে।
এই পরীক্ষায় মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি ১৩৪ ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের কার্যকারিতা পৃথক ও সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহর মাশহাদে দেশটির নেতা আলী খামেনিকে দাফন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির মানুষ।
এদিকে, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফনের আগে কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ অংশ নেন।
মাশহাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।
তবে খামেনির এই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ‘আরও ভয়াবহ’ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রথম দিনেই খামেনি নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই যুদ্ধের সূচনা হয়।
বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় দীর্ঘ শোকযাত্রা শেষে তার মরদেহ চূড়ান্ত দাফনের জন্য মাশহাদে নেওয়া হয়।
এদিকে পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির দিকে। তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, যেই হামলায় তার বাবা নিহত হন, সেই একই হামলায় তিনিও আহত হন।
মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনির উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, খামেনির জানাজায় প্রায় দেড় কোটি মানুষের অংশ নেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
জানাজা বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরাকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে দেরি হওয়ায় পরে আয়োজকদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অনুষ্ঠানটি দুপুর ২টায় শুরু হবে।
সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের সবচেয়ে পবিত্র প্রার্থনাস্থল ইমাম রেজার মাজারে খামেনিকে দাফন করা হবে।
১২ শিয়া ইমামের মধ্যে শুধু ইমাম রেজাই ইরানে সমাহিত আছেন।
খামেনির শেষ বিদায়ের বিভিন্ন আয়োজন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তিকে প্রতিফলিত করে এমন বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তার চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মাদি-গোলপায়েগানি এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, খামেনি নিজেই মাশহাদে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইমাম রেজার মাজারে ইরানের একাধিক সাবেক শাহ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে।
উপচে পড়া জনসমাগম ঘটেছে।
খামেনির মরদেহ তেহরানে তিন দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শায়িত রাখার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের ছয় মাস পর এই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিহত হন।
টানা পাঁচ সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সাময়িকভাবে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা দুর্বল করতে হামলা চালানো হয়েছে বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা দেওয়ার পর, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালীই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়।
হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপকূলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।
এর আগে তেহরান দাবি করে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
তেহরানে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ ধর্মীয় শহর কোমে নেওয়া হয়। বুধবার সেখান থেকে নেওয়া হয় প্রতিবেশী ইরাকে। এরপর বৃহস্পতিবার মাশহাদে তাকে দাফন করা হচ্ছে।
খামেনির সঙ্গে একই কবরে তার শিশু নাতনি, জামাতা, মেয়ে ও মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেলকেও দাফন করা হবে। তারা সবাই ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানার পর, ইতিমধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি সোজা তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে।
এই অবস্থাতে বৃহস্পতিবার দ্বীপটিতে ‘ধ্বংসাত্মক’ বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
টাইফুন বাভির প্রভাবে তৈরি হয়েছে কয়েক মিটার উঁচু ঢেউয়ের। শুক্রবার ও শনিবার এটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানার পর চীনে প্রবেশ করতে পারে।
চলতি সপ্তাহেই প্রাণঘাতী ঝড়ে চীনের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাইওয়ানের কিলুং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) আবহাওয়াবিদ জেসন চেং এএফপিকে বলেছেন, ‘তুলনামূলক ধ্বংসাত্মক’ বাতাস তাইওয়ানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দরনগরী কিলুং ও উপকূলীয় ইলান কাউন্টিও।
সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন হিসেবে আঘাত হানার পর, প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি কমে টাইফুনে পরিণত হয়েছে।
সিডব্লিউএ জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮৪ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২২৭ কিলোমিটার।
জেসন চেং জানিয়েছেন, ঘণ্টায় ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিলোমিটার হওয়ার কারণে ১৯৯৫ সালে ঝড়ের আকার পরিমাপের পদ্ধতি পরিবর্তনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানার সবচেয়ে বড় টাইফুন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উত্তরাঞ্চলের ইলান ও কিলুং এলাকায়। তবে টাইফুনের কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে চলাচলকারী অধিকাংশ ফেরি সার্ভিস স্থগিত করা হয়েছে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড উপকূল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের তাইতুং কাউন্টি ও অর্কিড দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্রে ইতোমধ্যে চার থেকে ছয় মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
কিলুং বন্দরে মাছ ধরার নৌকার মালিক, ৭৫ বছর বয়সী তুং ওয়ান-ছাই বলেছেন, আসন্ন টাইফুন নিয়ে তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এটি অনেক বড় ও শক্তিশালী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না করলেও, এর ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি অত্যন্ত বড়। বিশেষ করে বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী এটি উত্তর-পশ্চিম দিকের টাইফুনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ডেকে আনবে।’
‘খুবই বিপজ্জনক'
৫৩ বছর বয়সী মাছ ধরার নৌকার অধিনায়ক চ্যাং টিং-হসিন জানিয়েছেন, টাইফুনের কারণে তিনি পরিকল্পনার কয়েক সপ্তাহ আগে বুধবার রাতে বন্দরে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। ফিরে না এলে এমনকি এক দিন দেরি হলেও ও টাইফুনের গতিপথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে এবং এটি দ্রুত এগিয়ে এলে, তখন পালানোরও সময় পাওয়া যাবে না।’
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোতে শুক্রবার স্কুল ও সুপারমার্কেট বন্ধ থাকবে।
জাপানের গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বাভির আগমনের আগে আনারস চাষিরা আগেভাগেই ফল সংগ্রহ করে নিয়েছেন। জেলেরা তাদের নৌকা নিরাপদে বেঁধে রেখেছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগটির আঘাত হানার আশঙ্কায় কয়েক ডজন ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
তাইওয়ান অতিক্রম করার পর সপ্তাহের শেষে চীনের পূর্বাঞ্চলে বাভির আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি সপ্তাহেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এসেছে। সেখানে ঝড়ে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে এবং একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের জুন মাস। আগামী মাসগুলোতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডও হতে পারে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, ক্রান্তীয় ঝড় আরও শক্তিশালী হয়। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতাও বৃদ্ধি পায়, যা ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
এবারও ফিরে এসেছে প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এটি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ