ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ঢাবি উপাচার্য

ডাকসু নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত হয়নি, পর্যালোচনায় আছে


ডাকসু নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত হয়নি, পর্যালোচনায় আছে

ডাকসু নির্বাচনের তফসিল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন কীভাবে আয়োজন করা হবে, নির্বাচনের জন্য কী কী প্রস্তুতি প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন কারা-এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সক্রিয় ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা পরিষদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

বুধবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা

এদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি আবাসিক হলের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে প্রতিবেদন দিতে প্রভোস্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রভোস্টরা নিজ নিজ হলে সভা করবেন এবং সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে বৈঠক করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ডাকসুর সংবিধানের ৬ (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচিত পদাধিকারীরা সর্বোচ্চ আরো ৯০ দিন অথবা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে-দায়িত্বে থাকতে পারবেন।

এতে করে ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা

বর্তমান ডাকসু কমিটি গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে হিসাবে তাদের এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচন তফসিল চূড়ান্ত না হলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাবানল-দাবদাহ, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


দাবানল-দাবদাহ, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ

ইউরোপে গ্রীষ্মের সময় দাবদাহ এবং ভয়াবহ দাবানলের ঘটনাগুলি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সম্প্রতি বেলজিয়ামে ঘটে যাওয়া একটি রেকর্ড ভাঙা দাবানল এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এই দাবানল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়, যেখানে পিটল্যান্ড ও পাইন বন সহ প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তীব্র তাপদাহের কারণে, তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে যায় এবং এই পরিস্থিতির ফলস্বরূপ এই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। এর ফলস্বরূপ, প্রশাসন ওয়াইমস ও বুটজেনবাখ এলাকার অন্তত ৬০০ বাসিন্দা এবং পর্যটককে দ্রুত সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত জরুরি উদ্ধারকারী দল দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় কাজ করে চলেছে। সাম্প্রতিক কিছু বৃষ্টি ও একটু ঠান্ডা আবহাওয়া উদ্ধারকর্মীদের কাজে সামান্য স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু সংকট এখনও কাটেনি।

বেলজিয়ামের এই ঘটনা আসলে উত্তর গোলার্ধজুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম আবহাওয়ার অংশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের স্থলভাগ এবং সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপদাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বিপজ্জনক দাবানল হয়েছে, যা এখন নিত্যদিনের সংযোগ হয়ে উঠেছে। অনেক অঞ্চলে আকস্মিক অতিবৃষ্টি এবং বন্যাও দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলের এই টানা চরম রূপের মূল কারণ হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং উত্তর গোলার্ধজুড়ে বিস্তৃত উচ্চ ও নিম্নচাপ ব্যবস্থা। এই উচ্চচাপ এলাকাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থেকে গরম এবং শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা সপ্তাহজুড়ে স্থায়ী হচ্ছে।

এই স্থবির উচ্চচাপ ব্যবস্থার কারণে মাটির আর্দ্রতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। তাছাড়া দাবানলের ফলে বায়ুমণ্ডলে বায়ুদূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ইউরোপের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু অনুঘটক 'এল নিনো'র ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করে থাকলেও জলবায়ু বিজ্ঞানীদের ধারণা ভিন্ন। ইউরোপীয় মহাদেশীয় আবহাওয়ার ওপর প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠীয় তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব স্থায়ীভাবে নয়। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেললেও ইউরোপের অক্ষাংশে এর প্রভাব অত্যন্ত পরোক্ষ এবং তুলনামূলকভাবে দুর্বল। যদিও এটি শীতকালে পশ্চিমা এবং দক্ষিণ ইউরোপে কিছুটা মৃদু বা আর্দ্র আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তবে গ্রীষ্মকালীন তাপদাহে এর সরাসরি কোনো বড় প্রভাব নেই।

বাস্তবতা হলো, ইউরোপের এই চরম গ্রীষ্মকালীন তাপদাহ এবং ক্রমবর্ধমান দাবানলের মূল কারণ স্থানীয় এবং কাঠামোগত বিষয়। বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা স্থায়ী উচ্চচাপ, পিটল্যান্ড এবং মাটির উপরের গভীর শুষ্কতা এবং মানুষের কারণে হওয়া দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনই এই পরিস্থিতিকে প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক চক্র বিশ্বব্যাপী কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিলেও, ইউরোপে তাপদাহ এবং দাবানলের মূল জ্বালানি যোগাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং অভ্যন্তরীণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনগুলির প্রভাব।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার ৪ জনের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


গাজীপুরে ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার ৪ জনের মরদেহ

গাজীপুরে গত ২৪ ঘন্টায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একটি ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত এক যুবক, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক নারী এবং মোটরসাইকেল চালক ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত এক দিন মজুর রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর এবং মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এ দুর্ঘটনাগুলি ঘটে।

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রেল পথের কালিয়াকৈর উপজেলার হাইটেক পার্ক এলাকায় ঢাকাগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবক শাকিল (৩১) নিহত হয়। নিহত শাকিল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টেকিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অপরদিকে, শ্রীপুরের বরামা গ্রামের সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ তারা বানু ঔষুধ কেনার জন্য অটোরিকশাযোগে বাজারে যাচ্ছিলেন। এদিন দুপুরে শ্রীপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌছালে দ্রুত গতির ডাম্প ট্রাক অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এসময় অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে তাদের বানু নিহত হয়। নিহতের ছেলে মাইনুদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আরো চার যাত্রী গুরুতর আহত হন।

নিহত তারা বানু উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা গ্রামের মৃত আব্দুর হাইয়ের স্ত্রী। আহতরা হলেন একই গ্রামের আব্দুল আউয়াল (৪৫), মমতাজ উদ্দিন তালুকদার (৪০) এবং নুরুল ইসলাম (৩২)। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দিনমজুর পলাশ চন্দ্র (৪০) নিহত হয়েছে। তিনি দিনাজপুরের কাহারুল খান্ডা গ্রামের সূর্য কান্তের ছেলে এবং ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের বাড়িতে বসবাস করে দিনমজুরের কাজ করতেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরে গোসল শেষ করে ভেজা কাপড় উঠানের তারে মেলে দিতে যান। হঠাৎ কোনো এক সময়ে বিদ্যুতায়িত হওয়া ওই তারের স্পর্শ করার সাথে সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দিনমজুর নিহত হয়।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং নিহতের স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করে।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা শাহাবুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মহানগরীর রাজেন্দ্রপুর (বিমান বাহিনী) ঘাঁটি এলাকায় ইউটার্ন নেওয়ার সময় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


দীঘিনালায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নে মাদক সেবনের দায়ে মো. রিয়াদ হোসেন নামে এক যুবককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের কাঠাল বাগান এলাকায় মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রিয়াদ হোসেন কাঠাল বাগান এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাঠাল বাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় রিয়াদ হোসেনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯(১)(গ) ধারা অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট মামলা নম্বর ১৯/২৬-এর মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

দণ্ডাদেশের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদক সেবন ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এর প্রভাব পরিবার ও সমাজেও পড়ে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীঘিনালাকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিল ইরান

ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ এমনটি বলেছে।

তেজি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের বৈরী নীতি এখনো ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানি জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী বৈরিতার আরেকটি উদাহরণ। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরানে সংঘটিত অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৫৩ সালের পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি বিভিন্ন মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ‘আইনবহির্ভূত ও আধিপত্যবাদী’ নীতির বিষয়টিও আরও স্পষ্ট হয়েছে, বলেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারেও প্রভাব ফেলছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর আরোপ করা এসব নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ইরানি নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু। এ কারণেই এগুলোকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসাবে বিবেচনা করছে তেহরান।

মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তেহরানের দাবি, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের পরেও ইরান তাদের দাবি মেনে নেয়নি। সেই ব্যর্থতার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন নিষেধজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের তালিকায় একটি নতুন অধ্যায় যোগ করবে। তবে এতে ইরানের স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবস্থান পরিবর্তন হবে না।

মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক আগ্রাসন আলাদা কিছু নয়। তাদের মতে, দুটি একসাথে একই নীতির ভিন্ন রূপ। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এক দিকে সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ এবং নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশগুলোকে নিজেদের নীতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের নীতি বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং জাতিসংঘ সনদে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের যে নীতি রয়েছে, তা মেনে চলার দরকার দেশের। নতুন নিষেধাজ্ঞা এমন একটি দলীলের ধারাবাহিকতা বলেও সতর্ক করেছে ইরান, যা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে। এই নীতির পরিকল্পনাকারী এবং বাস্তবায়নকারীদের অবশ্যই তাদের কর্মকাণ্ডের ফলাফল ভোগ করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং অন্যান্য চাপ মোকাবিলা করে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তেহরান বলছে, ইরান গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, সামরিক হামলা এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবারও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরূপ কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় নিজেদের সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করবে ইরান। তাদের জাতীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইরান তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যাবে।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এবং কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণার পর ইরানের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা সরকারি সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশকেও ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানকে একটি চুক্তিতে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তেহরান সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ শুরু করার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন মার্কিন পদক্ষেপের আওতায় ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত লক্ষ্য করা হবে, যেমন তেল পাচারের নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন আড়াল করা কোম্পানি। ট্রাম্প এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আবারও জানিয়েছেন, যদি কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর, বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে সেই দেশকে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় থেকেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবাহিত হয়। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি এখনও খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর। তিনি বক্তব্য রেখেছেন যে, অনেক নৌযান এখনও প্রণালিটি ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ‘১০০ শতাংশ সফল’ হয়েছে। ট্রাম্প একইসাথে বলেছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র লাভের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেছেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’

আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়নে অগ্রগতি না হওয়ার কারণেই ইরানের সরকার সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ অভিধা দিয়ে এর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। তার মন্তব্যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বড় ধরনের ঋণ এবং দ্রুত বাড়তে থাকা সুদের ব্যয়ের মুখোমুখি। এই অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো খালি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিক থেকে নজর সরানোর চেষ্টা। আরাগচি বলেছেন, ব্যর্থ নীতিতে আরো খোঁটা দিলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও খারাপ হবে এবং ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাবে।

তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরান নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য भी হুমকি তৈরি করছে। এর আগে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি তেহরান পুনরায় খুলবে না। তাদের দাবিটি হলো যে, সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়ার যথাযথ ব্যবস্থা এবং দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার শিথিলকরণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%