বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১০ পি.এম
কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি) চলতি বছরের শেষের দিকে মিয়ানমারের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান এবং খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে, যা সামরিক শাসনের নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
শাসকগোষ্ঠীর গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিএফজির চেয়ারপারসন সংনিং শেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক সোমবার মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাসকগোষ্ঠী-নিযুক্ত তানিনথারি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী জাও নাইং উ। তারা ব্লক এম১৫-এ গ্যাস অনুসন্ধান এবং খনন নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন।
২০১৫ সালের মার্চে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমওজীর সঙ্গে পণ্য-আদান-প্রদান চুক্তির আওতায় তানিনথারি গভীর সমুদ্র অঞ্চলের ব্লক এম১৫-এর অনুসন্ধানের অধিকার পায়। সম্প্রতি, মিয়ানমার সরকার চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে, এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
গ্যাসক্ষেত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি তানিনথারি উপকূলের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ৯০ শতাংশ সম্ভাবনায় প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বড় এই গ্যাসের মজুদ আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারি উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের আশপাশে ব্লক এম১৫-এর মধ্যে রয়েছে, যা ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
২০১৭ সালের সিএফজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লক এম১৫-এ প্রতিষ্ঠানটির ৮০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। বিবিসি বার্মিজের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি মিয়ানমারকে যে রাজস্ব দিতে পারে, তা দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান হতে পারে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এমওজিই আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, কারণ এটি মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে যে এই অর্থ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, কানাডা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হলেও এমওজিইর ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা এখনও আরোপ করেনি।
অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ ২০২৩ সালে প্রথম কানাডা সরকারকে এমওজিইর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আহ্বান জানায়। ওই সময় একটি কানাডীয় কোম্পানি মিয়ানমারের একটি পৃথক অফশোর গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইএএস (ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা) বা আইপিএস (ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নতুন কর্মকর্তাদের মুখে প্রায়ই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার শোনা যায়। কিন্তু প্রশাসনিক পদে বসার পর সেই আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার বৈপরীত্য সাধারণ নাগরিককে চরম হতাশ করে। সম্প্রতি ছত্তিশগড় ক্যাডারের ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা রাহুল বনশলকে কেন্দ্র করে এমনই এক নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মাঠপর্যায়ের পোস্টিংতেই ১ কোটি রুপি ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে তার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিকালীন একটি মক ইন্টারভিউয়ের পুরোনো ভিডিও, যেখানে তাকে ৫০০ রুপির ঘুষ দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই মক ইন্টারভিউ ভিডিওতে রাহুল বনশলকে দুর্নীতি, সুশাসন এবং জনপ্রশাসনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রাঞ্জল বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সাক্ষাৎকার বোর্ডে নিজের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, যখন তার ভাই আইআইটি কানপুরের ছাত্র ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি গবেষণা নিবন্ধ উপস্থাপনের জন্য ভিসার আবেদনের কাজে জরুরি ভিত্তিতে একটি জন্মসনদের প্রয়োজন হয়। ওই নথিটি দ্রুত পাওয়ার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্মকর্তা তাদের কাছে ৫০০ রুপি ঘুষ দাবি করেন। ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে প্যানেলের সামনে বনশল বলেছিলেন, '৫০০ রুপি ঘুষ দেওয়ার সময় আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছিল।'
মক ইন্টারভিউবোর্ডে বনশল আরও বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরে দুর্নীতি ও অদক্ষতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও অল্প কিছু অসাধু কর্মকর্তার কাজের জন্য পুরো ব্যবস্থার সবাইকে বিচার করা অন্যায়। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সংস্কার এবং জনগণের কাছে আরও সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তবে বছর ঘুরে সেই বক্তব্যই এখন তার জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইপিএস পদে যোগ দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পরপরই নেটিজেনরা সেই পুরোনো ভিডিও ক্লিপটি সামনে নিয়ে আসেন। ৫০০ রুপির ঘুষে কষ্ট পাওয়া একজন মানুষ কীভাবে ১ কোটি রুপির দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তা নিয়ে নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ছত্তিশগড় ক্যাডারের এই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে বিবেচিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপি দুর্নীতির এই অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন এবং এটি আদালতে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হতে বাকি রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালে রূপ নেওয়া এই ভিডিও কর্মকর্তা ও আমলাদের নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং তরুণদের বলা আদর্শিক কথার সঙ্গে বাস্তব জীবনের ব্যবধানকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চলমান তদন্তের পাশাপাশি বনশলের নিজের মুখের সেই পুরোনো ভিডিও ক্লিপটি এখন গোটা বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ১৮ জন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিকবার রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। বর্তমান সময়ে সংসদ সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও ১৯৯১ সালের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সরাসরি জনগণের ভোটে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ২৫ মার্চ গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাই তার অনুপস্থিতিতে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বিচারপতি হওয়ার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন মোহাম্মদউল্লাহ, যিনি ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে অস্থায়ী থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে ২৭ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর তাকে প্রজাতন্ত্রের উপরাষ্ট্রপতি করা হয়।
শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৮৩ দিন রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন। তিনি ছিলেন অঘোষিত রাষ্ট্রপতি এবং নিজেই নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
খন্দকার মোশতাক আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে। ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের পর খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল এবং অভ্যুত্থানকারী কতিপয় সেনা অফিসারের অনুরোধে ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম কে দেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দিয়ে সারাদেশে সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। ৩০ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে তিনি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের হাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়ে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পদত্যাগের পর দেশের রাষ্ট্রপতি হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ব্রিগেড জেড ফোর্সের অধিনায়ক। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার বয়স তখন ছিল ৭৬ বছর। পরে তিনি ১৫ নভেম্বর ১৯৮১ সালের তারিখে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তাকে ক্ষমতা থেকে পদচ্যুত করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।
মাত্র কয়েকদিন পরে ২৭ মার্চ জেনারেল এরশাদ আ ফ ম আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত করেন। তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে এরশাদের চাপের ফলে পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন সামরিক শাসক এরশাদ।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং সামরিক শাসন জারীর মাধ্যমে দেশ শাসন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে সংসদ বাতিল করেন।
১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সব দল বয়কট করে। এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সব বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। আন্দোলনের মুখে এইচএম এরশাদ পদত্যাগ করার পর, ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ই অক্টোবর ১৯৯১ পর্যন্ত বাংলাদেশে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী রাজনৈতিক দল বিএনপির কাছে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করে আবার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফিরে যান।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। সে বছরের ৯ই অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আহমেদ।
জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রহমান বিশ্বাস মাঝের পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ষোড়শ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কয়েক মাস পর তিনি ৮ অক্টোবর তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করেন।
২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যিনি বি. চৌধুরী নামেই পরিচিত। ২১ জুন ২০০২ সালে এক বিতর্কিত ঘটনার জের ধরে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীকালে আরেকটি রাজনৈতিক দল বিকল্প ধারা বাংলাদেশ গঠন করেন।
বি. চৌধুরী পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন এবং দুই দফা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে তিনি ১১ জানুয়ারি ২০০৭ সালে উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে জিল্লুর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ১৬ জুলাই রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন। সেই সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে জিল্লুর রহমান দল পরিচালনা করেন।
সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিল্লুর রহমান ২০ মার্চ ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যুর ৬ দিন পূর্বেই ১৪ মার্চ, ২০১৩ তারিখে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে (২০ তম) দায়িত্ব গ্রহণ করেন তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। তিনি দ্বিতীয় বারের মত বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন
মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। বঙ্গভবনে ২৪ এপ্রিল ২০২৩ সালে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ব্যাপক চাপের মধ্য পড়েন এবং ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই তিনি পদত্যাগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি তার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এর আগে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি প্রধান প্রেসিডেনশিয়াল বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ না উঠে, বিমানবন্দরের ক্যাটারিং কনটেইনারের ভিতরে লুকিয়ে এক গোপন ছোট সামরিক বিমানটিতে চড়ে বসেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের অজান্তেই মূল বিমানটিকে ‘ডিকয়’ বা ফাঁদ হিসেবে আগে থেকে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
৮ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফ্লাইটের ঠিক আগমুহূর্তে বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া বা পর্দা টেনে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানাতে বলেন, ‘আমাদের যেসব শয়তানদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে কারণে আপনারা সম্ভবত বিপজ্জনক এক ফ্লাইটে আছেন।’
এরপর তিনি ঠাট্টা করে বলেন, ‘আমি গেলে তো আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো ভবিষ্যতে আপনারা পেশা বদল করার কথা ভাববেন।’
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি থেকে ট্রাম্পকে এভাবে গোপন কৌশলে অন্য বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্পের প্রেসিডেনশিয়াল বিমানটি লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ছিল। এছাড়া ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ (শোল্ডার-ফায়ারড মিসাইল) এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছিলেন বলেও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়ে জানান।
ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। বিমানটির সামনে এবং পেছনে হাইড্রোলিক লিফটে খাবারের কনটেইনার তোলা হচ্ছিল। বিমানে প্রবেশের পরপরই কৌশল বদলে ফেলেন ট্রাম্প। তিনি দ্রুত একটি কার্গো কনটেইনারের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং সেখান থেকে তাকে পাশের একটি ছোট বিমান বাহিনীর বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রেসিডেনশিয়াল বিমানের পৃথক অংশে থাকা প্রায় এক ডজন সাংবাদিক ট্রাম্পের এই বিমান বদলের খবর ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা ইরানের এই প্রত্যক্ষ হুমকির মধ্যে তারা ‘ডিকয়’ বিমানে করে তুরস্ক ত্যাগ করেন।
তবে সাংবাদিকদের চরম ঝুঁকিতে ফেলে আসার এই অভিযোগ কানেই তোলেননি ট্রাম্প। পরবর্তীতে এক মন্তব্যে পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি যে বিমানে ফিরেছি, সেটিতেই ঝুঁকি বেশি ছিল।’ তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে, নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি কোনো কিছু নিয়েই পরোয়া করি না। যা হওয়ার হবে!’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ