বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা এক মামলায় এক্সিম ব্যাংক ও নাসা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের জামিন আবেদন আদলত নামঞ্জুর করেছেন।
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই তারিখে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশটি কার্যকর করেন।
দুদকের পক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলামসহ অনেকেই তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে দুদকের পক্ষ থেকে তাদের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত বছরের ১৮ আগস্ট, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এর সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নজরুল ইসলাম মজুমদার তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে 'মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবৈধভাবে ঋণ অনুমোদন করেন। ওই ঋণের মাধ্যমে মোট ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সুপারিশ ও বোর্ড মেমোরের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনে এবং পরে অর্থ আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তারা ঋণপ্রস্তাব যাচাই-বাছাই না করে, জামানতবিহীন অবস্থায় ও নিয়মাবলী উপেক্ষা করে এই অর্থ ছাড় করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সেখানে বিভিন্ন ব্যানারে রাজনৈতিক স্লোগান এবং কয়েকজন জামায়াত নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলার ১১ নম্বর বড় মাছুয়া ইউনিয়নের হাইস্কুল সংলগ্ন জামায়াতের ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, আজ সকালে জামায়াতের ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে গাড়ির টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। পরে উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে হাতে লিখিত বিভিন্ন কাগজসহ যেসব ব্যানারে হুমকিমূলক ও আপত্তিকর লেখা দেখতে পান, তাতে তারা আতঙ্কিত হন।
নেতাকর্মীরা আরও একটি ব্যানারে দেখতে পান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এমন স্লোগান লেখা রয়েছে। এসময় সাবেক জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মেহেদী হাসান, যুব জামায়াতের সভাপতি রাকিব চাপরাশি ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুলকে উদ্দেশ্য করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম মন্তব্য করেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে পরিদর্শনের জন্য। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিক্ষা দূর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাকে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার ১৯ জুলাই লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে তদন্তে গিয়েছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই সময়, প্রধান শিক্ষক তার ভারাটে গুন্ডার মাধ্যমে তদন্ত কাজে বাধা প্রদান করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন অভিযোগকারীদের সাথে। এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে অনিয়মের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন জুনায়েত হোসেন খান। কলাপাড়ায় আদালতে এই ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের অর্থ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে কখনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি। শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে কর্কস আচরণের আভাস পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমনকি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে রাজনীতি ও সালিশ বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগের বড় পদের সদস্য বলে পরিচয় দেন।
স্থানীয় সমাজ সেবক আলাউদ্দিন তালুকদার, সাবেক অভিভাবক সদস্য সাহাবুদ্দিন হাওলাদার, অভিভাবক জহিরুল ইসলাম, শহিদ তালুকদার ও রবিউল জানান, অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক হয়ে নানা অনিয়ম-দূর্নীতি করেন জুনায়েত হোসেন। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করতে এলে প্রধান শিক্ষক তার ভারাটে গুন্ডা রিগান চৌকিদার, শহিদুল চৌকিদার ও অহিদুল চৌকিদার সহযোগী হয়ে তদন্ত কাজে বাধা প্রদান করে। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কাজ স্থগিত করে চলে যেতে বাধ্য হন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং খারাপ আচরণের বিচারের দাবি জানান তারা। লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে তদন্ত চলাকালে কয়েকজন এসে অভিযোগকারীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করে এবং প্রায়ই শোকাজের ভয় দেখান।
অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য সমবায় অফিসার, গন্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। এখানে যারা তর্ক করেছেন তাদের তিনি চেনেন না। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, যদি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে একটি বিরল প্রজাতির প্যারটফিশ (টিয়া মাছ) ধরা পড়েছে। এই মাছটির ওজন প্রায় ৭০০ গ্রাম, যা মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনার পর স্থানীয়রা দেখতে ভিড় জমায়। পরে নিলামের মাধ্যমে মাছটি ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে চরমোন্তাজ এলাকার ‘এফবি ভাই ভাই’ ট্রলারে ধরা পড়া মাছটি ফয়সাল ফিশ আড়তে আনা হয় মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। নিলামের মাধ্যমে এই মাছটি ৩ হাজার টাকায় আড়তের মালিক কিনে নেন। পরে বিক্রির জন্য বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
জানা গেছে, বাবুল মাতুব্বর মাঝির নেতৃত্বে ১৭ জন জেলে নিয়ে ট্রলারটি দুই দিন আগে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। জাল উত্তোলনের সময় ইলিশ, পোয়া ও অন্যান্য মাছের পাশাপাশি বিরল এই প্যারটফিশটিও ধরা পড়ে।
জেলে বাবুল মাতুব্বর বলেন, “রাতে জাল ফেলেছিলাম। পরে ইলিশ ও অন্য মাছের সঙ্গে এই মাছটিও উঠে আসে। আগে কখনও আমাদের জালে এমন মাছ ধরা পড়েনি।”
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয়দের বর্ণনা ও নমুনা অনুসারে এই মাছটি ব্লু-ব্যারিড প্যারটফিশ নয়; বরং এটি ‘ধোফার প্যারটফিশ’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্কারিডি পরিবারের এই সামুদ্রিক মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় বাস করে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের সন্ধান, প্রজনন কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে এই ধরনের মাছ গভীর সমুদ্রে চলে আসতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মাঝে-মধ্যে জেলের জালে এমন বিরল মাছ ধরা পড়ে।
তিনি আরও জানান, প্যারটফিশ প্রবালপ্রাচীরের ওপর জন্মানো শৈবাল খেয়ে প্রবালের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মাছ প্রবাল ক্ষয় করে সূক্ষ্ম বালু তৈরিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “ধোফার প্যারটফিশ বাংলাদেশের জলসীমায় অত্যন্ত বিরল। আমাদের উপকূলে এ প্রজাতির মাছ সচরাচর দেখা যায় না।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ